Logo
Logo
×

রাজনীতি

ক্রেস্ট নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ী নেতারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম

ক্রেস্ট নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ী নেতারা
Swapno

 

টানা চতুর্থ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান এবারও নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী পরিষদ গঠনের আগে সকলের ধারণা ছিল এবার মন্ত্রী হচ্ছেণ শামীম ওসমান। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের বেশিরভাগ নেতার সুপ্ত বাসনা ছিল এবারের মন্ত্রী পরিষদে শামীম ওসমানের নাম আসবে।

 

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীসহ ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তবে এই মন্ত্রী পরিষদে শামীম ওসমানের নাম ছিলনা। পরবর্তীতে ২৩ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) নিয়োগ করার বিষয়টি জানানো হয়।

 

গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) আগে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে থাকলেও এবার তাকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়নি। মাসখানেক পরে আবার যখন মন্ত্রীপরিষদের আকার বাড়ছে এমন খবর চাউর হয় তখন শামীম ওসমানের কর্মী সমর্থক, ব্যবসায়ীরা বলাবলি শুরু করেন এবার শামীম ওসমান যে মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পাচ্ছেন তা শতভাগ নিশ্চিত। এমনকি শামীম ওসমান নিজেও তার বন্ধুদের সাথে আলাপকালে এই কথা নিয়ে বলাবলি করেছেন তাকে মন্ত্রী পরিষদে রাখা হবে বলে জানিয়েছে সূত্র। তার অনুগতরাও এনিয়ে আশায় বুক বেধেছিল।

 

ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ প্রস্তুতি নিয়েও রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শামীম ওসমানের নাম মন্ত্রী পরিষদের ঘোষণা দেয়া মাত্রই তারা শামীম ওসমানকে সবংর্ধনা দেবেন। শামীম ওসমানকে সবংর্ধনা দিতে তারা ক্রেস্টও তৈরি করে রাখেন। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন এই ক্রেস্টগুলো দিয়ে সবংর্ধনার প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। কিন্তু বিধি বাম। মন্ত্রী পরিষদের আকার বাড়লেও তাতে শামীম ওসমানের নাম নেই।

 

গত ১ মার্চ নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী শপথও নিয়ে ফেলেন। আর এরপরপরই সবংর্ধনা দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা ব্যবসায়ী নেতারা, শামীম ওসমানের কর্মী সমর্থকরা পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ী নেতারা নিজেরা নানা কানাঘুষার মধ্যে তড়িগড়ি করে সবংর্ধনার জন্য তৈরি করা ক্রেস্টগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে জানিয়েছে সূত্র। তারা বলেন, এবারও মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই হলোনা কেন শামীম ওসমানের?

 

তবে বোদ্ধামহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শামীম ওসমান যে এবার মন্ত্রী পরিষদের ঠাঁই পাচ্ছেন না তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় যখন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে বেঁছে নেয়া হয়। কিন্তু শামীম ওসমান ঘটনা করেই গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকবার জাহির করেছেন, তাকে মন্ত্রী হতে বারবার বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তুাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া মিটিংয়ে, বড় বড় জনসভায় ঘটা করে অত্যন্ত বড়াই করে শামীম ওসমান এই কথা জাহির করে আসছিলেন। এখন উল্টো কথাই প্রচারণাই আসছে।

 

সবাই বলছে, শামীম ওসমান আসলে মন্ত্রী পরিষদে ঢোকার জন্য কাঙাল ছিলেন। শামীম ওসমান যাকে নিয়ে রাজনীতির একটি বড় সময় চর্চায় থাকেন তার ছোট বোন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকেও তো উপমন্ত্রী পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাহলে শামীম ওসমান এতো জাহিরের পরেও সিংহপুরুষ হয়েও বঞ্চিত রইলেন। আওয়ামী লীগের জন্য তার পরিবারের এতো অবদান থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয় না। এমনকি তার পরিবার মন্ত্রীত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকেন। শামীম ওসমান কেন মন্ত্রীত্ব পান না। অথচ তিনি বিষয়টি এড়িয়ে উল্টো প্রচার করে আসছিলেন, তাকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হয়, তিনি তা নেন না!

 

সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসেন তখন এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। জায়গা খালি না পেয়ে শামীম ওসমান তখন নানা দিক-বিদিক ছোটাছুটি করে। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে শামীম ওসমান সিটি নির্বাচনে নির্বাচন করতে চান। প্রধানমন্ত্রী শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নও দেন।

 

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন শামীম ওসমান নৌকা পেলেও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। একদিন শামীম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে তিনি গণভবনে ডেকে নেন। তাদের দু’জনকে পাশাপাশি বসান। তিনি আইভীকে বলেন, তোমার নির্বাচন করার প্রয়োজন নেই। তখন প্রয়াত ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহম্মদ চুনকা কন্যা আইভী বলেন, শামীম ওসমানকে নৌকা দেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো। জনগণ আমাকে চায়।

 

আইভীর এই বক্তব্যের পর শামীম ওসমানও নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় থাকেন। তখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইজনকেই উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের দুইজনের মধ্যে যে নির্বাচনে অংশ নেবে না, তাকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হবে। যদিও এখানে প্রধানমন্ত্রী শুধু শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেননি, কিন্তু তারা দুইজনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অটল থাকেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের দুইজনকেই বলেন, তোমরা তোমাদের মতো নির্বাচন কর। আইভী নির্বাচনে শামীম ওসমানকে লাখ খানেক ভোটে হারাবেন বলে জানান। সুষ্ঠু নির্বাচনে আইভী সত্যি সত্যিই ১ লাখেরও বেশি ভোটে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে শামীম ওসমানকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দেন। এরপর থেকেই আইভীর স্বপ্নপূরণের জয়রথ। আর শামীম ওসমানের রাজনীতিতে হতাশা।

 

সূত্র বলছে, শামীম ওসমান যদিও ২০১৪ সাল থেকে সংসদ নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কিন্তু সিটি নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই শামীম ওসমানকে মন্ত্রীত্ব দেয়ার কথা বলেন নাই। এটা আসলে একটি বিরাট ‘মিথ্যা প্রচারণা’। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন