Logo
Logo
×

রাজনীতি

পাঁচ আসনে নৌকার প্রার্থী না পাওয়ায় ভিপি বাদলের কষ্ট

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫৭ পিএম

পাঁচ আসনে নৌকার প্রার্থী না পাওয়ায় ভিপি বাদলের কষ্ট
Swapno

 

দীর্ঘ দিন যাবৎ নৌকার দাবী জানিয়ে আসলেও গত মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এবারও আওয়ামী লীগ থেকে কোনো প্রার্থী না দেয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার মনে কষ্ট পেয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা মনে করছেন জাতীয় রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির বেশ কদর রয়েছে।

 

কিন্তু নির্বাচনের সময় এখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো পাত্তাই দেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দরবাসীর এই আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে সবসময়ই অবহেলিত থাকে বলে মনে করেন তারা। তারই চিত্রের কথা তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি।

 

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আাবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল নৌকা না পেয়ে নিজের ব্যথার কথা তুলেন ধরে বলেন, আমরা যদি বক্তৃতার মঞ্চে বড় বড় কথা বলি আর বাহিরে গিয়ে তা কাজের সাথে মিল না থাকে তাহলে সেই বক্তব্য অনর্থক রয়ে যায়। আমি প্রায় খোলা মেলা কথা বলে থাকি এজন্য আমাকে মাফ করে দিবেন।

 

আমি গত কয়েক দিন আগে শামসুজ্জোহার মৃত্যু বার্ষিকীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার মাগফেরাত কামনা করে এক পর্যায়ে বলি কি অপরাধে নারায়ণগঞ্জের ৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া হয় নাই। কে কি বলে না বলে তাতে আমার কোন আসে যায় না। কিন্তু এটা আমার মনের ব্যাথা, তাই আমি বল্লাম।

 

অপরদিকে জানা যায়, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকায় প্রার্থী দেওয়ার দাবি ওঠে। ২০১৮ সনের পর থেকে সেই দাবী আরও জোরালো ভাবে জানানো হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী তুলেন। কিন্তু ৫টি আসনের মাঝে ৪টি আসনে নৌকা পেলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার কোনর প্রার্থী দেয়া হয় নাই।

 

তাই প্রশ্ন উঠেছে এই আসনে কি নৌকার যোগ্য প্রার্থী নাই। নাকি জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দেয়ার জন্য এখানে প্রার্থী দেয়া হয় নাই। কেননা এই আসনে ২০১৪ সন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে সেলিম ওসমান। ২০১৮ সনের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের ছয়জন প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন চাইলেও তাদের কাউকে দেয়া হয় নাই।

 

তার মাঝে এবারের দ্বাদশ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ছিলেন তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল), মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত ও মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল।

 

স্থানীয় রাজনীতিকদের মতে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানকে সুবিধা দিতেই আওয়ামী লীগ এই আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে এবারের নির্বাচনে নিজ দলীয় প্রতিদ্বন্ধীসহ সব আসনেই আওয়ামী লীগের শক্তিশালী নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উৎসাহিত করা হয়।

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাওয়া এই নেতারা কেউ সেই সুযোগ নিতেও সাহস করেননি। যদিও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা বরাবরই বলে থাকেন, আওয়ামী লীগের জন্মস্থান এই নারায়ণগঞ্জ। সেই নারায়ণগঞ্জের এই আসনে বিগত ৩৭ বছরের মধ্যে মাত্র একবার নৌকা বিজয়ী হয়েছে। এবার নৌকায় কোনো প্রার্থীই নেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। ফলে এই আসনে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

 

দলীয় সুত্রমতে, দেশ স্বাধীন হওয়ার অর্ধশতাব্দীর ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জ সদর বন্দরের এই আসনে মাত্র দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগের জন্য খুবই হতাশাব্যাঞ্জক বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পরিবারখ্যাত ওসমান পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্য এ কে এম শামসুজ্জোহার হাত ধরে ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

 

এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালে এই আসনে নৌকা নিয়ে বিজয়ী হন। পরে এখানকার আওয়ামী লীগের ভাগ্যে আসনটি জয় করা আর সম্ভব হয়নি। অথচ ১৯৯৬ সালের পর আওয়ামী লীগ চারবার ক্ষমতায় আসে। তবে এখানে নৌকার প্রার্থী পান নাই। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন এলেই নৌকার দাবী জানিয়ে আসলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা কেন্দ্রের কাছে কোনো পাত্তা পান না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অভিযোগ, যেহেতু এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তাই আওয়ামী লীগ নেতাদের সুযোগ ছিল এবার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা। এখানকার নতুন প্রজন্মের কারও এখনও নৌকা প্রতীকের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।

 

তাই এবারের নির্বাচনে একজনও যদি সাহস করে আওয়ামী লীগের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিত, তবে এই আসনের অবহেলিত ও নিষ্পেষিত আওয়ামী লীগের কর্মীসহ নতুন প্রজন্ম নৌকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেত বলে মনে করেন তারা। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন