Logo
Logo
×

রাজনীতি

পুরনো অস্ত্রে নতুন শিকার 

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০০ পিএম

পুরনো অস্ত্রে নতুন শিকার 
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বরাবরই নির্বাচনে (ইলেকশন) প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্ধারণ করার চেয়ে নিজের ইচ্ছে মত বাছাই (সিলেকশন) বা প্রতিনিধি নির্ধারণ করতেই বেশি পছন্দ করেন। অর্থাৎ একজন জনপ্রতিনিধি যাদের জন্য কাজ করবেন সেই জনগণ বা ভোটারদের পছন্দকে গুরুত্ব না দিয়ে বা পাত্তা না দিয়ে শুধুমাত্র নিজের পছন্দকে ভোটারদের উপর চাপিয়ে দিতেই তিনি পছন্দ করেন বেশি।

 

এবারও জাতীয় পার্টির এই নেতা বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তার বিশ্বস্ত হিসেবে (শুধু বিশ্বস্ত নয়, খুবই বিশ্বস্ত) বেঁছে নিতে চাইছেন এর আগে তার সমর্থন ও হস্তক্ষেপে কোন প্রকার নির্বাচন ছাড়া চেয়ারম্যানের পদ পাওয়া বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদকে। বন্দরবাসীর ধারণা; এমপি ভাল করেই জানেন, কোন হস্তক্ষেপ ছাড়া ভোটের প্রতিযোগিতায় তার এই পছন্দের ব্যক্তি কখনও জয়ী হতে না পারবেন না।

 

এর আগেও দুইবার প্রমাণ দিয়েছেন এমএ রশিদ। এবারও এমপি সেলিম কোন নির্বাচন বা ইলেকশন ছাড়া সিলেকশনের মাধ্যমে নিজের পছন্দের লোককে পদায়ন করার জন্য ঘোষণা প্রদানসহ তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আছে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি। তবে সেলিম ওসমানের ইলেকশন বাতিল করে সিলেকশনের খোয়াব এবার টিকবে কি না তা নিয়েই চলছে বন্দর ও শহর জুড়ে আলোচনা।

স্থানীয়দের দাবি, ২০১৯ সালের নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে সেলিম ওসমান ও তার পরিবারের আশ্রয় ও সহায়তার মাধ্যমে তখন নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা সকল প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। যা সম্প্রতি বন্দরের ধামগড়ে একটি অনুষ্ঠানেও তিনি এমপি গর্ব করে বলেন, গত নির্বাচনে আপনারা কেউ ভোট দিতে পারেননি, একমাত্র আমি দিয়েছি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন তার কথাই শেষ কথা। অবশ্য সে সময় সাংসদের এই উদ্দেশ্য সফলও হয়েছে।

 

সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপের কারণেই যে ব্যক্তি এর আগে কোন নির্বাচনে সফলতার দ্বারে-কাছেও যেতে পারেননি সেই ব্যক্তি শুধুমাত্র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে উপজেলার চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ইলেকশন চাননি সাংসদ সেলিম ওসমান। তিনি বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে জোর গলায়ই নির্বাচন চান না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে সেই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছিলেন সেলিম ওসমান। নির্বাচন হয়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে খুব শক্ত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনই হয়েছে।

 

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্য সাংসদ সেলিম ওসমান এই এমএ রশিদকে দিয়েই গেম সাজিয়েছিলেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে বারবার ধিক্কারও জানানো হয়েছে। যা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে জোরালোভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় আওয়ামী লীগের এক প্রার্থীর নৌকাও তাল গাছে তুলেছেন সেলিম ওসমান (নৌকা তাল গাছে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন)।

 

যা শুধু নারায়ণগঞ্জই নয়, ভাইরাল হয়েছে দেশ জুড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় সেলিম ওসমান এবারও সেই একই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন বন্দরবাসী। তবে তা কতটুকু সফল হয় তা-ই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করেন তারা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এমএ রশিদ বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের আর্তনাদ ও চোখের পানির বিনিময়ে এমপি ও তার পরিবারের স্বার্থ রক্ষার ভূমিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রমাণ হিসেবেই এই এমপির এমন ঘোষণা। যেখানে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজেই এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

 

নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত করার দিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার না করার নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত না করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে সেলিম ওসমান এমপির নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা কি বাস্তবায়ন হবে নাকি শুধুমাত্র খোয়াব (স্বপ্ন) হিসেবেই থাকবে এবং একজন সাংসদ যিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দাবি করেন তার নির্বাচন বানচালের এমন সরাসরি ঘোষণা টিকবে কি না তা নিয়ে শুধু রাজনৈতিক মহলই নয় সমালোচনা চলছে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন