Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম-আইভীর মধুর সম্পর্ক কতদিনের

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪৮ পিএম

শামীম-আইভীর মধুর সম্পর্ক কতদিনের
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরাজমান বৈরী সম্পর্কের আপাত অবসান নারায়ণগঞ্জবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। আর এই অসাধ্য কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব। তাদের উদ্যোগেই বিপরীতমুখী দু’জনকে একটেবিলে বসানোর রাজসিক আয়োজন সর্বমহলের প্রশংসা কুড়াতে সমর্থ হয়েছে। 

 

গত ৩ ফেব্রুয়ারি তারা এক টেবিলে বসার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের সার্বিক দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টে যেতে দেখা যায়। দিনের বেলা এখন নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে কোন হকার বসতে পারছে না। দীর্ঘদিন পর হকারমুক্ত ফুটপাতে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য চলাফেরায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। অথচ ক’দিন আগেও ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে আইভী শামীম ওসমানকে দোষারূপ করেছিলেন। এ ব্যাপারে তার অভিযোগ ছিলো, শামীম ওসমানের প্রত্যক্ষ সহযোগীতার কারণেই হকাররা ফুটপাতে বসতে সাহস পায়। 

 

দু’জন একটেবিলে বসার পর ব্যস্ততম সড়কেও আগের মতো লাগাতার যানজট পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নগরীতে যানজটের মূল আধার চাষাঢ়া চত্বরে মৌমিতার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। শুরু থেকেই মৌমিতার রুট পারমিট নিয়ে মেয়র আইভী সোচ্চার ছিলেন। ক্ষুব্ধ ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপরও। পরিবহন সেক্টরের নানা অনিয়ম নিয়ে আইভী আকারে ইঙ্গিতে শামীম ওসমানের কাঁধেই দোষ চাপাতেন।

 

কিন্তু উভয়ের বৈঠকের পর এ বিষয়ে আর কোন অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছ না। তবে বরাবরের মতো এবারও রমজান মাসে শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে শামীম ওসমানের বড়ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান পুলিশ প্রশাসনের হাতে ৪৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। এরই সুফল এখন  শহরবাসী ভোগ করতে পারেছেন বলে ধারণা করা হয়।

 

তবে এ দু’জনের এই হৃদ্যিক সম্পর্ক কতোদিন বজায় থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারাটা কঠিন বৈকি! কারণ শামীম ওসমান ইতোমধ্যেই হতাশকণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন, ‘আমি আইভীর সাথে একটেবিলে বসায় তথাকথিত অতি বাম ও অতি ডান দলের অনেকের গায়ে জ্বালা ধরেছে। কিন্তু আমি তো নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধান করতেই তার সাথে বসেছি। আইভী আমার ছোটবোনের মতো। আমাদের ভাইবোনের সুসম্পর্ক দেখে ওরা ঈর্ষায় জ্বলছে। অতি বামেরা আমাদের একসাথে বসাটাকে মেনে নিতে পারছে না। ফুটপাতের হকারদের ব্যাপারে আইভী আমার সহযোগিতা চেয়েছে। তাই তার সঙ্গে বসেছি। আর এর বসার কারণে যদি কেউ আইভীর শাড়ির আঁচল ধরে টান দিয়ে ফেলতে চান, তাহলে আমি তার বড়ভাই তার সামনে গিয়ে দাঁড়াবো।’

 

শামীম ওসমানের এসব কথা অনেকটা আবেগতাড়িত হলেও একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মতো নয় বলে মনে করেন বোদ্ধামহল। তাদের মতে, শামীম এবং আইভীর একটেবিলে বসাকে সবাই যে লুফে নেবেন, এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিপক্ষ খুব ভালো করেই জানে, উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অন্য কোন দলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হতে বাধ্য।

 

ডান কিংবা বাম কোন দলের নেতাকর্মীরাও হালে পানি পাবেন না। এরা মূলত ওই দুই মেরুর কাঁধে পা রেখেই নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকে। এরা উপরেরটা খায়, আবার নীচেরটারও ভাগ চায়। নিজেদের প্রয়োজন মতো এরা উভয় মেরুকেই বাগে রেখে ব্যবহার করতে পারঙ্গম। সুবিধা লুটে অতি সঙ্গোপনে সরে যেতেও খুবই সিদ্ধহস্ত। শামীম ওসমান এই সত্যটাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন তার স্বভাবসুলভ বক্তৃতায়। এস.এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন