Logo
Logo
×

রাজনীতি

নিহত শাওনের ভাইকে লাঞ্ছিত করলেন যুবদল নেতা সাদেক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ০১:৪৩ এএম

নিহত শাওনের ভাইকে লাঞ্ছিত  করলেন যুবদল নেতা সাদেক
Swapno

 

‘যার জন্য করলাম চুরি সে বলে চোর’ এমনই একটি প্রবাদ বাক্যেকে দৃশ্যমান করলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি তথা সারাদেশে এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শাওন প্রধান।

 

এই যুবদল নেতা শাওনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে তিনি ছিলেন যুবদল নেতা সাদেকুর রহমান সাদেকের কর্মী। যাকে ঘিরে বিগত দিনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের সাথে সখ্যতা রেখে যতটুকু পরিচিত লাভ করতে পারেনি।

 

তার থেকে বেশি সারা দেশ জুড়ে শাওনের জন্যই তার রাজনৈতিক লিডার সাদেকের নাম ও আলোচনায় চলে আসে। নানা দিক থেকে সাদেক বাহাবা পেতে থাকে।

 

এদিকে সাদেক ও শাওন প্রধানের মাকে নিজের মা বানিয়ে ফেলে নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ভাইরাল করে। আবার তাদের আশ্বাস ও দেন শাওনের পরিবর্তনে আমি আছি সর্বদা আপনাদের পরিবারের সাথে।

 

যাকে ঘিরে সাদেকে আস্থা রাখা শুরু করে শাওন প্রধানের পরিবারের সদস্যরা। যাকে ঘিরে সেই বছরের (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে যুবদলের দুই কর্মী শাওন প্রধান ও শাওন ভূঁইয়া হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত জেলা বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে সাদেকের আশ্বাস পেয়ে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শাওন প্রধানের ভাই ফরহান প্রধান সাদেকের নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদান করার ঘোষণা দেন।

 

আর সেই অনুষ্ঠান থেকেই শাওনের ভাই ফাহাদ প্রথান বক্তব্যে দেন আমার ভাই শাওন হত্যার বিচার চাই আমি। আমিও আপনাদের আন্দোলনে সামনে থাকতে চাই। আমাকে কি আপনারা রাখবেন? আমিও প্রয়োজনে দুটি গুলি খাবো।

 

কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরে ও কোন পদে আদিষ্ঠ হয়নি শাওনের ভাই ফাহাদ প্রধান। তাদের পরিবারের নাম বিক্রি করে নানাভাবে লুটে নিচ্ছে সেই যুবদল নেতা সাদেক। সেদিন থেকেই জেলা যুবদলের আহ্বায়কের পদে আদিষ্ঠ হতে নানাভাবে শাওনের মাকে ম্যানেজ করা শুরু করেন সাদেক।

 

এদিকে জানা গেছে, শাওনের মৃত্যুর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সালাউদ্দিন টুকুর মাধ্যমেজুম মিটিংয়ে শাওনের মায়ের সাথে যোগাযোগ করেছেন তখন উনি তাকে বলেছেন আপনাদের কি লাগবে।

 

তখন উনি তারেক রহমানকে বলেন আমার কিছু চাই না, শুধু আমি চাই শাওনের যিনি নেতা ছিলেন সাদেক তাকে জেলা যুবদলের সভাপতির পদ দেওয়া হোক। তা ছাড়া আমি আর কিছুই চাই না।

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা যুবদলের মূল পদে আদিষ্ঠ হয় সেই সাদেক। তার পর থেকেই শাওনের পরিবারকে নানাভাবে লাঞ্চিত করেই যাচ্ছেন এই সাদেক। যিনি নিয়মিত শাওনের বাসায় একদিন হলে ও যেতেন তার মাকে দেখতে সে এখন মাসে ও কোন প্রকারের দেখা করেন না তাদের সাথে।

 

তা ছাড়া শাওন প্রধানের বড় ভাই ফাহাদ প্রধানকে সব সময় সাথেই রাখতেন কিন্তু এখন আর তাকে বেশি একটা সময় সাথে রাখেন না বলে জানা গেছে। তা ছাড়া তাকে একটি পদ দেওয়ার আশ্বাস দিলে ও এখন নানা অপবাদ দিয়ে তাকে দল থেকে বেড় করতে মরিহা হয়ে উঠেছে এই সুবিধাবাধী নেতা সাদেক।

 

গতকাল শাওন প্রধানের ভাই ফাহাদ প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, (সাদেকুর রহমান সাদেক গতকাল আপনি আমার সাথে যে খারাপ আচরণ করলেন। এই দিন দিন না আরো দিন সামনে আছে সময় কথা বলবে ইনশাআল্লাহ)।

 

পরবর্তীতে তাদের দুইজনের ছবি একত্রিত করে আরেটি স্ট্যাটাস দেন সেখানে উনি উল্লেখ করেন। (গত তিন দিন আগে আমি নারায়ণগঞ্জ কোটে গেছিলাম আমার হাজিরা দেওয়ার জন্য তখন সাদেকুর রহমান সাদেক আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করে আমার গায়ে হাত তোলে তখন বলে বিএনপি করে আমার এন্টি পার্টি তাদের সাথে তোর যোগাযোগ তুই ওনে যা তোরে এনে থাকলে মারমু তখনই আমার গায়ে টর্চার চলায়।

 

এ বিষয়ে শহিদ শাওন প্রধানের মা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন)।

 

যা নিয়ে বর্তমানে সাদেকের উপরে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন যাদের কারণে উনি এতো বড় একটি পদে আদিষ্ঠ হলো। আজকে তাদের পরিবারের লোকদেরই লাঞ্চিত করতে তার একটু ও দ্বিধাবোধ লাগলো না।

 

জানা গেছে, গত ২০২২ সালের (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে শহরের দুই নং গেইট এলাকায় র‌্যালী করতে নিলে সেই অবস্থায় পুলিশ বাধা প্রধান করেন। এতে করে বিএনপি-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ‘যুবদল কর্মী’ শাওন প্রধান। 

 

 

যেখানে একটি ছবিতে শাওনকে যুবদল নেতা সাদেকের নেতৃত্বে মিছিলে আসতে দেখা যায়। যাকে ঘিরে এটা প্রকাশ্যে হয়ে উঠে উনি শাওনের লিডার। সেই কারণে শাওনের ভাই তার চেহারায় শাওনের প্রতিছবি দেখতে পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তার হয়ে তাকে জেলা যুবদলের সভাপতির পদে আদিষ্ঠ করতে বলেন।

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের (২৯ আগস্ট) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন জেলা যুবদলের কমিটির অনুমোদন দেন।

 

যেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদে আদিষ্ঠ করা হয় সাদেকুর রহমান সাদেককে। এরপরই শাওনের মায়ের অবদানকে অনিহা করে বর্তমানে তাদের পরিবারের উপরেই বুলডোজার চালাচ্ছেন এই জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেক।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা শাওনের ভাই ফাহাদ প্রধান যুগের চিন্তাকে বলেন, সাদেক ভাই গতকাল কোর্টে হাজিরা দিতে যায়। সে সময় আমি ও সেখানে যাই তখন উনি হঠাৎ আমার সামনে এসে আমাকে বলেন, তুই আর রাজনীতি করতে পারবি না। তুই আমাকে ছাড়া ও রনি ও সুমনের লোক হয়ে গেছোছ। তুই তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছ, এই বলে আর আমার শরীরে আঘাত করতে থাকে। এলোপেথালী কিল, ঘুষি আবার বুকে ও ঘুষিসহ অনেকগুলো চর থাপ্পর দিয়েছেন। আর ধাক্কা দিতে দিতে আমাকে কোর্ট থেকে বের করে দিয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, তখন আমি তাকে বললাম সাদেক ভাই আমি কিন্তু শাওন প্রধানের ভাই যার জন্য আপনি আজকে এতো বড় পদে আদিষ্ঠ হয়েছেন। তখন উনি আমাকে জবাব দেন, আমি আমার যোগ্যতায় এখানে এসেছি কারো দয়ায় আসেনি। আমাকে যেভাবে উনি নির্যাতন করলেন তা আমি মেনে নিতে পারছি না। আবার উনি আমাকে একটি পদে বসানোর কথা থাকলে ও এখন উনি আমাকে রাজনীতি থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইছেন। আমি কেন্দ্রীয়ভাবে এটার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি। এস. এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন