কবে হবে মাদক-সন্ত্রাস-ভূমিদস্যু দমন কমিটি?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
# শামীম ওসমান প্রত্যাশা নামক যে সংগঠনের কথা বলেছেন কোথাও তেমন কোনো তৎপরতা নেই
# নির্বাচন এলেই তিনি নিজের এলাকাকে নতুন বউয়ের মতো সাজানোর ঘোষনা দেন, পরে ভুলে যান
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান রীতিমতো ডাক-ঢোল পিটিয়ে ঘোষনা করেছেন যে তিনি নারায়ণগঞ্জকে মাদক মুক্ত করবেন। গত ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে তিনি যখন নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন তখন তিনি বেশ জোর দিয়ে বলেছিলেন যেকোনো মূল্যে তিনি তার এলাকাকাকে মাদক, সন্ত্রাস, ভূমি দস্যু মুক্ত করবেন।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই ঘোষনাও দেন যে তিনি ‘প্রত্যাশা’ নমাক একটি সংগঠন গড়ে তুলবেন এবং প্রত্যাশা এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গত ২৭ জানুয়ারী তিনি ওসমানী স্ট্যাডিয়ামে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বিশাল সোডাউন করেন এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ১০০০ সদস্যের করে কমিটি করার ঘোষনা দেন।
কিন্তু এরপর আর তাকে এ বিষয়ে কোনো রকম তৎপরতা দেখাতে দেখা যায়নি। বর্তমানে তিনি দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। পরিবার নিয়ে বিভিন্ন দেশ ভ্রমন কওে বেড়াচ্ছেন। আর এদিকে বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী মনে করছেন শামীম ওসমান এমপি এবারও জনগনের সাথে রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজী করেছেন। বাস্তবতা হলো এ ব্যাপারে তিনি মোটেও আন্তরিক নন।
যার ফলে যা হবার তাই হয়েছে , আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। শামীম ওসমানের সন্ত্রাস বিরোধী সভার পর বিগত এক মাসের অধিক সময় ধরে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে সন্ত্রাস আরো বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিন প্রতিটি মহল্লায় একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। কারন সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীরা জানেন তিনি মাঝে মাঝেই এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
যেমন নির্বাচন এলেই তিনি বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে নারায়ণগঞ্জকে নতুন বউয়ের মতো করে সাজাবো”। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটা। নর্বাচিত হওয়ার পর তিনি আর এলাকাবাসীর কোনো খোঁজ খবর রাখেননা। এবারও তাই হয়েছে। নির্বাচন শেষ আর লাপাত্তা শামীম ওসমান। তিনি এখন দেশবিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বেঁেচ থাকলে হয়তো পাঁচ বছর পর আবার তার দেখা পাবে তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাধারন মানুষের সাথে আলাপ কালে তারাও একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। তাদেও একজন মন্তব্য করেন প্রত্যাশার আশা জাগিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন আমাদের এমপি শামীম ওসমান। আমরা আশা করেছিলাম এবার তিনি একটা কিছু করবেন। কারন তারওতো বয়স হয়েছে। বাঁচবেন আর কতোদিন। জনগনের জন্য কাজ করার এটাই হয়তো তার জন্য শেষ সুযোগ ছিলো।
কিন্তু মনে হচ্ছে তিনি এবারও কিছুই করবেন না। তিনি আরো বলেন আমরা যতোদূর জানি নারায়ণগঞ্জ জেলার মাঝে সবচেয়ে অবহেলিত ফতুল্লা থানা এলাকা। একদিকে রাস্তাঘাটের তেমন কোনো উন্নয়ন হয় নাই। অনেক এলাকায় সারা বছর জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। তার উপর সন্ত্রাস চাঁদাবাজীতেও অত্র এলাকা চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু মানুষের দুর্দশা লাগবে শামীম ওসমানের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আমার মনে হয় আমাদের কপালে আরো দু:খ আছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


