# হাই-বাদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগ
# হাই-বাদলের নেতৃত্বে পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিয়েই দায়সারা
নানা জল্পনা কল্পনা বিতর্ক থাকারও শর্ত সাপেক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে পুনরায় বহাল রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কমিটি অনুমোদন দেন।
কিন্তু কমিটি অনুমোদনের সময় নির্দেশনা ছিল ১ মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার গড়িমসির ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস পর পৃথকভাবে হাই-বাদল দুটি প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা দিলেও সে জায়গায় জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদনের ১৬ মাস অতিক্রম করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে আনতে পারেনি জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।
এর আগের কমিটিতেও সভাপতি পদে আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হাসনাত শহীদ বাদল জেলা কমিটিতে বহাল থাকলেও ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু পূণরায়ও নেতৃত্বে এসে দীর্ঘসময় অতিক্রম করে প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিয়েই দায়সারা ভাবে থেকে জেলা আওয়ামী লীগকে কৌশলে হাই-বাদল তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ ২৫ বছর পর গত বছরের ২৩শে অক্টোবর ওসমানী স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি সহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। সে সময় সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের ২য় বারের মতো আবদুল হাইকে সভাপতি ও আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করেন।
কিন্তু নিজেদের মধ্যে মত পার্থক্য ও নানাবিধ সমস্যার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথক পৃথকভাবে ৭৫ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করে কেন্দ্রে কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু সে কমিটি অনুমোদন না হওয়াতে গত ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সমাবেশের এক পর্যায়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কাছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কমিটি গুলো দেয়ার অনুরোধ জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এরই প্রেক্ষিতে মঞ্চে উপস্থিত আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে কমিটি গুলো দ্রুত দেয়ার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর পরবর্তীতে আসন্ন নির্বাচন, দলীয় কোন্দল ও বিভিন্ন কমিটি গঠনসহ নানান বিষয় নিয়ে ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর নারায়য়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সে বর্ধিত সভায় দলটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম উপস্থিত ছিলেন সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের দাবি জানান। কিন্তু সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিটি অনুমোদন না দিলেও ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বর্ধিত সভার আয়োজন করেন। সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে সেই বর্ধিত সভা থেকে ফিরে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের অন্তর্ভুক্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে কমিটি অনুমোদন দিলেও অদৃশ্য কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ১৬ মাসেও অনুমোদন মেলেনি। এস.এ/জেসি


