Logo
Logo
×

রাজনীতি

হাসপাতাল ক্লিনিকের দালাল নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন আ.লীগ সেক্রেটারি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম

হাসপাতাল ক্লিনিকের দালাল নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন আ.লীগ সেক্রেটারি
Swapno

 

শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও নগরীর সজেনারেল ভিক্টোরিয়া হাপাতাল ঘিরে অন্তত ডজন খানেক দালাল চক্র সক্রিয় আছে। দুটি হাসপাতালে ডাক্তারদের রুমের সামনে শহরে গড়ে উঠে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লিনিক কর্তৃক নিয়োগকৃত লোক দাঁড়িয়ে থাকে। যাদেরকে সেবা নিতে আসা রোগীরা দালাল বলে থাকেন। কেননা তারা হসপিটাল কর্তৃক নিয়োগকৃত না। দীর্ঘদিন ধরেই এসব দালালের হাতে জিম্মি রোগী ও তাদের স্বজনরা।

 

এসব দালালের উৎপাতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। তাছাড়া দুই হাসপাতাল ঘিরে ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা আধিপত্য তৈরী করে দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাই এবার এই দালাল সিন্ডিকেট ও নিয়োগকৃত দালালদের নিয়ে ক্ষোভ ঝারলেন জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল। তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করায় তাকে সকলের ভিপি বাদল বলেই ডাকেন। দালালদের নিয়ে তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

এদিকে জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ ভাষন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি চিকিৎসা ব্যবস্থা ও দালাল প্রসঙ্গে ভিপি বাদল বলেন, পিজি হাসপাতালে যান দেখবেন দালালের অভাব নেই। নারায়ণগঞ্জের পপুলার হসপিটালে বিকেলে যান দেখবেন রোগীর বাজার আর বাজার। চিকিৎসার বাজার। খানপুর এবং ভিক্টোরিয়া গিয়ে দেখেন দালালে ভরা। চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ কষ্ট পায়। পিজি হাসাপাতালের বিকেলে যাইবেন দালালে ভর্তি। ডাক্তাররা বসে রোগী দেখে ১’শ থেকে দেড়’শ। এই ভাবে প্রতিদিনর দেড় লাখ টাকা আর মাসে দেড় কোটি টাকা কামিয়ে নেন।

 

এ সময় আরেক নেতা বলেন, ডাক্তাররা রোগী না দেখে বর্তমানে ঔষধ কোম্পানির লোকদের নিয়ে আড্ডা করেন। ঔষধ কোম্পানির মাধ্যমে তারা কমিশন বানিজ্য মেতে উঠেন। তিনি আরও বলেন, যে ঔষধ ২১শ’ টাকা ছিল সেই ঔষধ এখন ২৪শ’ টাকা হয়ে গেছে। আর ২৪শ’ টাকার ঔষধ ৩ হাজার হয়েছে। মানুষ যাবে কোথায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।   

 

অপরদিকে ভুক্তভোগিদের থেকে অভিযোগ উঠে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে দালাল চক্র। বিভিন্ন সময় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমান আদালত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিলেও দালালদের থামাতে পারে নাই।

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ খানপুর ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের রোগীরা দালাল চক্রের কাছে জিম্মি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে একাধিক নারী-পুরুষ (দালাল) রোগী ভাগিয়ে নিতে তৎপর থাকে। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীরা একাধিক চক্র গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করছেন রোগীরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের সামনে ও আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে ২০ থেকে ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসকও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পাঠাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রোগীরা বাধ্য হয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটছেন। এছাড়া গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে চিকিৎসার নামে কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে কতিপয় ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।

 

হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও দালালদের কমিশন বাণিজ্যের কারণে জমজমাট হয়ে উঠেছে ক্লিনিক ও প্যাথলজি ব্যবসা। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র ধরিয়ে দিচ্ছে ডাক্তাররা। এমনকি বলে দেওয়া হচ্ছে, কোন প্রতিষ্ঠানে এসব পরীক্ষা করাতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে চিকিৎসকরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ উঠে। তাই রোগীরা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

পরিচয় দিতে অনীহা প্রকাশ করে একজন জানান, অবসর প্রাপ্ত ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের চিহ্নিত দালাল হারুন। এই দালাল হারুন ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের ফার্মেসী বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রাজিয়ার স্বামী। এছাড়া দালাল হারুনের মেয়ে নাসরিন সুলতানা মুক্তাকে দুর্নীতির অভিযোগে খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল থেকে বদলি করে ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

 

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এই মুক্তার মালিকানাধীন গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে যান তারই পিতা দালাল হারুন। তাছাড়া দালাল চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন রবি, বাদল, তসলিমা, রাজিয়া, ফয়েজ মুস্তাফিজসহ বেশ কয়েকজন দালালের নাম উঠে আসে। এরকম ভাবে শহরের প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের টেনে দালালরা তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। আর এই ভাবে সেবার নামে মানুষদের থেকে তারা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নেন বলে অভিযোগের অন্ত নেই।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ রোগীদের বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া দালালদের কারণে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সমানে দাঁড়িয়ে রয়েছে দালাল উজ্জ্বল। বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দালালেরা রোগী ও তাঁর স্বজনদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা নীরিক্ষা করানোর জন্য টানাটানি শুরু করেন।

 

নাম গোপন রাখার শর্তে এক দালাল জানান, ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকেরা হাসপাতালে কর্মরত ঝাড়ুদার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইজিবাইক চালকদের নিয়ে একটি দালাল চক্র তৈরি করেছে। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা–নিরীক্ষা লিখে দেওয়ার পর দালালেরা রোগীদের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের নিয়ে যায়।

 

একজন রোগী নিয়ে আসতে পারলে একজন দালাল ১০০ টাকা পেয়ে থাকেন। একইভাবে সমপরিমাণ টাকা কমিশন পেয়ে থাকেন হাসপাতালের কর্মরত সংশ্লিষ্ট ডাক্তার। এই ভাবে চলছে চিকিৎসা সেক্টরে দালাল সিন্ডিকেট। তবে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ না খুললেও জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মুখ খুলে ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন