Logo
Logo
×

রাজনীতি

তোপের মুখে আনোয়ার-খোকন

Icon

এম মাহমুদ

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫৬ পিএম

তোপের মুখে আনোয়ার-খোকন
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ এই সংগঠনটির তাৎপর্য কতটুকু সেটা বুঝা যায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি যখন গঠন হয়েছিল। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল শাখা কমিটির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ব্যতিক্রম।

 

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের ছোয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা হওয়ার পর মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কোন সুফলই বয়ে আনতে পারেননি। উল্টো মহানগর আওয়ামী লীগকে মনগড়া ভাবে পরিচালিত করে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে তারাই নেতৃত্বে টিকে রয়েছেন। তবে তাদের মনগড়া নেতৃত্বের মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের উপর তেক্ত বিরক্ত হয়ে ফুঁসে উঠে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আনোয়ার সাহেব ও খোকন সাহার বাপের সম্পত্তি।

 

দলীয় সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা করা হয় আনোয়ার হোসেনকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে। ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৭১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করে দলটি।

 

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের মে মাস জুড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ওয়ার্ড কমিটি বাস্তবায়ন না হলেও ২০২২ সালের ২৫শে অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনও স্থান ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু ২৩শে ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করেন।

 

তিনি সেদিন বলেছিলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে ২৫শে অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হবে। সে কারণে ওই সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে দলীয় হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ ছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত ২৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিকে অগ্রসর হওয়া।

 

সে আলোকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তগত ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ওয়ার্ড সম্মেলন করতে গিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। কোন মতে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের সমাপ্তি এবং ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে এরমধ্যেও কয়েকটি ওয়ার্ডে করেছে অর্ধ কমিটি।

 

তবে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সমাপ্তি করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে এক পর্যায়ে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু করে দেন। এভাবে দীর্ঘদিন তাদের দ্বন্দ্বের অযুহাতে আটকে থাকে ওয়ার্ড কমিটিগুলো। কারণ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়হীনতার অভাবে ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠিত হচ্ছিল না।

 

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৮ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকগণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে ঢাকায় তলব করেন। মূলত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সার্বিক কার্যক্রমের অবস্থান সম্পর্কে জবাবদিহিতার জন্য তাদেরকে তলব করা হয়েছিল। শেষতক তাদের তলব হতে হয়নি এবং তলব থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।

 

কিন্তু তলব থেকে রেহাই পেয়ে আবার কেন্দ্রের চাপে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এক টেবিলে মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বসেন। তবে আবারও এক টেবিলে বসে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক রাজনীতি শুরু করলেও ওয়ার্ড কমিটিগুলো অনুমোদন দিতে পারেননি।

 

পরবর্তীতে গত ১০ ফেব্রেুয়ারি গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ফিরেই পরদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি প্রকাশ করেন হঠাৎ আচমকা। এরপর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কারণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে মনগড়া ভাবে তাদের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি করেন।

 

তবে তাদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে মহানগরের নেতারা সমালোচনা না করলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে করেন আর সেখানে ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে ক্ষোভের বহিঃবিকাশ ঘটিয়ে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ১৬ নং ওয়ার্ডে ছোট ভাই এপন আর চঞ্চলকে বানায় দিলো। আমি এপন আর চঞ্চলের কথা বলবো না, কারণ ওরা ছোট ভাই। ওরাও নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

 

কিন্তু আনোয়ার কাকা প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে কমিটি দিয়েছেন দেওভোগ আওয়ামী লীগরে বুঝানোর জন্য যে, আমি যা চাই তা হইতে পারে। এই কারণে তিনি এই দুইটা নাম ঘোষণা করে সকলকে অসম্মানিত করেছেন। আমাদের যেই পূর্বপুরুষরা দেওভোগকে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই পূর্বপুরুষদের তিনি অসম্মানিত করেছেন। উনাকে আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে দেওভোগের মানুষ হিসেবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।’

 

‘খোকন সাহেব ও আনেয়ার সাহেবের কমিটি আমার হাতে গড়া। যদি অস্বীকার করতে চায়, যদি তিনি মুসলমানের সন্তান হয়ে থাকে তাহলে এখানে এসে বলুক। আর খোকন সাহা যদি ধর্মে বিশ্বাস করে থাকে তাহলে সেও বলুক। সে তখন আমারে মা ডাকতো। সবাাই পূর্বের কথা ভুলে গেছেন। এখন আমার তাহলে আনোয়ার কাকা ও খোকন সাহেবের কাছে প্রশ্ন, ওই ৯টি ওয়ার্ড যদি তার নির্বাচনী এলাকা হয়ে থাকে তাহলে ২৭টি ওয়ার্ডই আমার নির্বাচনী এলাকা। কোন অধিকারে, কোন সাহসে আমাকে জিজ্ঞেস না করে আপনারা ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি দেন।

 

আমি ১৭টি ওয়ার্ডে পাল্টা কমিটি দিবো। ১৫নং ওয়ার্ডে কাজী সাহেব দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন, সেই লোকের জায়গায় ১২নং ওয়ার্ড থেকে এক লোকরে এনে ১৫নং ওয়ার্ডের কমিটি দিয়েছে। এগুলা কি ছেলে খেলা নাকি, এগুলা কি আনোয়ার সাহেব ও খোকন সাহার বাপের সম্পত্তি।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর দল। আমি শেখ হাসিনার একজন কর্মী।

 

২০০৩ থেকে আমি কখনও দলের কোনো ব্যাপারে কখনও মাথা ঘামায় নাই। আজকে বাধ্য হইছি। আমি তো আর শামীম ভাইয়ের মত বলতে পারবো না, আমার এলাকায় এটা করতে পারবেন না। কিন্তু আমার মতামত নিয়ে যদি না করে তাহলে আমি পাল্টা কমিটি দিবো। এটা আমার সোজা হিসাব।’

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়রের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটার পরই ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাব্বির আহমেদ সাগরের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে কার্যালয়ে এসে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তারা ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটি ভুয়া ও সেখানে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে নেতা-কর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন