Logo
Logo
×

রাজনীতি

বহিষ্কৃত মুকুল বিএনপি ছেড়ে থাবা দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাচনে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম

বহিষ্কৃত মুকুল বিএনপি ছেড়ে থাবা দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাচনে
Swapno

 

# মুকুলে ক্ষোভ বাড়ছে তার বলয়ের নেতাদের

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আওতাধীন বন্দরের জালাল হাজী পরিবারের সদস্য মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা আতাউর রহমান মুকুল নানাভাবে কৌশলে নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের এক বক্তব্যে তিনি পদ হারিয়ে বর্তমানে রাজনীতির বাহিরে অবস্থান করছেন। যাকে ঘিরে বিএনপির নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বে ও এই বিএনপি নেতা মুকুল বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হতে মরয়া হয়ে উঠেছেন।

 

তা ছাড়া এই মুকুল মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে তিনি আহ্বায়ক বা সভাপতি হতে চেয়েছিলেন যা নিয়ে বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে দফায় দফায় ৩ বার মহা-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এই কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ও কোন মূল্যায়ন পায়নি এই আতাউর রহমান মুকুল। তার বিরুদ্ধে যেন বন্দরসহ সারা জেলায় ভূড়ি ভূড়ি অভিযোগ নানা অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়া সেই বিতর্কিত মুকুল আবারো গর্জে উঠার অপেক্ষায় সেই পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর উপজেলার কান্ডারী হতে সেলিম ওসমানকে নানা তেল দিয়ে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

 

সূত্র মতে, গত ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠনের পূর্বে তিনি ছিলেন বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এরপরও ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় স্থায়ী এমপির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। আর এর আগে তিনি ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকারকে গোপনে গোপনে সমর্থন করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেননি।

 

আর বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তৈমূর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়। তবে সেই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে বন্দর এলাকায় পুরোপুরি সাপোর্ট দিয়ে নিজেও প্রচারনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে দলীয় কোনো মিটিং কিংবা মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনি।

 

বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে বেশী দেখা যায়। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে গিয়ে নৌকার ফুলের তোড়া উপহার নিয়েছিল তিনি। এমনকি একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে গালমন্দ করলেও মুকুল কোনো প্রতিবাদ করেনি। সেই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

 

পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ ও সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমানের পক্ষে সরাসরি বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পক্ষে না থেকে সেলিম ওসমানের পক্ষে সরাসরি ভোট প্রার্থনা করেন। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি বর্জন করলেও মুকুল তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সেলিম ওসমানের পক্ষ সরাসরি ভোট চায়। এরপর তাকে বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়।

 

এদিকে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও বিএনপির স্থায়ী নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়েই উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল জানিয়েছেন। যদিও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা তো দূরের কথা সাধারণ জনগণকে আতাউর রহমান মুকুলকে সমর্থন দিবে না।

 

কারণ বিএনপির বিগত আন্দোলন সংগ্রামের মামলা ও নির্যাতনের সময়ে মুকুল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। আন্দোলন সংগ্রাম না করার জন্য বারণ করেন। যারা তার কথা শুনেনি সেই সকল বিএনপির নেতাকর্মীদের বেছে বেছে মামলা ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

বর্তমানে বন্দরে এই মুকলের পাশে নেই কোন বিএনপির নেতাকর্মী যারা রয়েছে তারা সকলেই বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাথে সখ্যতা তৈরি করছেন। তা ছাড়া এই মুকুল মহানগর বিএনপির নেতাদের যেভাবে বুঝিয়ে তার দলে নিয়ে এসেছে তারা ও বর্তমানে মুকলে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন। তারা ও যে কোন সময় মুকুলকে ছেড়ে জাকির ও নুরুদ্দিনের মতো আবারো যুক্ত হতে পারে মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথেই এমন আভাস রয়েছে চারদিকে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন