দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা দেশের সবচাইতে বড় বিরোধী দল বিএনপির টানা কঠোর আন্দোলনের চারমাস বা তার ও বেশি সময় অতিবাহিত হলে ও বিএনপির সকল দফায় দফায়কৃত আন্দোলনে ছিলো না কোন গতি। যাকে ঘিরে বিএনপির এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত ১৩ দফা অবরোধের একটির মধ্যে ও ছিলো না তাদের কোন ভূমিকা।
এদিকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় র্যালী ও ২৭ জানুয়ারি কালো পতাকা মিছিলে ঢাকায় দেখা গিয়েছিলো জেলা বিএনপিকে। সর্বশেষ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঘোষিত লিফলেট কর্মসূচি পালনে দেখা গিয়েছিলো অল্প কিছু সময়। এদিকে জেলা বিএনপির সম্মেলনের পর এখনো জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কোন কমিটি না থাকায় রাজপথের শক্তি দেখাতে ব্যর্থতার প্রমান দিয়েছেন জেলা বিএনপি।
তা ছাড়া ইউনিট কমিটি যোগ্য নেতাদের দিয়ে গঠিত হয়নি বলছে নেতাকর্মীরা যাকে ঘিরে আন্দোলনে অনেককমই দেখা গেছে ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীদের। জেলা বিএনপি রাজনৈতিকভাবে এতোটাই ধীরগতিতে পরিণত হয়েছে যে মাতৃভাষা দিবসে জেলা বিএনপি মামলা দোহাই দেখিয়ে শহীদদের স্মরণ করেনি। অপরদিকে তাদের বেশিরভাগ ইউনিটের নেতাকর্মীরা মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য ছিলেনই না।
জানা গেছে, রূপগঞ্জে কাউকে দেখা যায়নি মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বেদীতে পুপুষ্পস্তবক অর্পণ করতে। শুধু আড়াইহাজারে বিএনপির সহ-আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রাজপথে এসেছিলেন আর শহীদদের স্মরণ করেছিলেন। সোনারগাঁয়ে দেখা গেছি টুকটাক অপর দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের অবস্থা ও ছিলো রূপগঞ্জের মতনই। আর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরীর নেতৃত্বেই শুধু মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছিলো।
বর্তমানে জেলা বিএনপির প্রতি অসন্তোষ বিরাজমান করছে নেতাকর্মীরা। তারা প্রকাশ্যে এসে তাদের মনের ভাব প্রকাশ না করলে ও ঠিকই তারা কেউ কেউ ফেসবুকে বা কেউ কেউ তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। এ ছাড়া বর্তমানে দেখা গিছে আন্দোলন থেকেই জেলা বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনকে আগলে রেখেছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। আর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন মাঠে থাকা বা অনেকে কারবন্দি হয়ে নেতাকর্মীদেও খোঁজ খবর না নেওয়ার মতো নজির ও জন্ম দিয়ে গেছেন।
যাকে ঘিরে শোনা গেছে, অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মীদের মুখে মূল দলই কেউর খোঁজ রাখেনি আমরা তো অঙ্গসংগঠন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, জেলা বিএনপির নানা কর্মকান্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা আস্তে আস্তে হতাশার দিকে ঝুঁকছে। আর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে অসন্তোষের ছায়া নেমে আসা শুরু করে দিয়েছে।
সূত্র মতে, গেল ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ভোট-পরবর্তী নীরবে সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। ভোটের আগে দাবি আদায় নিয়ে হাঁকডাক দিলেও এখন রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচিতে ঢিলেঢালা দলটি। গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর ২৯ অক্টোবর থেকে দলটি চার দফা হরতাল ও ১৩ দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এরপর লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি দিয়ে আসছে দলটি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও কর্মসূচি দিয়েছিল দলটি। নির্বাচনের আগে ঢাকাসহ সারা দেশে মিছিল ও গণসংযোগ করে বিএনপি। পরবর্তীতে নির্বাচনের পর এই প্রথম কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে বিএনপি। এর আগে দীর্ঘদিন যাবৎ হরতাল-অবরোধ পালনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। রাজপথে সকলে জমায়েত হতে ও পারেননি। যার মূল কারণ হলো বিএনপি বর্তমানে কয়েকভাবে বিভক্ত হয়ে পরেছেন।
অপরদিকে জেলা বিএনপির রাজনীতি আংশিক কমিটি গঠনের পর যেমনটা ছিলো পরবর্তীতে সম্মেলনের পর থেকে জেলা বিএনপির রাজনীতি আন্দোলনের পরিমান ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে যা গত চারমাস যাবৎ পুরোই নিষ্ক্রিয় হয়ে পরেছেন। যাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের রাজনীতি ছন্নছাড়া হয়ে পরছেন আর ধেয়ে আসছেন হতাশা। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত সকল কর্মসূচির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে যে বিএনপির একটি দল রয়েছে তার জানিয়ে দিয়ে আসছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির দায়িত্ব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর হাতে দিয়ে সংগঠনটিকে আরো ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড় করাচ্ছে। তার নিজ নির্দেশনায় তার পালিত নেতাকর্মীরা রাজপথমুখী হচ্ছে না। যাকে ঘিরে বাকি নেতাকর্মীরা ও রাজপথ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। অপর দিকে তার সহযোগী গোলাম ফারুক খোকন জেলা বিএনপির রাজনীতিকে অঙ্গসংগঠনে রাজনীতির অনুকূলে নিয়ে গেছেন।
তা ছাড়া জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণার সময় যে ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো এদের মধ্যে সম্মেলনের পরেই অনেকে নিস্কিয় হয়ে পরেছেন। এদিকে জেলা বিএনপির সম্মেলনের আশায় বসে থাকা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী লুৎফর খোকাকে সকলেই ওয়ানম্যান শো নেতা হিসেবে চিনে থাকে আর এই খোকাকে এই চারমাস না জেলা বিএনপির সম্মেলনের পর থেকে আর রাজপথে দেখা যায়নি তাকে কিন্তু প্রার্থী হয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে যা অনেকেই হাস্যকর হিসেবেই দেখছেন।
তা ছাড়াও আরো অনেকে বর্তমানে জেলা বিএনপির বড় পরে আসতে চাইলে ও কোন ভূমিকা ছিলো না তাদের। সব মিলিয়ে বর্তমানে জেলা বিএনপির দুই নেতার আত্মগোপন থেকে কবে বেড়িয়ে আসবে, আর আবারো রাজপথে জেলা বিএনপির রাজনীতি চাঙ্গা হবে আর কবে জেলা বিএনপির পূর্নাঙ্গ কমিটি আসবে যেখানে যোগ্য নেতারা মূল্যায়িত হবে। এই সব নিয়ে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে অসন্তোষ বিরাজমান। এস.এ/জেসি


