Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুই ভাইয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত কর্মীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম

দুই ভাইয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত কর্মীরা
Swapno

 

আওয়ামী লীগ তো বটেই নারায়ণগঞ্জের নানা উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সুখ্যাতি সারাদেশে। তবে গত একদশকের বেশি সময় ধরে এই পরিবারের উপর আস্থাশীল ব্যক্তিরাই এখন ত্যক্ত বিরক্ত। আওয়ামী লীগ তো বটেই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের কল্যাণে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও বিরাট ভূমিকা পালন করছে। তবে নির্বাচন এলেই শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ এবং সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি দুটোই খবরদারি করছেন বলে অভিযোগ খোদ দুটি দলের নেতাদের।

 

ওসমান ঘনিষ্ট নেতারাও এখন ত্যক্ত বিরক্ত। অনেকে বলছেন  আওয়ামী লীগ ও  জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক রাজনীতির বাইরে তারা দুই ভাই নির্বাচন এলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, পছন্দ-অপছন্দ নেতাকর্মীদের উপর চাপিয়ে দেন। তাদের কথা মতো কাজ না হলে তারা নেতাকর্মীদের শাসান, হুমকি দেন, নানাভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা করেন। নিজেদের প্রয়োজনে কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো জাতীয় পার্টি আবার কখনো বিএনপির লোকদেরও আশকারা দেন।

 

নিজেদের সাথে থাকা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদেরও কোনঠাসা করতে পিছপা হন না। নিজেদের প্রয়োজনে জাতীয় নির্বাচনের আগে ঐক্যের ডাক দেন। আবার পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির লোক বাছবিচার না করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দেন। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনেও এর প্রমাণ মিলেছে। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল আলম সেন্টুকে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই তারা ইউপি চেয়ারম্যান করেছেন।

 

আবার আলিরটেক ইউপিতে আগের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পরও তাকে বসতে বাধ্য করে জামাত ঘেষা জাকির হোসেনকে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। বন্দরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কলগাছিয়ায় জাতীয় পার্টির দেলোয়ার প্রধানকে পাশ করাতে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিনের উপর চাপ প্রয়োগসহ কটু বাক্য বিনিময় তো প্রকাশ্যেই হয়েছে। আবার বন্দরের অনেক ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকে বাদ দিয়ে রাজাকার পরিবারের মাকসুদকে চেয়ারম্যান বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন সেলিম ওসমান।

 

এমনকি অভিযোগ আছে সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে সেলিম ওসমানের ইন্ধনেই আইভীর বিপক্ষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানরা তৈমূর আলমের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছিলেন। সর্বশেষ ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনেও শামীম ওসমানের একান্ত পছন্দের কারণে এই ইউপিতে অন্যান্য প্রার্থীরা তার ঘনিষ্ট হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এছাড়া আওয়ামী লীগের এতো প্রভাবশালী এমপি হওয়ার পরও শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকায় দেড়যুগের বেশি মামলার দোহাই দিয়ে উপজেলা নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। সেখানে ননীর পুতুলের মতো রয়েছেন বিএনপির আজাদ বিশ্বাস। 

 

আবারো ৮ মে সদর উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সাথে সাথেই শামীম ওসমান প্রার্থীদের দমাতে নানা কৌশল ব্যবহার করছেন। চাপ প্রয়োগ তো বটেই ইমোশনাল ভাবেও অনেক প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বাসনা থেকে সরে যেতে বলছেন। একই কৌশল বন্দর উপজেলায় সেলিম ওসমানের। এতোদিনের ঘনিষ্ট মাকসুদকে নিয়ে নানা কটুক্তি আর বিএনপির আতাউর রহমান মুকুলকে রাজনীতি ত্যাগের পরামর্শ আবারও ওসমানদের ব্যক্তিগত পছন্দের বহিঃপ্রকাশ বলছেন খোদ তার কর্মী সমর্থকরা।

 

এতে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান দুইজনের উপরই নাখোশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্মীরা। তারা বলছেন, তারা দুইজনই রাজনীতি করেন। অথচ সদর বন্দরে সত্যিকারের জাতীয় পার্টির কর্মীরা বঞ্চিত। এমনকি শহরে জাতীয় পার্টির কার্যালয় পর্যন্ত নেই। নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করায় জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রয়াত নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমানকে নিয়ে করা সেলিম ওসমানের কটূ বক্তব্য সারাদেশেই নিন্দিত হয়েছে।

 

অপরদিকে প্রয়াত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সারাহ বেগম কবরী এবং নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়ে দুটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের কটূ বক্তব্য তো নিন্দিত গোটা বিশ্বে। এখন উপজেলা নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছে এইসব নির্বাচনে সাংসদ মন্ত্রীরা প্রার্থী নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না। এই ঘোষণার সাথে সাথেই শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান দুইজনই তার নিজস্ব কর্মীদেরই কোনঠাসা করার জন্য মাঠে নেমেছেন।

 

মূল উদ্দেশ্য তাদের নিজস্ব ইচ্ছার বাস্তবায়ন করা। তারা যেসব সেট-আপের কথা বলেন, তার সাথে তৃণমূলের রাজনৈতিক নেতাদের কী সম্পর্ক তা খোদ বুঝতে পারেন না কর্মীরাই। তারা বলছেন, মাকসুদ উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার বায়না ধরায়, সেলিম ওসমান নতুন চেয়ারম্যান খোঁজার কথা বলছেন। আবার শামীম ওসমান তার কথা না শুনলে ঐসব ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রাখবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

তৃণমূল কর্মীদের ভাষ্য, তাহলে রাজনীতি করার উদ্দেশ্যটাই বা কী? কেন নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কর্মীদের উপর মনগড়া সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন তারা! এসব ভেবেই তাদের দুইজনের উপর ত্যক্ত-বিরক্ত কর্মীরা। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন