Logo
Logo
×

রাজনীতি

জিয়ার ভাঙা ম্যুরালে বিএনপির রক্তক্ষরণ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম

জিয়ার ভাঙা ম্যুরালে বিএনপির রক্তক্ষরণ
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত ‘শহীদ জিয়া হল’ যা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম করণ করে স্থাপিত করা হয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জ থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শেষ স্মৃতি মুছে ফেলতে র্দীর্ঘদিন যাবৎই নীল নকশা করছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান।

 

তিনি সংসদ থেকে শুরু করে দুবাইতে সহ একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ‘শহীদ জিয়া হলে’ দ্রুত ১ মাসের মধ্যে এটি ভেঙ্গে এখানে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণার স্মৃতি বিজড়িত নারায়ণগঞ্জের জিয়া হলের জায়গায় নতুন ভবন করে সেটার নামকরণ ৬ দফা ভবন করার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। যা নিয়ে রীতিমতো তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিভিন্ন জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন।

 

কিন্তু রমজান মাসে জিয়ার হল ভাঙ্গার বিষয়ে স্থানীয় এমপির আলোচনা ও অনেকটাই কম দেখা গেলে ও সংযমের মাসের শেষ দিকে নাজাতের ২৩ রোজায় রাতের অন্ধকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানে মূর‌্যাল ভেঙ্গে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। যা নিয়ে ইতিমধ্যে শুধু নারায়নগঞ্জ নয় রাজধানী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে।

 

তা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং মহানগর বিএনপি ও তার আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গতকাল (৪ এপ্রিল) খবর পেয়ে দুপুরের দিকে জিয়া হলে ভাঙা ম্যুরাল পরিদর্শনে আসেন এবং সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করে মূর‌্যাল ভাঙ্গার পিছনে ইন্দন দাতা হিসেবে আঙ্গুল তুলছেন স্থানীয় সাংসদ সদস্য প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের দিকে।

 

এদিকে এই জিয়া হলটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান জিয়া হলে থাকাকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে কল দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না এটা ভাঙ্গার বিষয়ে সরকারিভাবে কোন অনুমতি আসেনি।

 

এরপর নেতাকর্মীরা পুরো জিয়া হল পরির্দশন করে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে শহীদ জিয়া’র মূর‌্যাল চাষাড়া শহীদ জিয়া হলে পুনঃস্থাপন করার দাবি জানান। আর তা যদি না হয় শীঘ্রই জনগণকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে এ বিষয়ে কর্মসূচি করার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতের আধারে এই ন্যাক্কার জনক কার্যক্রম নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের হিড়িক দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে।

সূত্র বলছে, গত (৪ ফেব্রুয়ারি) সাংসদ ভবনে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণার স্মৃতি বিজড়িত নারায়ণগঞ্জের জিয়া হলের জায়গায় নতুন ভবন করে সেটার নামকরণ ৬ দফা ভবন করার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। নারায়নগঞ্জের ওই স্থান থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন বলে তিনি জানিয়ে ছিলেন।

 

শামীম ওসমান আরো বলেছিলেন, ‘জাতির পিতা নারায়নগঞ্জে গিয়ে ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে বালুর মাঠ নামে একটি মাঠ ছিল। ৬ দফা ঘোষণা দেওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ওই স্মৃতিকে ভুলিয়ে রাখতে সেখানে নারায়ণগঞ্জ মিলনায়তন নামে একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করেন। পরে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেটাকে আবার জিয়া হল নামকরণ করে। এই জায়গাটি হচ্ছে জেলা প্রশাসকের অধীনে।

 

নারায়ণগঞ্জের মানুষের দাবি জাতির পিতার পদচিহ্ন ওইখানে পড়েছিল, ৬ দফা আমাদের স্বাধীনতার সনদ ছিল।’ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা চাই, ওখানে নারায়ণগঞ্জে আপনার তত্ত্বাবধানে, জেলা পরিষদের মাধ্যমে একটি ভবন হোক এবং সেই ভবনের নাম ৬ দফা ভবন রাখা হোক। তারপর তিনি স্বপরিবারে হজ্ব পালন করতে সৌদি চলে যান। সেখান থেকে হজ্ব পালন শেষে দুবাই গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই জিয়া হল বিষয়ে কথা বলেন এবং সেখানে তিনি বলেন দ্রুত ১ মাসের মধ্যেই এই হল ভেঙ্গে সেখানে ৬ দফা নামকরণ করে নতুন ভবন তৈরি হবে বলে ব্যক্ত করেন।

 

