Logo
Logo
×

রাজনীতি

মতবিরোধের জেরে ছাত্রদল সভাপতি-সেক্রেটারির সংঘর্ষ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:১৩ পিএম

মতবিরোধের জেরে ছাত্রদল সভাপতি-সেক্রেটারির সংঘর্ষ
Swapno

 

# সভাপতির ফিল্ম স্টাইলে ছুরি নিয়ে তেড়ে যাওয়ার ছবি ভাইরাল

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আওতাধীন সদর থানা ছাত্রদলের ওয়ার্ড কমিটি গঠনে মত বিরোধের জেরে গতকাল সদর থানাস্থ গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রবিন সরকার পায়েল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক প্রধানের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে যা নিয়ে বর্তমানে পুরো জেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রবিন সরকার পায়েল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক প্রধানের বন্ধু প্রিয়াস।

 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎই ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে সভাপতি পায়েল ও সাধারণ সম্পাদক অনিকের মধ্যে নানা মত বিরোধ শুরু হয় যা নিয়ে কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য নন। দুইজন মিলে আলাদা আলাদাভাবে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পায়তারা শুরু করেছিলেন। এমতাবস্থায় সংগঠনে দূর্নাম ছড়িয়ে পরবে এই দিকে লক্ষ্যে রেখে গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারী মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতা সদর ছাত্রদলের এই দুই নেতাকে নিয়ে একটি মতবিনিময় হয়।

 

সেখানে তারা দুইজন ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই সেই মিটিং থেকে বেড়িয়ে আবারো পুরনো রূপে তাদের বিরোধী শুরু হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এক কথা দুই কথার এক পর্যায়ে দুই জন তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পরেন। সে সময় হঠাৎ সাধারণ সম্পাদক অনিক সভাপতি পায়েলকে ধমক দেয় বলে আস্তে কথা বল। সে সময় দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে চলে গেলে পায়েল অনিককে বলেন তুই দাঁড়া আমি আসতাছি পরবর্তীতে পায়েল তার বলয়ের লোক ও হাতে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে অনিকের উপরে তেড়ে যায়।

 

আর অনিকের উপরে ঝাঁপিয়ে পরে আর কিল, ঘুষি দিতে থাকে সে সময় অনিক ও পায়েলকে কিল, ঘুষি দিতে থাকে। এমতাবস্থায় পায়েল তারই সেক্রেটারি অনিককে ছুরির আঘাত করতে চাইলে তখনই সামনে অনিকের বন্ধু প্রিয়াস সামনে চলে আসে আর তার পেটে ও পিঠে ছুরির আঘাত লাগে। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ দেখলেই সাথে সাথে সভাপতি পায়েল দৌঁড় দেয় সে সময় এলাকাবাসী অনেকেই পায়েলের উপরে তেড়ে আসে আর অনিক ও এলাকাবাসী অনেকেই পায়েলের উপরে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে।

 

সেই ইটের ঢিল পায়েলের মাথায় লাগলেই সাথে সাথে উনি মাটিতে লুটিয়ে পরে পরবর্তীতে একজনকে খানপুর ও রবিনকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে দুইজনের অবস্থা ভালো থাকায় রাতেই তাদের বাসায় নিয়ে আসে তাদের পরিবার। এদিকে ঘটনার বেশ কিছু ঘন্টা পার হলে ও এখনো দুই পক্ষকে নিয়ে মহানগর বিএনপি বা মহানগর ছাত্রদল কোন প্রকারের পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা যায়। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে বাড়ছে ক্ষোভ।

 

সূত্র মতে জানা গেছে, গত বছরের ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় যেখানে সভাপতি করা হয় রবিন সরকার পায়েল ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় অনিক হোসেনকে। তার পর কয়েকদিন মহানগর ছাত্রদলের সাথে এই থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ মনোভাব দেখালে ও কিছুদিন পর থেকেই দুইজন নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরে। যা নিয়ে সদরের ছাত্র রাজনীতি সৃষ্টি হয় একটি মত বিরোধ।

 

অপরদিকে বর্তমানে সিনিয়র সহ-সভাপতি জিহাদ সহ কমিটিতে থাকা আরো বাকিরা অনেকেই এই কমিটিকে গ্রহনযোগ্য হিসেবে নেয়নি। তা ছাড়া সদর থানা ছাত্রদলে বিগত দিন থেকেই সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির খানের একটি বলয় সব সময় নানা বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যেখানে রয়েছেন জাকির খানের চাচাতো ভাই সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিংরাজ খান। তা ছাড়াও আরেক ভাই লিংকন খান ও কিন্তু তাদের কোনভাবেই মূল্যায়ন না করে এই কমিটি গঠনে সদরে বহুদিন ধরেই একটি ক্ষোভ বিরাজমান।

 

এদিকে মহানগর ছাত্রদলের বিরোধী করছে সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সিমান্ত সব মিলেই এই সদর থানা ছাত্রদলের কমিটিকে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিগত দিন থেকেই কেউ দেখতে পারছে না। আর গতকালকে ওয়ার্ড কমিটি বিষয়ে থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে শহরে প্রকাশ্যে সংঘর্ষতায় অনেকটাই ছন্নছাড়া বানিয়ে দিয়েছেন এই সদর থানা ছাত্রদলের রাজনীতিকে।

 

তা ছাড়া এই সংঘর্ষে যাতে কোন পক্ষের পরিবার কোন প্রকারের থানার মামলায় না যায় এ নিয়ে ও চলছে পরিবারের লোকদের সাথে নেতাকর্মীদের ফোন আলাপের বৈঠক। এদিকে বর্তমানে সভাপতির উপরেই ক্ষেপে আছেন সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কারণ সকলের দাবি, নিজেদের মধ্যে সমস্যায় প্রকাশ্যে ফিল্ম স্টাইলে ছুরি নিয়ে আসার বিষয়টা পুরো বিধিলঙ্গন করেছেন তিনি।

 

এ বিষয়ে পরবর্তীতে আপডেট বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিক বার কল কলে ও তার ফোনে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন