Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম ওসমানের ছবি নিয়েই কৃষক লীগে দ্বন্দ্ব

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম

শামীম ওসমানের ছবি নিয়েই কৃষক লীগে দ্বন্দ্ব
Swapno

 

# দীর্ঘদিনের পূষে রাখা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে
# বিভিন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়
# কমিটি গঠন নিয়ে দুজনকেই পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করতে দেখা যায়
# আমরা দেখিনি প্রভাত ফেরিতে কোন নেতার ছবি যেতে : সদস্য সচিব
# শামীম ওসমানকে বাদ দিয়ে রাজনীতির চিন্তাও করি না : আহ্বায়ক

 

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভাজন নতুন কিছু নয়। এখানকার কমিটিগুলো পর্যবেক্ষণ করলেও সেই বিভাজন চোখে পড়ে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের বিষয়টি প্রায় সময়ই মিডিয়াতে আসে। অনেকটা আজম খানের আলাল দুলালের গানের ‘আলাল যদি ডানে যায়, দুলাল যায় বায়ে’ লাইনটির মতোই যেন এই পদগুলোতে যারা অধিষ্ট হন, তাদের মতামত ও কর্মের মধ্যে ব্যাপক দ্বিমত দেখা যায়।

 

এর আগে বিভিন্ন সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যকার বিরুদ্ধাচারণ করা, আলাদা আলাদা কর্মসূচী পালন করা, কমিটি প্রদান সহ কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে একমত হতে না পারার বিষিয়গুলো নারায়ণগঞ্জবাসী দেখেছে এবং বিভিন্ন মিডিয়াতেও এসেছে। এর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি, জেলা যুবলীগের কমিটি, মহানগর যুবলীগের কমিটিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সহযোগী কমিটিগুলো তৈরিতেও ছিল মতপার্থক্য। অনেকেই আবার মনে করেন জেলা আওয়ামী লীগের বিভাজনের কারণেই এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

 

শুধু তাই নয়, কোন সিদ্ধান্ত ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণেই নাকি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পার হয়ে যায় বছরে পর বছর। আর সর্বশেষ বিভাজনের আচরণ দেখা গেল গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে জেলা কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দের কার্যক্রমে। বিষয়টি জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বেশ কয়েক মাস যাবৎ নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মধ্যাকার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও একটি ব্যানারে শামীম ওসমানের ছবি দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এতদিন যাবৎ পূষে রাখা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে জানা গেছে।

 

দলের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ১০ মাস আগে এডভোকেট এসএম ওয়াজেদ আলী খোকনকে আহ্বায়ক এবং শাহজামাল খোকনকে সদস্য সচিব করে জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থানা ও উপজেলার কমিটিগুলো গঠনকে কেন্দ্র করে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই বছরের শুরুতে তারা উভয়ে আলাদা করে সোনারগাঁও উপজেলায় দুটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। সেখানে উভয় পক্ষই তাদের নিজেদের গঠন করা কমিটিকে বৈধ এবং অন্যেরটা অবৈধ বলে দাবি করে আসছেন।

 

সেই বিষয় নিয়ে দুজনের পক্ষ হতে পাল্টাপাল্টি দোষারোপও করা হয়। তবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস পালনকে কেন্দ্র করে জেলা কৃষক লীগের কমিটির উদ্যোগে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে যে ব্যানার তৈরি করা হয়েছে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির সাথে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমানের ছবিও ছিল। কিন্তু বিষয়টিকে সুন্দরভাবে নেয়নি কৃষকলীগের একটি পক্ষ। যার কারণে তারা একই কমিটির প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করে এবং বিষয়টি রেষারেষির পর্যায়ে চলে যায়।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সদস্য সচিব শাহজামাল খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আমাদের সিডিউলে ছিল আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া। অন্যান্য সংগঠনের অনুষ্ঠান শেষ করতে ১২টার উপর বেজে গেছে। তখন সঞ্চালক হিসেবে আমি সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেই। সে (আহ্বায়ক) কয়েকটি বিতর্কিত কমিটি দিয়েছে। তিনি বলেন, শামীম ওসমানের ছবি দিলে মেয়রের ছবিও দিতে হবে। যেকোন একটি প্রোগাম করলেই ব্যানারে সে (ওয়াজেদ আলী খোকন) এমপি সাবের ছবি দিয়ে দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, একুশে ফেব্রয়ারির প্রভাত ফেরির ব্যানারে কার ছবি যায়? আজ পর্যন্ত আমরা দেখিনি প্রভাত ফেরিতে কোন নেতার ছবি যেতে। এগুলো নিয়েই আমার সাথে তার মতপার্থক্য। আমি বলেছি এখানে এই ছবি দিলে আমি যাব না। এই ছবি দেখলে লোকে হাসবে। আমি মনে করি এখানে এমপি সাহেবকেও ছোট করা হইতেছে। অনেক জায়গায়ই এমপি সাহেবের ছবির সাথে তার ছবি দেয়। আমি মনে করি তার ছবি থাকলে সেখানে আমার ছবিও থাকার কথা।

 

এই বিষয়ে আহ্বায়ক ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আমাদের কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে এই অনুষ্ঠানটির দায়িত্ব তার উপর দিয়েছি। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগের দিন পর্যন্ত তার কোন সাড়া ছিল না। এর আগেরও কিছু ঘটনা আছে। সোনারগাঁয়ে যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির দিন একটি ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবির সাথে একই ব্যানারে আমাদের নেতা শামীম ওসমানের ছবিও দিয়েছি। ব্যানারটি যদিও আমি নিজে করিনি, আমার নির্দেশে সদর থানার সভাপতি কাশেম এই ব্যানারটি করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, শামীম ওসমানকে বাদ দিয়ে তো আমরা নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করার কথা চিন্তাও করি না। সকাল বেলা সে ব্যানারটা দেখেই সিনক্রিয়েট করা শুরু করল। তাকে অনেকেই বলেছে যে ভাই, রাস্তার মধ্যে কোন সিনক্রিয়েট কইরেন না। একজন সদস্য সচিব হওয়ার পরও সে প্রভাত ফেরিতে একা গেছে। কোন কর্মীও সাথে নিয়ে আসতে পারেনি। প্রভাত ফেরিতে এমপির ছবি ঢেকে দেয়ার জন্য সে সেখানে লোক দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

 

ঐ ঘটনার দিন সে সঞ্চালনা করে প্রায় ১৫ জনের মতো লোককে বক্তৃতা দিতে দিয়েছে। অথচ আমি যখন বক্তব্য দেই তখন সে এবং সোনারগাঁয়ের করিম (জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক) আমার বক্তব্য থামিয়ে দেয়। সেখানে তখন সবাই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, উনি উনার কথা বলবে, আপনি তো থামিয়ে দিতে পারেন না। বক্তব্যের পর আমি বলেছি আমাদের সাথে থানা কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারীগণও আসেন। তখন তারা দুজনে সোনারগাঁয়ের যে কমিটি আছে তাদেরকে নামিয়ে দেয়। অথচ একটু খোঁজ নিলে জানতে পারবেন সোনারগাঁয়ের এই কমিটির সদস্যরা বর্তমানে সেখানে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন