বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মরণে নগরীর চাষাঢ়াস্থ জিয়া হলে তৈরিকৃত জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলার ঘটনায় পুরো শহর জুড়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এ ঘটনায় একদিকে যেমন ক্ষোভে পুড়ছেন বিএনপি নেতারা অপরদিকে, বিষয়টি রীতিমতো এড়িয়ে যেতে চাইছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তবে কারও কারও দাবি, যদি দুর্বৃত্তরা জিয়াউর রহমানে ম্যুরল ভেঙে ফেলে থাকে তাহলে তারা ঐতিহাসিক কাজ করেছে!
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে নগরীর চাষাঢ়াস্থ শহীদ জিয়া হলের সামনে ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় জিয়াউর রহমানের স্মরণে নগরীর চাষাঢ়াস্থ জিয়া হলে তৈরিকৃত জিয়াউর রহমানের ম্যুরালটি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কে বা কারা এটা ভেঙেছে সেটা কেউ দেখেনি। অথচ, তারা অযথাই এমপি শামীম ওসমানকে দোষারোপ করছে। আমার মনে হয়, তারা নিজেরাই এটা ভেঙেছে এবং এখন ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মুঠোফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি একটু পরে কথা বলছি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেন, আমি শুনেছি বিএনপি এমপি শামীম ওসমানকে দোষারোপ করছে। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শামীম ওসমান এই সমস্ত ছোট খাটো কাজ করেন না। এই সমস্ত ম্যুরাল ভাঙার জন্য শামীম ওসমান কাউকে অর্ডার দেয় নাই।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের মুর্যল যদি দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলে থাকে তাহলে তারা ভালো কাজ করেছে। আমি বলবো, জাতির প্রয়োজনে তারা ঐতিহাসিক কাজ করেছে। কারণ এইখানে ৬ দফা আন্দোলন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই স্মৃতি বিজড়িত জায়গা নিশ্চিহ্ন করতে প্রথমে টাউন হল এবং জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে জিয়া হল নামে নামকরণ করা হয়। তাই আমি বলবো, যদি দুর্বৃত্তরা জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলে থাকে তাহলে তারা ভালো কাজ করেছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, কে বা কারা কি কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা আমি জানি না। বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলকে দোষারোপ করছেন। কি বলবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বিএনপি চিরচেনা অভ্যাস। এক দল আরেক দলকে দোষারোপ করা এটা রাজনৈতিক একটা প্র্যাক্টিস বলা যায়। সরকারি দল না হয়ে সরকারি কোন কিছু এটার সাথে জড়িত কি না কিংবা বিএনপি কোন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই কাজটা করে নারায়ণগঞ্জে নতুন করে একটা বিতর্কের সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কি না সবকিছুই এখনো পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল বলেন, যারা জননেতা শামীম ওসমানকে দোষারোপ করছে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই তারা কি দেখেছে যে শামীম ওসমান ভাই কিংবা তার অনুসারী বা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ভেঙেছে? এটা সর্বোপরি একটা মিথ্যা কথা। তারা নারায়ণগঞ্জের পরিবেশটাকে নোংরা করার চেষ্টা করছে। জননেতা শামীম ওসমান ভাই কখনো এই নোংরা খেলায় মাতেন না। আমার মনে হচ্ছে, এটা খুবই অস্বাভাবিক এবং তৃতীয় পক্ষের খেলা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু বলেন, আমি এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু শুনিনি। বিষয়টা আগে আমার জানতে হবে। এ সময় এই ঘটনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিবেদক তাকে বুঝিয়ে বলার পর তিনি বলেন, আমি আগে খোঁজ খবর নিয়ে নেই। পরে জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এখনো পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই শুনি নাই। তাই কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বাবু চন্দনশীল বলেন, আমি ফোনে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবো না। আপনি সামনা সামনি আসেন কথা হবে।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এস.এ/জেসি


