Logo
Logo
×

রাজনীতি

ঐক্যে সাফল্য মিলল কতখানি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৪, ০৭:১০ পিএম

ঐক্যে সাফল্য মিলল কতখানি
Swapno

 

# নারায়ণগঞ্জ শহরের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব সহকারে মাঠে সেলিম ওসমান
# নানা ইস্যুতে মেয়র আইভীর সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন শামীম ওসমান

 

রাগ, ক্ষোভ, অভিমান আর শত্রুতা বাদ দিয়ে এবার আন্তরিক ভাবে নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান।

 

নারায়ণগঞ্জবাসী আশা করেন তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলার থাকলে বলুন, কিন্তু কেউই এমন কথা বলবেন না যাতে নারায়ণগঞ্জে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দেশে যেভাবেই হোক প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাদ দিয়ে আবারও একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে বিদেশে সব জায়গায় এই নির্বাচন একটি একতরফা নির্বাচন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।

 

তাই এমন একটি নির্বাচন করার পর এই জেলায় যারা আওয়ামী লীগের মেয়র, এমপি এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তাদের দায়দায়িত্ব আরো অনেকটাই বেড়ে গেছে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষ। কারণ এটা এখন সকলেই বলছেন দেশের মানুষকে ভালো রাখার দায়িত্ব আওয়ামী লীগ বার বার নানা কায়দায় কেড়ে নিয়েছেন। তাই মানুষ এখন আর এতো কিছু বুঝতে চায় না।

 

তারা একটা কথাই বলতে চায়, আর সেটা হলো যেহেতু আপনাদেরকে কেউ সেধে ক্ষমতায় বসায়নি। তাই জনগনের স্বার্থে কাজ করুন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে। মানুষের একটাই কথা আর তা হলো তারা যে বছরের পর বছর ধরে মেয়র আইভী আর শামীম ওসমানের মাঝে বিরোধ দেখে আসছে সেটা এখন আর তারা দেখতে চায় না। তারা যেকোনো মূল্যে ভালো থাকতে চায়।

 

এদিকে এই তিন নেতার মাঝে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গোল টেবিল বৈঠকের মধ্য দিয়ে যে ঐক্যের সুচনা হয়েছে তার সুফল কিছুটা হলেও ভোগ করতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। হকার আর বঙ্গবন্ধু সড়কে না বসার অঙ্গীকার করেছে। আপাতত তাদেরকে সলিমুল্লাহ সড়কে হলিডে মার্কেট করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। শনিবার আর রবিবার তারা সলিমুল্লা সড়কে বসবে এবং এটা বজায় থাকবে কোরাবানীর ঈদ পর্যন্ত।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মূল শহর কেন্দ্রীক চারটি থানা এলাকার মূল দায়িত্ব রয়েছে তিনজন জনপ্রতিনিধির হাতে। এরা হলেন মেয়র আইভী, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের জনগন মনে করেন এই ক্ষেত্রে তারা তিন জনই কমবেশি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। আইভী নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত রাখার ব্যার্থতার দায় পূরোটাই সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের উপর চাঁপিয়ে দিচ্ছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলছেন তিনি পারছেন না শামীম ওসমানের কারনে।

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ এখন মনে করেন যে কারণেই হোক এই ক্ষেত্রে মেয়র আইভী ব্যর্থ হচ্ছেন। কারণ এই ক্ষেত্রে তিনি আরো কৌশলী হতে পারতেন। আর এ বিষয়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে আইভীর যে অভিযোগ সেটার প্রমানতো নারায়ণগঞ্জের জনগনের চোখের সামনেই রয়েছে। শামীম ওসমান সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র আইভীর সাথে হেরে যাওয়ার পর থেকে আর তিনি আইভীকে মেনে নিতে পারেননি।

 

তিনি কিভাবে মেয়র আইভীকে বিপাকে ফেলবেন সেই চেষ্টা করেছেন সব সময়। আর এই দুইজনের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে সর্বদা ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছেন একটি মহল। যখনই আইভী হকার উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছেন তখন শামীম ওসমান তাতে নানা কায়দায় বাধার সৃষ্টি করেছেন। শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। তাই নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন একজন এমপি হয়ে শামীম ওসমান জনগনের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি।

 

তিনিও জনগনের স্বার্থ না দেখে কেবলই আইভীকে কিভাবে ঘায়েল করা যায় সেই চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। মানুষ আশা করছে শামীম ওসমান আন্তরিক ভাবেই তার আগের সেই অবস্থান থেকে ফিরে এসেছেন বা আসবেন। তিনি তার ছোট বোন সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীর সাথে মিলেমিশে নগরবাসীর স্বার্থে কাজ অব্যাহত রাখবেন।

 

এদিকে সেলিম ওসমান নিজে নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি। তিনি এই শহরের এমপি। আইভী এই শহরের মেয়র আর সেলিম ওসমান এমপি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসী দেখেছেন বিগত বছরগুলিতে এই যানজট ইস্যুতে সেলিম ওসমান এমপি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। তার চোখের সামনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। আর এই সংঘর্ষের আগে থেকেই একটি সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করছিলো।

 

সেলিম ওসমান চাইলে তিনি এই সংঘাত সংঘর্ষ প্রতিরোধ করতে পারতেন। অন্তত জোরালো কন্ঠে থামানোর চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু সেটা তিনি না করে চরম ভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্থরের সাধারণ মানুষ। তবে এবার নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত করার জন্য সেলিম ওসমান বেশ জোরালো ভাবেই মাঠে নেমেছেন। তার প্রচেষ্টার সুফল পাচ্ছে নগরবাসী। 

 

ফলে নারায়ণগঞ্জবাসী এখন মনে করেন এখন আর এই তিন জনপ্রতিনিধি একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে এবং দায়িত্বে অবহেলা করে পার পাবেন না। একে তো তাদের যথেষ্ট বয়স হয়েছে, তার উপর তারাই বার বার এমপি ও মেয়র হচ্ছেন। তাদের সরকারই বিগত পনেরো বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে। তাই তারা ব্যক্তিগত কোন্দল ভুলে মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন বলে নারায়ণগঞ্জবাসী আশা করেন।

 

অন্যথায় কোনো মতেই জনগনের কাছে তারা ক্ষমা পাবেন না বলে প্রায় সকলেই মনে করেন। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী লক্ষ্য করছেন আপাতত তারা কাঁদা ছোড়াছোড়ি বাদ দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করা শুরু করেছেন। মানুষ এর সুফলও পেতে শুরু করেছে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন