Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজনীতিতে কোনঠাসা আনোয়ার হোসেন

Icon

এম মাহমুদ

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:১০ পিএম

রাজনীতিতে কোনঠাসা আনোয়ার হোসেন
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রচীততম দুই বলয় উত্তর বলয়-দক্ষিণ বলয়ের নেতাদের রাজনৈতিক গুরু বলা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে। তবে উত্তর বলয়-দক্ষিণ বলয়ের নেতারা গুরু হিসেবে মান্য করলেও তার একের পর স্বার্থলোভী কান্ডে শিষ্যদের তোপের মুখ পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার কারণে গুরুকে নিয়ে শিষ্যরা প্রায় সময়ই কট্টর সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না।

 

সম্প্রতি ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেন উত্তর বলয়-দক্ষিণ বলয়ের নেতারা। তাছাড়া উত্তর বলয়ের প্রধান সমন্বায়ক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আনোয়ার হোসেনের সমালোচনা করে ক্ষোভ জাড়েন। দক্ষিণ বলয়ের প্রধান সমন্বয়াক নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও তার তীব্র সমালোচনা করে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রাচীনতম দুই বলয়ই হারিয়ে রাজনীতিতে কোন ঠাসা আনোয়ার হোসেন।

 

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের এখন দলীয় এই পদটি ছাড়া জনপ্রতিনিধিত্বও নেই। কারণ ২০২২ সালেই জেলা পরিষদের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে রাজনৈতিক ভাবে ধুমড়ে মুচড়ে যান। এরপর মহানগরের অর্ন্তভুক্ত ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিয়ে সম্মেলনে মনযোগী হয়েও সম্মেলন শেষ করে কমিটিগুলো গঠনে ব্যস্ত না হয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে দৌড়যাপ করা শুরু করে দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

 

কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থীই দেয়া হয়নি। যার কারণে পূণরায় হোচট খান আনোয়ার হোসেন। কিন্তু নির্বাচনের মাসেক খানেক পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা থেকে ফিরে ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল কাঙ্খিত ১৭টি ওয়ার্ড কমিটি প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ। কমিটি প্রকাশের পর থেকেই ১৭টি ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়।

 

আর এই ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি নিয়ে প্রথমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেসময় তিনি আনোয়ার হোসেনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ১৭টি ওয়ার্ডে পাল্টা কমিটি করার হুক্কার দেন। এছাড়া মহানগরের দক্ষিণ বলয়ের নেতারা যারা আনোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক পথ চলার শক্তি ছিলেন তার আনোয়ার হোসেনের বিরোধীতা করে তার বিপক্ষে সমালোচনা করতে থাকেন। এছাড়া তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসে তালা লাগিয়ে দেন।

 

এর কিছুদিন পরই ১৭টি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কমিটি গঠনে আনোয়ার হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ১৮ ফেব্রুয়ারী রাইল ক্লাবে মতবিনিময় সভায় শামীম ওসমান বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমার সম্পর্কে বলেছেন যে কথায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশ করেছি। চন্দনশীলের জেলা পরিষদ কনফার্ম ছিল কিন্তু আনোয়ার ভাইকে সাপোর্ট করেছি। আমাকে ধমক দেওয়ার থাপ্পর দেওয়ার অধিকার তার আছে যেহেতু তার বড় ভাই।

 

আমি ভাইয়ার মৃত্যুর (২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমানের মৃত্যু) পর আনোয়ার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। বলেছিলাম আপনি নির্বাচনে আপনি সেলিম ভাইয়ের পক্ষে নামতে পারবেন না। নির্বাচনের পর যদি সেলিম ভাই জিতে তাহলে যেন আপনি আমার বড় ভাইয়ের (প্রয়াত নাসিম ওসমান) এর জায়গাটি পূরণ করে দেন। তাঁকে আমি সম্মান দিয়েছিলাম। বড় ভাই হিসেবে চেয়েছিলাম। কিছুদিন আগে ইলেকশনের আগে তিনি বলেছেন ওসমান পরিবার সন্ত্রাসী পরিবার। উনি আমাকে সন্ত্রাসী বলতে পারতেন কিন্তু তিনি পুরো ওসমান পরিবার নিয়ে কথা বলেছেন। আমার কলিজাটা ছিড়ে গেছে।

 

আমার বিরুদ্ধে যেই শক্তি যাই বলুক আমি যদি চাই পাল্টা জবাব দিতে তাহলে ৫ মিনিট লাগবে। সিটি মেয়র আইভীর পর সাংসদ শামীম ওসমানও তাকে তুলোধুনো করেছেন। এভাবে আওয়ামীলীগের প্রচীনতম দুবলয় উত্তর-দক্ষিণ বলয়ের সাথে বিরোধে জড়িয়ে রাজনীতিতে অনেকটা দৌলিয়া হওয়ার পথে চলে গিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ওয়ার্ডে নেতৃত্বে বেশকয়েকজন প্রতিষ্ঠা করা নেতা ছাড়া কেউ নেই তার পাশে অর্থাৎ রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন আনোয়ার হোসেন। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন