Logo
Logo
×

রাজনীতি

ওয়ার্ড রাজনীতিকে সস্তায় পরিণত করলেন আনোয়ার-খোকন

Icon

এম মাহমুদ

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০২ পিএম

ওয়ার্ড রাজনীতিকে সস্তায় পরিণত করলেন আনোয়ার-খোকন
Swapno

 

# আনোয়ার-খোকন কোঠায় বিতর্কিত পদের অযোগ্য নেতাদের ঠাঁই

 

 

ওয়ার্ড রাজনীতিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ নেতা হিসেবে বিবেচিত নেতাদের ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদের অযোগ্য নেতাদের এ সকল পদে পদায়নে ক্ষোভে ফুঁসছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতারা।

 

কারণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা তাদের পদাধিকার বলে তাদের পছন্দের নেতাদের মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন-সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা কোঠায় ভাগাভাগি করে ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ নির্ধারণ করছে। যার কারণে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ওয়ার্ডের পদ প্রত্যাশী নেতা থেকে ওয়ার্ড ভিত্তিক আওয়ামীলীগ নেতারা মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে।

 

ওয়ার্ডে নেতাদের ক্ষোভের আগুনকে আরো ত্বরান্বিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এরপরই ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাব্বির আহমেদ সাগরের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা মহানগরের কার্যালয়ে এসে তালা লাগিয়ে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

 

দলীয় সূত্র বলছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা মহানগর আওয়ামী লীগের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করেছেন। সেখানে বেশকয়েকটি ওয়ার্ডে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এই পদের অযোগ্য ওয়ার্ড রাজনীতিতে তৃতীয় শ্রেণীর নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে আনোয়ার-খোকনের পছন্দের নেতা হিসেবে পদায়ন করেছেন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

 

যাদের মধ্যে ১৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি সৈয়দ ওমর খালেদ এপন আনোয়ার হোসেন কোঠায় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় যার নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রশ্ন রয়েছে তাকে ১৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি করা হয়েছে। তার বাবা এক সময় শহর জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন কমান্ডর মহিউদ্দিন আহমেদ। ওমর খালেদ এপন ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পরবর্তীতে দলীয় কর্মকান্ডে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারায় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে দলীয় কোন পদ পদবী তাকে দেয়া হয়নি।

 

কিন্তু আনোয়ার হোসেন কোঠার সুবাদে ১৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি হয়ে যান এপন। তবে ১৬নং ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে শুধু ওয়ার্ডের নেতাদেরই ক্ষোভ নয় নারাণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়র ১৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এসে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ১৬নং ওয়ার্ডের নবাগত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ১৬ নং ওয়ার্ডে ছোট ভাই এপন আর চঞ্চলকে বানায় দিলো।

 

আমি এপন আর চঞ্চলের কথা বলবো না, কারণ ওরা ছোট ভাই। ওরাও নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু আনোয়ার কাকা প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে কমিটি দিয়েছেন দেওভোগ আওয়ামী লীগরে বুঝানোর জন্য যে, আমি যা চাই তা হইতে পারে এই কারণে তিনি এই দুইটা নাম ঘোষণা করে সকলকে অসম্মানিত করেছেন। আমাদের যেই পূর্বপুরুষরা দেওভোগকে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই পূর্বপুরুষদের তিনি অসম্মানিত করেছেন।

 

উনাকে আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে দেওভোগের মানুষ হিসেবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।’ ‘যাই হোক, এই কমিটি মানবো না। আনোয়ার কাকা ও খোকন সাহেব যদি ২০০৩ থেকে কন্টিনিউ করতে পারে তাহলে বর্তমানে যেই কমিটি আছে সেটাও কন্টিনিউ হবে’। ‘যারা নতুন কমিটির ওই ২ ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই আওয়ামী লীগ অফিসে আইসা কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করবেন না। অফিসে আসবে, বসবে, কথা বলবে সমস্যা নেই। কিন্তু বেয়াদবি চলবে না। যদি কেউ কমিটি নিয়া বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে তাহলে আমি ওইটা নিয়ে জবাব দিবো।’

 

এছাড়া ১৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক প্রতীক ঘোষাল পল যাকে ছাত্র রাজনীতি যুব রাজনীতি ওয়ার্ড রাজনীতিতে কখনোই সক্রিয় দেখা যায় নাই। কিন্তু রাজনীতিতে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসে ১৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদ ভাগিয়ে নেন আনোয়ার হোসেন কোঠায়। প্রতীক ঘোষাল পল ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত বাচ্চু ঘোষালের ছেলে। কিন্তু বাচ্চু ঘোষালও ছিলেন আনোয়ার হোসেনের অনুসারী।

 

যার কারণে বাবার অবর্তমানে ছেলেকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতেই আনোয়ার হোসেন ওয়ার্ড রাজনীতিতে শিশু তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত করেছেন ওয়ার্ড নেতাকর্মীদের অভিযোগ। অপরদিকে ২৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মাহবুবুর রহমান কমল ২৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাদক নিয়ে গ্রেফতার হওয়া সাইফউদ্দিন দুলালের অন্যতম সহযোগী। তাছাড়া দুলাল প্রধানের সকল অপকর্মের মূল সহায়ক ২৩ নং ওয়ার্ডের নবাগত সভাপতি মাহবুবুর রহমান কমল।

 

তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার পছন্দের নেতা হওয়ায় খোকন সাহা কোঠায় ২৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যান মাহবুবুর রহমান কমল। কিন্তু তিনি কোন ক্রমেই ২৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি পদে আসার মত যোগ্য নেতা নন। তার থেকে অধিক যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে মহানগরের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি করে বলেন উক্ত ওয়ার্ডের নেতা কর্মীদের অভিযোগ।

 

২৪ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জনি, বন্দর উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যকারী সদস্য ও কদম রসুল পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ওয়ার্ড সম্মেলনের সময় ২৪ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে যান। কিন্তু ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বে আসার মত নেতা না হওয়া সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার সুবাদে তার পছন্দের নেতা হিসেবে ২৪ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হয়ে যান।

 

এছাড়া ২৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি এড. মামুন সিরাজুল মজিদ যিনি ওয়ার্ড রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। আইনজীবী হিসেবে আওয়ামী আইনজীবী বিভিন্ন সংগঠন আইনজীবী সমিতিতে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ওয়ার্ড রাজনীতিতে ছিলেন একেবারেই নিষ্ক্রিয়।

 

তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অনুসারী হিসেবে আনোয়ার হোসেন স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ওয়ার্ড রাজনীতিতে সভাপতি পদে অযোগ্য নেতাকে সভাপতি করেন এমনটাই অভিমত করেছেন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। কারণ ২৭ নং ওয়ার্ডে এড. মামুন সিরাজুল মজিদের থেকে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা ওয়ার্ডের সভাপতি পদ প্রত্যাশী ছিলেন। এস.এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন