নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে দেশ জুড়ে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের। কিন্তু সেই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে যথাসময়ে পরিবর্তন না হওয়ায় দৈন্যদশায় পরিণত হয়েছে। তবে ফতুল্লা থানা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদীয় এলাকায় পড়েছে এবং এই এলাকায় আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ খোদ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমানের হাতে যার সদইচ্ছা হলেই নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটতে পারে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের।
সূত্র বলছে, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে বর্তমানে খুড়িয়ে চলছে। কেননা ২০১৯ সালের দিকে টানা ১৭ বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সম্মেলনে পূর্বের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল এবং পূর্বের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকে বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল বয়সের ভারে আগে থেকেই আনফিট। সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী কোন মতে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। তবে পূণরায় তাদের নেতৃত্ব দেয়া হলেও এখনো ইউনিয়ন কমিটি গুলো সম্পূর্ণ করতে পারেননি।

এছাড়া সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল পূণরায় নেতৃত্বে আসার পর বেশ কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। তবে তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা না গেলেও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকে একাই সভাপতির অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে। তবে এভাবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়া নেতাদের দ্বারা ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন চাচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। কেননা সংগঠন ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। এছাড়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগ থেকে উঠে আসা বহু নেতাই নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়াতে এক সংগঠনে থেকেই বুড়ো হচ্ছে মূল দলে ফিরতে পারছে না।
অপরদিকে ২০০২ সালে ফতুল্লা থানা যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয় মীর সোহেল আলীকে। এরপর তিনি সভাপতির দায়িত্ব পান। সাধারণ সম্পাদক করা হয় ফাইজুলকে। এভাবে দীর্ঘ ২২বছর অতিক্রম হলেও তারা মূল দলে পদ নিলেও ফতুল্লা থানা যুবলীগের পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। কারণ আরো পাঁচ বছর পূর্বেই ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকে পদে অদিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তবে তারাও মূল দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে চান তবে নেতৃত্বের পরিবর্তনের কোন শঙ্কা না থাকায় তারাও রয়েছে নীরব।
এদিকে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগে সভাপতি পদে আবু শরিফুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এমএ মান্নান এখনো রয়ে গিয়েছেন। ২০০৬ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি এহসানুল হক নিপু ও সাধারণ সম্পাদক জি এম আরাফাতের স্বাক্ষরে আবু মোঃ শরীফুল হককে সভাপতি এবং এম এ মান্নানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয়েছিলো ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ কমিটি। দীর্ঘ ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো নেতৃত্বের পরিবর্তন আসেনি হয়নি নতুন নেতৃত্বের।
এছাড়া তারাও নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না, কেননা তাদের বয়স চল্লিশোর্ধ্ব এবং ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিতে অনেকেই পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ। ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হক থানা আওয়ামী লীগের কমিটির হয়েছেন কার্যকরী ১নং সদস্য এবং এম.এ. মান্নান সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে এখন থানা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। যার ফলে নেতৃত্বশূন্য হয়ে গিয়েছে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ।
এমতাবস্থায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করছে শীঘ্রই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বের পরিবর্তনের। কারণ নেতৃত্বের পরিবর্তন না ঘটলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যকার দৈন্যদশার পরিবর্তন হবে না। আর এই নেতৃত্বের পরিবর্তন একমাত্র স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের সদিচ্ছা হলেই সম্ভব কেননা তার রাজনৈতিক এলাকায় জেলা বা মহানগরের নেতারা কমিটি গঠন করতে হলে তার পছন্দ নির্দেশের উপর প্রাধান্য দিয়েই কমিটি করেন। এস.এ/জেসি


