‘জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে ৩০ কোটি দিতে চেয়েছে’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে এমপি শামীম ওসমান বলেন, যখন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার সাব চেয়ারম্যান হন তখনি জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান চন্দন শীল হান্ড্রেড পার্সেন্ট চেয়ারম্যান হন। এটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট কথা। এটা বাদল খোকনও জানেন। তখন কোন এক ব্যক্তি আমি যেন তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিয়ে দেই তার জন্য আমাকে এবং চন্দনকে ডেকে নিয়ে আমার হাতে ৩০ কোটি টাকা দিবে। চন্দনকে আলাদা দিবে। তার বাজেট ছিল ৭০ কোটি টাকা। একই সাথে চন্দনকে ভালো ফ্ল্যাট কিনে দিবে। আমি তাকে উত্তর দিয়েছিলাম আমি চন্দনকে জবান দিয়েছি। পরে সে আমাকে বলে নমিনেশন যেহেতু তাকে দিবেনই তার যত খরচ আছে আমি দিবো। কারণ আপনি জবান দিছেন।
তিনি বলেন, আনোয়ার ভাই অসুস্থ হয়ে তার অবস্থা খুব খারাপ। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। তখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ভাইয়ের সাথে আনোয়ার ভাইয়ের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি হলো। ভাবলাম আনোয়ার ভাইয়ের অবস্থা খুব খারাপ, চন্দনকে বললাম আনোয়ার ভাইয়ের কিছু হয়ে যায় নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। কারণ আনোয়ার ভাই সিটি কর্পোরেশনে মনোনয়ন পায় নাই। চন্দন আমাকে বললো আনোয়ার ভাইকে দিয়ে দিবো। আমি বললাম চন্দন ব্যাপারটা তোমার আমি তো এমপি আছি। আমি তাকে বললাম শিউর দেইখো কিন্তু, পরে আমাকে কিছু বলতে পারবে না। তখন আমি সাথে সাথে চন্দনের সামনে ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বললাম আনোয়ার ভাইকে দিয়ে দেন। দৌঁড়ে গিয়ে ভাবীকে বললাম আনোয়ার ভাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হচ্ছে। তখন আনোয়ার উঠে বসে পড়ছে। অনেকটা সুস্থ হয়ে গেছে। আমরা এই ভাবে সেক্রিফাইস করে আসছি। আমি রাজনীতি করতে আসছি ধান্দা করতে আসি নাই। যদি ধান্দা করতে আসতাম তাহলে ব্যাংকে আমার বাড়ি বন্ধক রাখতাম না।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের ছোট খাটো দুই একটি পত্রিকায় উঠে শামীম ওসমানকে দেয়া হলো না। আমি যদি চাই তারা যেটা কল্পনা করতে পারে না, আগামী ৭দিনের মাঝে আমি তা নিয়ে আসতে পারি। যার নিজের আত্মসম্মানবোধ নেই সে কাউকে সম্মান করতে পারে না। আমার আত্মসম্মান বোধ আছে। আমি শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের লীগ করি।
সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতি এখন এমন পর্যায় চলে গেছে অনেকে মনে করে আমিও টাকা নিলে নিতে পারি। আমি চাই আমার সমস্ত কর্মী ভালো থাকুক, ভালো কিছু করুক। আমাকে যেমনে ইচ্ছা কাজে লাগাক। আমি জানি আমার স্ত্রী জনপ্রিয়, আমার ছেলের অনেক ফলোয়ার আছে। আমি তাদের সামনে আসতে দেই নাই। আমাকে না জানিয়ে ফতুল্লা কমিটিতে আমার না, আমার স্ত্রী, ছেলেকে কমিটিতে রাখা হয়। পরে তাদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে যোগ্যদের নাম দেয়া হয়।
সংগঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলা যুবলীগের ২০০৪ সনে কমিটি হয়েছে। ১৮র বছর কমিটি হয় না। মহানগর যুবলীগের ২০০৫ কমিটি হয়েছে, ১৭ বছর কমিটি বিহীন হয়ে রয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগ ২০১৩। ১১ বছর কমিটি হয় না। স্বেচ্ছাসেবক লীগ ২০০২ সর্বশেষ কমিটি হয়। জেলা আওয়ামী লীগ ঢাকডোল পিটিয়ে সম্মেলন হলেও পুর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না। আমার কথা হচ্ছে কোন পদ না আমরা সকলে একটা পরিবার। একসাথে ইজ্জতের সাথে থাকবো।
সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সবাই পাশ করবে। কিন্তু একটা জিনিস আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। আল্লাহর কসম করে বলতাছি আমার ঐক্যে যদি কেউ ফাটল ধরায় আমার চেয়ে কঠিন রূপ কেউ দেখবে না। আমি মারাত্বক কঠিন হবো। এটা আমি বলে দিচ্ছি। কোন কোন্দল না। আমাকে কেউ চ্যালেঞ্জ করবেন না। আমাদের মধ্যে কিছু কিছু আছেন খোঁচা দেন। খোকন সাহা, বাদল খোঁচা দিতাছে। আমার পেটের সন্তানরা কেউই আমার কথার বাইরে যাবে না। এই বিশ্বাস আমার আছে। সময় দেন আমি তাদের সাথে পার্সোনাল কথা বলি। ইমোশন ভালো কিন্তু বেশি ইমোশন ভালো না। কেউ মনে কষ্ট নিয়েন না।
যারা প্রার্থী হতে চান তারা শওকত ভাইয়ের কাছে সিভি জমা দেন। পরে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদলকে সকল প্রার্থীদের নিয়ে বসে আলোচনা মাধ্যমে একজন প্রার্থী নিয়ে আসার। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে নির্বাচন কিন্তু নাও হতে পারে। শওকত ভাই এই কথাটা আওয়াজ দিছিল, আমি তাকে থামায় দিছি। আমরা যে কয়দিন আছি সবাই একসাথে থাকবো। এই ৫ বছর আমাকে কেউ অনিয়ম করেন না। অনিয়ম না করে নিয়মের মধ্যে আমাকে কাজে লাগান। লিগেল ওয়েতে আমাকে ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, এই রমজান মাসে আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলতে চাই আমাকে এবারও বলা হয়েছিল। আপনারা জানেন আমি একজনের কথা শুনি। আমি জানি মন্ত্রী সভা সম্প্রসারণ হবে সংরক্ষিত মহিলা আসন পুরন হওয়ার পরে। ওমরা হজে যাওয়ার আগে আমি আপার পা ছুয়ে সালাম করে বললাম আমি আপনার অনুমতি নিয়ে ওমরাহ হজে যেতে চাই। তখন আপা আমাকে বললেন আমি অনুমতি দিব কে। তখন আমি বললাম স্পিকারের অনুমতি নিয়ে যাবে। আমিতো স্পিকারের অনুমতি পাইছি। এর পরে আপা আমাকে একটা কথা বললেন আমি তা শুনার পর চুপ করে থাকলাম। তখন আমি বুজলাম এটা আমার ঈমানি পরীক্ষা। তখন নেত্রী আমাকে বললেন কি করলা তুমি এটা, আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বললাম আমার বিন্দু পরিমান কোন আফসোস নেই। এস.এ/জেসি


