# ১৭টি ওয়ার্ডে আনোয়ার-খোকনের কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি অনুমোদিত হওয়ার পর থেকেই অশান্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি। কারণ ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে কেউ কাউকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে আবার আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসেও তালা মারা হচ্ছে।
আর সেই তালা মারার কারণে মিলছে অব্যাহতি আর এই অব্যাহতির প্রতিবাদে ১৭টি ওয়ার্ডে মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার অনুমোদিত কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা এসেছে। যার কারণে মহানগরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি দ্বিখন্ডিত হওয়ার পথে। এতে করে সাংগঠনিক ভাবে হযবরল অবস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ।
সূত্র বলছে, প্রতিহিংসা পরায়ণ মনোভাব, পূর্বপুরুষদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) অসম্মানিত ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার অভিযোগে, আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দেয়া সেই সাব্বির আহম্মদ সাগরকে মহানগর কমিটি থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। একইভাবে, কেন সদস্য পদ বাতিল করা হইবে না, সেজন্য ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোন চিঠি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সাব্বির আহম্মদ সাগর।
তিনি জানান, মেয়র আইভী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে। সে আবার কিভাবে অন্যকে কমিটি থেকে অব্যহতি দেয়। দলীয় সূত্র বলছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন মহানগর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এ সময় মতবিনিময়র সভার পরপরই নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেলগেট এলাকার মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন, ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সাব্বির আহমেদ সাগরের নেতৃত্বে ওই ওয়ার্ডের পদবঞ্চিতরা। সেই সভায় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
কমিটি থেকে অব্যহতি দেয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার কার্যকরী কমিটির জরুরী সভা করি। সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ (এ) ধারায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ (এ) ধারায় সাব্বির আহম্মদ সাগরকে, কার্যকরী কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যহতি প্রদান করি।
এছাড়া তাকে প্রাথমিক সদস্য পদ কেন বাতিল করা হবে না সেজন্য ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে সাব্বির আহম্মদ সাগরকে অব্যাহতির প্রতিবাদে গতকাল ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করেন। সেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত ও সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ সাগরও বক্তব্য রেখে ১৭টি ওয়ার্ডে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার অনুমোদিত ওয়ার্ড কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ঘোষণা দেন।
১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত বলেন, গন্তব্য কোথায় জানি না কিন্তু মাঠে নেমে গেলাম। ১৬নং ওয়ার্ড নয় ১৭টি ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। আমি মহানগরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আপানারা ওয়াকিং কমিটি মিটিং ডেকেছেন আমি মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিত জানি না ওয়াকিং কমিটির মিটিং হয়েছে।
কিন্তু শুনতে পেরেছি প্রয়াত একে এম শামসুজ্জোহা সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলে যেসকল নেতাকর্মীরা এসেছিলেন অনেককে ডেকে ডেকে সেই রেখেছিলেন। সেই সই থেকে সাব্বির আহমেদ সাগরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সুবাদে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে যাব সাধারণ সম্পাদকের কাছে যাব পর্যায়ক্রমে সভানেত্রীর কাছেও যাব। আমারা ধৈর্য্যরে সাথে সকল কিছু মোকাবেলা করব কেউ কোন নেগেটিভ কাজে জড়াবেন না শুশৃঙ্খল ভাবে সবকিছু করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর আমাদের রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করায়া আমাদের খাটা খাটনি দিয়া আমাদের দিয়া রিস্কের কাজ করাইয়া এমনকি আপনার জন্য অনেকের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে এছাড়াও অনেক কথা যেগুলো বলতে পারি না। যাই হোক আমাদের প্রত্যেকটা ঘাম শ্রমের মূল্য দিতে হবে। পই পই করে হিসাব নেয়া হবে। যদি মনে করেন একটি চিঠির মধ্যে লিখিত দিয়ে সাব্বির আহমেদ সাগরকে অব্যাহতি দিলাম এখানে শেষ না। এখানে লড়াই শুরু হবে।
আমি দেওভোগের সন্তান আমার ভাই ব্রাদার এখানে ডাকলে ১০০ হয়ে যায়। এখানে আমি বাইরের লোক ডাকি নাই কিন্তু মনে রাখবেন আওয়ামী লীগ অফিস দুই নম্বর গেইট আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন গেড়াও করবে তখন কি হবে। কিন্তু আমরা সব সময়ই শান্তিময় রাজনীতি বিশ্বাস করি। যার কারণে এখনো ধৈর্যশীল আছি। কিন্তু যেভাবে ঘটনা ঘটাইছেন আপনারা এই দেওভোগের আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ার জন্য।
আপনারা সম্মেলন করেছেন এখানে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪জন ৫জন করে সেখানে কোন সমন্বয় হয় নাই ভোট হয় নাই বসে একটা কমিটি দিয়ে দিলেন। কিন্তু বলে দিলাম লড়াই কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছে এই লড়াই কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ কিন্তু বলতে পারবে না। ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভায় অব্যাহতি প্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ সাগর বক্তব্যে বলেন, শুনলাম আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আমি পার্টি অফিসে নাকি তালা মেরেছি।
আমিত পার্টি অফিসে তালা মারিনি আমি তালা মেরেছি আনোয়ার হোসেনের কার্যালয়ে। ওইটা পার্টি অফিস না আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় যেখানে সে চা খায় ওই অফিসে তালা মেরেছি। আমি পার্টি অফিসে তালা মারি নাই সেটা ভুল বলা হয়েছে জানানো হয়েছে। কিন্তু তালা মেরেছি আনোয়ার হোসেনের অফিসে এই আনোয়ার হোসেন আমাদের পূর্ব পুরুষদের অপমান করেছে যারা ১৬নং ওয়ার্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাদের পরিবর্তে ছিচকে লোকদের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইভী আপাকে অপমান করেছে এই কমিটির মাধ্যমে আনোয়ার-খোকন সাহা। আজকে আমাকে তাড়া অব্যাহতি দিয়েছে এই লড়াই শুরু এই লড়াই চলবে। তারা আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে কিসের মাধ্যমে আমি নিজেও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য আমাকে কেউ একটা চিঠিও দেয়নি ফোনও দেয়নি। তাছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের আরোও যারা আছে তাদেরকে বলাও হয়নি জানানোও হয়নি। তাহলে কিসের অব্যাহতি দেয়া হল।
আমরা তো জানতাম প্রয়াত একে এম শামসুজ্জোহা সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ছিল ওইদিন কি তারা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছিল নাকি তারা এই কাজ করেছিল কোনটা করেছে সেটা আমি জানি না। তাহলে কি তারা রাতের অন্ধকারে অব্যাহতি দিল। আজকে থেকে আনোয়ার-খোকন সাহার বিরুদ্ধে এই লড়াই শুরু হল ১৭টি ওয়ার্ডে লড়াই হবে। আজকে এখান থেকে লড়াই শুরু হল। এস.এ/জেসি


