মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বরাবরই দুই মেরুতে অবস্থান করেন। এই প্রতিষ্ঠিত সত্যটি নারায়ণগঞ্জবাসীর অজানা নয়।সম্প্রতি এই দুই নেতাকে একই মেরুতে অবস্থান নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা কর্মী। কি এমন জাদু-বলে ব্যাপারটি সম্ভব হলো? প্রশ্নটি সচেতন মহলের মনে জাগতেই পারে!
সম্প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি! এ বিপত্তি সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে নদীর পূর্ব পাড়স্হ নয়টি ওয়ার্ডে।পদ বঞ্চিত নেতাগণ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বন্দরে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে যেখানে উপস্থিত ছিল মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ,যুবলীগ নেতৃবৃন্দ সহ পদ বঞ্চিত নেতাগণ। যাদের অনেকেই আবার পূর্ববর্তী কমিটিতে পদে ছিলেন।
পদবঞ্চিত এসব নেতা কর্মীদের সবাই এলাকাতে আনোয়ার পন্থী এবং খোকন পন্থী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত পরিচিত। পদ বঞ্চিত হয়ে তারাই আনোয়ার হোসেনএবং খোকন সাহাকে একই মেরুর স্বার্থপর নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বন্দর এলাকায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। পদ বঞ্চিত নেতারা এমনও বলেছে শামীম ওসমান এবং আইভী ছাড়া তারা কারো কথাই শুনবে না। বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ এবং স্থানীয় রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনাই বটে!এতদিন যাবত এলাকাবাসী জেনে আসছে মহানগর আওয়ামী লীগে আনোয়ার হোসেনএবং খোকন সাহা পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থানে সব সময় অবস্থান করেন। ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কাউন্সিলে তাদের মতবিরোধের কারণে কমিটি ঘোষিত হয়নি; তাও এলাকাবাসী কম বেশি জানে।কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে। দুজনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগই থাকুক না কেন এ যাবৎকাল কেউ দুজনকে একই মেরুর বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করেনি।পক্ষান্তরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুজন নেতা শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াত আইভী কে ইন্দ্র করে গড়ে ওঠা দুটি বলয়ে সকল নেতাকর্মীই বিভক্ত ছিল।
আশ্চর্যজনকভাবে সেই দুজন নেতাকে নিজেদের নেতা বলে স্লোগান দেয়া হয়েছে।বলা হয়েছে যে তাদের কথা ছাড়া অন্য কারো কথা নেতাকর্মীরা শুনবে না। শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াত আইভীর যৌথ নেতৃত্ব নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে এতে কোন সন্দেহ নেই, সেই প্রত্যাশা থেকেই কি পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীদের এমন আহবান? আনোয়ার হোসেন এবং খোকন সাহা শীর্ষ দুটি পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও তাদের নিজস্ব জনভিত্তি প্রকৃত অর্থেই কতটুকু দৃঢ় তা ভেবে দেখার সময় এসেছে যার প্রমাণ সাম্প্রতিক এই প্রতিবাদ সভা। পদ বঞ্চিতদের দাবি যারা দলে পরীক্ষিত নয় এমন সব তথাকথিত নেতাকে পদ দেয়া হয়েছে অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য। পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দেয়া হয়েছে বলেও তাদের দাবি।
এমন দাবির স্বপক্ষে সত্যতা থাকলে তা দেখা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাংসদ শামীম ওসমান এবং সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর ওপর বর্তায় বলে রাজনীতি সচেতন মহল মনে করেন। প্রতিবাদ সভায় কি বলা হয়েছে কি বলা হয়নি তা বড় বিষয় নয় এর সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়াটাই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সাধারণ কর্মী সমর্থকগন শামীম ওসমান এবং আইভীকে এক মঞ্চে দেখতে চায় তারও একটা প্রমাণ পাওয়া গেছে বিগত সভাটিতে। সাধারণ নেতা কর্মীদের আহ্বান উপেক্ষা না করে শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াত আইভীর এক মঞ্চে এসে দলের যত বিভেদ যত বঞ্চনা সবকিছু সমাধান করা উচিত বলেই সচেতন মহলের ধারণা। লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। এন. হুসেইন রনী / জেসি


