দলের সিদ্ধান্ত মানছেন না খোদ শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১০ পিএম
সংসদ নির্বাচনে পরে এবার নারায়ণগঞ্জ সদর এবং বন্দর উপজেলা নির্বাচনের ঘন্টা বাজতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এই দুই উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নামার জানান দিয়ে এমপিদের আশীর্বাদ পাওয়া নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ‘প্রতিযোগিতামূলক’ করতে এবার দলীয় প্রার্থী দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এছাড়া এমপি মন্ত্রী নেতাদের দলীয় হাই কমান্ড স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছে তারা কাউকে সমর্থন দিতে পারবে না।
কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় দলটির সংসদ সদস্য, স্থানীয় নেতারা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের এমপির বাহিরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চাইলে তাকে কঠোর ভাবে হুশিয়ারি দিচ্ছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় যারা স্থানীয় এমপির নির্দেশনার বাইরে গিয়ে নির্বাচন করতে তাদের সাথে এমপির সম্পর্ক ছিল তা ভুলে গিয়ে করতে হবে বলে জানান সাংসদ শামীম ওসমান। যা নিয়ে তৃনমূলের নেতাদের মাঝে ক্ষোভ। সেই সাথে তার দলের নেতা কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। কেননা সরাসরি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করতে পারেন না।
এদিকে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা কাউকেই প্রার্থী করতে পারবেন না। এমনকি দলের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল কোনো নেতাও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন না। তবে স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে দল থেকে কোনো অবস্থায়ই কাউকে সমর্থন করা যাবে না। দলীয় হাই কমান্ড এই কথা জানান। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, উন্মুক্ত নির্বাচনে কাউকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না। এই অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিরাসহ স্থানীয় নেতারা যার যার মতো করে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখতে কিংবা নতুন করে প্রভাব বলয় গড়ে তুলতে উপজেলায় পছন্দের নেতাদের প্রার্থী করার এই প্রবণতাকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় দলের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব-কোন্দল দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ স্থানীয় নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।
এর আগে বৈঠকের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না বলে জানান। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সব ধরনের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের কঠোর তাগিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করতে এমপি কিংবা নেতাদের কারও হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেন।
অপরদিকে দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশনাকে কোন পাত্তা দিচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা নির্বাচনে মাঠে থাকার ঘোষনা দিয়েছেন। যদিও এমপিদের মাঠে থাকার কোন নিয়ম নেই। তবে বলেছেন কিভাবে মাঠে থাকতে হয় তার জানা রয়েছে।
জানা যায়, ৩০ মার্চ ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ এক বাক্যে বলে উঠেন সাংসদ শামীম ওসমান যাকে প্রার্থী দিবে তারা সকলে তার পক্ষে কাজ করবে। এই সাংসদ সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করে নিয়ে আসবে। কিন্তু ফতুল্লা এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকায় সম্প্রতি সময়ে গত দুটি নিবার্চনে কলঙ্কের কালো অধ্যায় তৈরী হয়। যা নিয়ে মিডিয়া থেকে শুরু করে সকল জায়গায় সমালোচনা তৈরি হয়। আর তা হলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লার কুতুবপুর দেলপাড়া এলাকায় জাল ভোটের দায়ে শামীম ওসমানের দুই কর্মী কারাদন্ডিত হন। এই ঘটনার রেশ কাটত না কাটতে ফতুল্লা ইউপি উপ-নির্বাচনে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠে। যা নিয়ে এখানকার সাংসদ বিব্রত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে সকলেই যদি শামীম ওসমনের ঘোষিত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য কাজ করে তাহলে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ উঠে কেন। কিংবা জাল ভোট দিতে গিয়ে কারাদন্ডিত হন কেন। এই কালো অধ্যায়ের কলঙ্ক কিভাবে ঢাকবে তারা।
এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, আমি এই উপজেলা নির্বাচন সিরিয়াসলি নিব। আমি মাঠে থাকবো। যদিও আমার মাঠে থাকার নিয়ম নাই। কিভাবে থাকতে হয় আমার জানা আছে। যারাই উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন আমার আপত্তি নাই। তবে আমার কথা একটাই যাকে প্রার্থী দিব সে জয় লাভ করে আসুক। কিন্তু এখানে কেউ পার্সোনাল ইগো প্রবলেম তৈরি করবেন না।
তিনি বলেন, আপনারা সকলে বার বার একটা কথা বলেছেন আমি যাকে প্রার্থী দিব আপনারা তার জন্য কাজ করবেন। আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলেন যেটা বলছেন এটাই ফাইনাল। কেউ কেউ মনে করেছে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। থানা আওয়ামী লীগকে কিংবা আমাকে বাইপাস করে কেউ কিছু করতে চান তাহলে করতে পারেন আমার আপত্তি নেই, কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাকে ভুলে গিয়ে তাকে নির্বাচন করতে হবে। আমার সাথে তার সম্পর্ক ছিল এটা তাকে ভুলে যেতে হবে।
কে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান হবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যারা প্রার্থী হতে চান তারা সকলে শওকত ভাইয়ের কাছে সিভি জমা দেন। যেখানে দল থেকে বার বার স্পষ্ট ভাবে বলে দেয়া হয়েছে কোন এমপি যেন উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে তার ভিন্ন চিত্র। খোদ সংসদ সদস্য নিজেই দলের এই কমান্ড মানছেন না। তিনি এবার উপজেলা নির্বাচন মাঠে তেকে সিরিয়াসলি নেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। যা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে।
তাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে শামীম ওসমান দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা সম্ভাব্য প্রার্থীদের হুঙ্কার দিয়ে তার নির্দেশনার বাইরে যেন কেউ না যাইতে পারে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। এজন্য তারে মন্তব্য নিয়ে তৃনমুলের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কেননা যেখানে দল প্রার্থী হতে উম্মুক্ত করে দিয়েছে সেখানে তিনি তাতে বাধা তৈরী করে রাখতে চান। এস.এ/জেসি