এর পর থেকেই বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা তারা শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন এখানে কোন বালুর মাঠ ছিলো না। বালুর মাঠ ছিলো রাস্তার ওই পাশে যা বিক্রি করা হয়েছে পপুলারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে। এই জমির মালিক হিসেবে পচ্চায় ও জিয়ার নামই রয়েছে। এখানে জিয়ার নাম ছাড়া অন্য কোন নাম দিয়ে নাম করণ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন।

 

এর আগে ২০১৭ সালে নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া চাষাঢ়া মোড় শহরের খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হওয়ায় আর এরই পাশে পরিত্যক্ত পরে থাকা এই জিয়া হলকে অত্যাধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চলেছিলো বলে জানা গেছে, তা ছাড়া এই পরিত্যক্ত হলটি ভেঙ্গে সেখানে  বহুতল ভবন ২১ বা ২৪ তলা করার পরিকল্পনা ছিলো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি ভবনের মতো দৃষ্টিনন্দন করে এ ভবনটিকে গড়ে তোলার আশ্বাস থাকলে ও সেটি আর হয়ে উঠেনি।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হতবাক ও ক্ষুব্ধ। এটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই জিয়া হল নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি যুদ্ধের পর বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি এ দেশকে রক্ষা করেছিলেন। তার নামে এ অডিটরিয়াম যেটা জিয়া হল নামে পরিচিত।

 

এটি নিশ্চিহ্ন করে দিতে সরকারি দলের এমপি শামীম ওসমান সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। এখানে তিনি অন্য কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আজকের এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমানিত হয় এটা সরকারি দলের নীল নকশার মাধ্যমে শহীদ জিয়ার এ ম্যুরাল কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের হৃদয়ে আঘাত দিয়ে এই সরকারি দলের নেতাকর্মীরা নানা সময় এই জিয়া পরিবারকে নিয়ে নানা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু এইবার তারা সকল বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে তারা শহিদ জিয়ার শেষ স্মৃতিতে আঘাত এনেছে। আমরা আর মুখ বুঝে বসে থাকবো না। আমরা যথা সময়ে এটার সঠিক জবাব দিবো। আর যারা নারায়ণগঞ্জে বসে বসে ইন্দন দিয়ে এই কার্যক্রম করাচ্ছে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।  

 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আজকে আমরা দেখেছি সংসদে দাঁড়িয়ে শামীম ওসমান এ কথা বলেছেন। শামীম ওসমান আজকে প্রমান করলেন তিনি আসলেই নারায়ণগঞ্জের গডফাদার। তিনি প্রতিহিংসাপরায়ন। সে শান্তিপূর্ণ কাজ করতে পারে না। রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ ম্যুরাল ভেঙে প্রমান করেছেন তিনি আসলেই সন্ত্রাসদের গডফাদার। তিনি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জে উত্তেজিত করতে চায়।

 

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কতবার ক্ষমতায় ছিল। বঙ্গবন্ধু সড়কসহ কত জায়গায় তার ছবি আছে। তার দাদার নামে স্টেডিয়াম আছে, চুনকা পাঠাগার আছে। আমরা কোথাও হাত দেইনি। তিনি আজ যে কাজটা করলেন আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামী ৭২ ঘন্টায় ম্যুরাল যথাস্থানে না বসালে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিয়ে কর্মসূচি দিবো এবং এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন এমন কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আমি তাকে বলতে চাই এমন কিছু করবেন না যেন নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হয়। এ সরকারই শেষ সরকার নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

 

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, দিনে দুপুরে ব্যাংক ডাকাতি, দ্রব্য মুল্যের লাগামহীনতা, ঘুষ, দূর্নীতি, লুটতরাজ কিছুই তো বন্ধ করতে পারলেন না। শুধু ভোট ডাকাতি আর প্রকল্পের নামে লুটপাট করা ছাড়া। যাই হোক মানুষের আবেগ, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার জায়গায় আঘাত করে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল সরিয়ে উনার নাম পরিবর্তন করে এখানে অন্যকিছু হয়তো ক্ষমতার জোরে এখন করতে পারবেন কিন্তু মানুষের অন্তর থেকে এ নাম কখনো মুছে ফেলা যাবে না যা দিনদিন বাড়বে আর বেড়েই চলেছে।

 

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, রাতের আধাঁরে তারা বাংলাদেশ বিএনপির মনে আঘাত দিয়েছে। তারা রমজানের মাস সংযমের মাসে যে একটি দৃষ্টান্ত জন্ম দিলেন তা দেশের মানুষকে ক্ষিপ্ত করলেন। আমরা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করবো। আর আমরা ফতুল্লা থানা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।

 

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, ক্ষমতার জোরে মূর‌্যাল ভেঙ্গে নাম মুছে ফেলা সহজ কিন্তু যে নাম মানুষের হৃদয়ে আছে তা মুছা সম্ভব না। আমরা এই সরকারের পালিত গডফদারদের এই সকল কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আর আমরা চাই দ্রুত যাতে এই মূর‌্যাল তার নিজ স্থানে স্থাপিত হোক তা না হলে নারায়ণগঞ্জের জনগণ যে আন্দোলনে রাজপথে নামবে সে ভার বইতে পারবে না এই এমপি, মন্ত্রীরা।

 

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, আমাদের চার আসনের এমপি শামীম ওসমান চায়, নারায়ণগঞ্জের বিএনপিসহ আপামর জনতাকে বিভিন্নভাবে উসকানী দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত রাখতে। যার কারণে উনি এই সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। শহীদ জিয়ার এ মূর‌্যাল কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আর যেহেতু সংযমের মাসেই তারা এই উত্তেজিত কর্মকান্ড করছে এর মানে বোঝা উচিত এই শামীম ওসমান বিএনপি নেতাদের উত্তেজিত হতে উসকানী দিচ্ছেন।

 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা এই মূর‌্যাল পুনঃস্থাপনের জন্য ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এটা যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হয় আমরা আন্দোলন করে এটার বিচার করবো ইনশাআল্লাহ।

 

মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলেও তাদের কোন ভাস্কর্য বা মূর‌্যালে হাত দেইনি। কিন্তু তারা আজকে আমাদের হৃদয়ে হাত দিয়ে যে ব্যথা দিলেন সেই ব্যথার জবাব তাদের দিতেই হবে। আর রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তাদের এই জবাব দিবো। আর ইনশাআল্লাহ সামনে এই ক্ষমতাসীন দলের ও কোন ভাস্কর্য বা মূর‌্যাল থাকবে না।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, শহিদ জিয়া দেশের মানুষের জন্য যা যা করেছে তা কখনো মুছে ফেলা যাবে না। তা ছাড়া স্থানীয় সাংসদ সদস্য যে কাজটি করলেন এটি একটি ন্যাক্কার জনক কাজ। আমরা কখনো ক্ষমতা থাকাকালীন এই ধরনের ন্যাক্কার জনক কাজ করেনি। কিন্তু যেহেতু তারা এমন ঘৃনিত কার্মকান্ড শুরু করেছে পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন ভাস্কর্য বা মূর‌্যাল থাকবে না। আর আজকে তারা জিয়া হলের মূর‌্যাল ভেঙ্গে যা করলেন তা আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

 

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর বলেন, শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জকে উত্তেজিত করতে এই সংযমের মাসে বিএনপিসহ নারায়ণগঞ্জের জনগণকে উসকানী দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কতবার ক্ষমতায় ছিল। বঙ্গবন্ধু সড়কসহ কত জায়গায় তার ছবি আছে। তার দাদার নামে স্টেডিয়াম আছে, চুনকা পাঠাগার আছে। আমরা কোথাও হাত দেইনি। তিনি আজ যে কাজটা করলেন আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

 

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘ভবনটি জরাজীর্ণ ছিল। এটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা তাদের ছিল। তবে এখনও এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কে বা কারা ম্যুরালটি ভেঙে সেই বিষয়ে তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সফরকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চাষাঢ়ায় ‘টাউন হল’ নামে ওই মিলনায়তনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এমএ সাত্তার টাউন হল উদ্বোধনের সময় জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে হলটির নাম রাখেন শহীদ জিয়া হল।

 

তবে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মিলনায়তটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন’ রাখা হয়। ২০০১ সালে পুনরায় বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবারও নাম পরিবর্তন করে শহীদ জিয়া হল করা হয়। পরে ভবনটির উপরের অংশে জিয়াউর রহমানের একটি ম্যুরালও স্থাপন করা হয়।

 

এদিকে, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নে শামীম ওসমান জিয়া হলের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করে সেটিকে ‘ছয় দফা ভবন’ করার দাবি জানান।

 

ম্যুরালটি ভাঙার অভিযোগ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি শুনেছি বিষয়টি। ম্যুরালটি ভাঙা হয়েছে কিংবা ভেঙে পড়েছে; দুইটার একটা হতে পারে। কেননা ২০১৪ সালে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন যদি কেউ আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করে সেইটা তার বা তাদের ব্যাপার, এই ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করবো না। কিন্তু হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ। আইন অনুযায়ী তো, তার ম্যুরাল বাংলাদেশের কোথাও থাকার কথা না। যদিও এইটা সরকারি ব্যাপার।’ এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন