Logo
Logo
×

রাজনীতি

বজ্রপাতে জিয়ার ম্যুরাল ভেঙে পড়েছে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫৬ পিএম

বজ্রপাতে জিয়ার ম্যুরাল ভেঙে পড়েছে
Swapno

 

চাষাঢ়ায় অবস্থিত জিয়া হলের উপর স্থাপিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভাঙা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেছেন, নিজে অথবা ঠাডা পড়ে জিয়ার ম্যুরাল ভেঙে পড়েছে। জিয়ার ম্যুরাল ভাঙা হবে এটি আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। শহীদ জিয়ার ম্যুরাল ভাঙা নিয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ শামীম ওসমানের নির্দেশেই ম্যুরালটি ভাঙা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে গতকাল বাদ জুমা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান এই মন্তব্য করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২ তারিখে সভা ডাকা হয়েছে, ৩ তারিখে এটা ভাঙলো। ৪ তারিখে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ৩ তারিখে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভাঙা হলো। এখানে আমাদের প্রবলেম কি। এটা তো প্রশাসনই ভাঙবে, ভাঙতে বাধ্য। ওরা সুকৌশলে এ কাজটি করেছে। কিংবা কাউকে দিয়ে করিয়েছে, কিংবা নিজে নিজে পরেছে কিংবা ঠাডা পরেছে। যদিও ঠাডা পরে নি আমি কনফার্ম। তারা এটাকে নিয়ে ইস্যু করতে চাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের ইতিহাসের বিকৃতি করার চেষ্টা করছে, স্বাধীনতার শক্তির বিপক্ষে থাকছে। এদের জন্য বলবো, আপনারা পারবেন না। এখানে নারায়ণগঞ্জের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি তুলে ধরা হবে। তাদের সবাই আওয়ামী লীগ করতেন না। 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও জেলা টাউন হল কমিটির উপদেষ্টা একেএম শামীম ওসমান বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, টাউন হলে জিয়ার ম্যুরাল থাকবে না, এটা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে কেউ যদি ব্যক্তিগত ভাবে কারো বাড়ির ট্যাংকির ওপর জিয়ার ম্যুরাল লাগাতে চান, তবে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। ঘটনার পেছনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

 

তারা একটি জাতীয় দৈনিকে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে বলেন, শামীম ওসমানের নির্দেশেই তার লোকজন রাতের আঁধারে এই অপকর্মটি করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শামীম ওসমান। তার বিরুদ্ধে আনা বিএনপি নেতাদের অভিযোগের জবাব দিতে তিনি গতকাল বাদ জুম্মা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। জনাকীর্ণ ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের পেপার কাটিং সরবরাহ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব ডকুমেন্টস সাক্ষী হিসেবে রেখে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বিকৃত করতে চাচ্ছেন তারা ব্যর্থ হবেন।

 

শামীম ওসমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমি জাতীয় সংসদে বলেছিলাম, নারায়ণগঞ্জের টাউন হল আমাদের স্বাধীনতার স্তম্ভ। কারণ ৬ দফা যদি স্বাধীনতার স্বপ্ন হয়, তবে এই ৬ দফা থেকেই ১১ দফা এবং এই পথ ধরেই স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং স্বাধীন জাতির স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারায়ণঞ্জের এই টাউন হলেই এক জনসভায় ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন।

 

ঐতিহাসিক সেই সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার পদকপ্রাপ্ত, ভাষাসৈনিক একেএম সামসুজ্জোহা। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠিত এই ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। কাগজে কলমে এখনো এই জায়গার নাম টাউন হলই আছে। এটা জেলা প্রশাসকের সম্পদ। ২০১৪ সালেই জেলা প্রশাসনের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই জায়গার বর্তমান স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো।

 

কিন্তু অতি আওয়ামী প্রশাসনের কারণে গত দশ বছরেও এর কোন সুরাহা হয়নি। কিন্তু আমি জাতীয় সংসদে এ প্রসঙ্গটি তুলে সেখানে ৬ দফা মঞ্চ তৈরী করার প্রস্তাব রাখার পর পরই আমাদের দলের মাননীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আমাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য নাম বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার সাথে অবিচ্ছেদ্দভাবে জড়িয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ। স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু এবং নারায়ণগঞ্জ এই তিনটা নামের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে এখানে একটি মিউজিয়াম করার প্রস্তাব দিয়েছি আমি। জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল তো এখানে থাকারই কথা নয়।

 

কারণ ৫ম সংশোধনীতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। একই সাথে তার কার্যকালকেও অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সুতরাং তার ম্যুরাল এখানে থাকাটাও তো নিয়মবহির্ভূত। কিন্তু যদি কেউ ব্যক্তিগত ভাবে জিয়ার ম্যুরাল তার বাড়ির ট্যাংকিতে রাখতে চান, তবে তো কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। বিএনপি নেতারা নাকি কেন্দ্রে তাদের দাম বাড়ানোর জন্য প্রথম আলোর কাছে বলেছেন, আমার নির্দেশে জিয়ার ম্যূরাল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

 

অথচ জেলা প্রশাসন গত ৪ এপ্রিল টাউন হল কমিটির সভা করেছেন। কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে আমিও সেই সভায় উপস্থিত ছিলাম। সেই সভায় টাউন হলের বর্তমান স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে ৬ দফা মঞ্চ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা তো এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকেই আইনগতভাবেই ভেঙ্গে ফেলা। এ খবর বিএনপি নেতারা জেনে নিজেরাই কাউকে দিয়ে ম্যুরালটি ভেঙ্গে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে একটা ইস্যু তৈরী করতে চাইছেন। টাউন হলে ৬ দফা মঞ্চ হোক, এটা উনারা চাইছেন না।’

 

তিনি বিএনপি নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা ইচ্ছে করলে রাতে কেনো প্রকাশ্য দিনেরবেলায় অনেক আগেই এই ম্যুরাল ভেঙ্গে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। আমাদেরকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। আপনারা আর জ্বালাও পোড়াওয়ের পথে যাবেন না। যদি যান তবে ফলাফল ভালো হবে না।’  

 

শামীম ওসমান বলেন, জিয়াউর রহমানের ম্যুরালটি থাকারই তো কথা না। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। কারণ পঞ্চম সংশোধনীতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এবং তার কার্যকালকে ও রাষ্ট্রপতি পদকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এটা নিয়ে মাথা গরম করি না। জেলা প্রশাসকের একটি চিঠি আমার কাছে আছে। এপ্রিলের ২ তারিখে এটি ইস্যু করা হয়েছে।

 

চিঠিতে বলা হয়েছে ৪ এপ্রিল বেলা ১২টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ টাউন হল নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। আমি তো জানি কি সিদ্ধান্ত হবে এবং তাই হয়েছে। কারণ এটি পরিত্যক্ত ভবন। ‘১৪ তেই এটা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর উপর রাজউকের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় এক নম্বর রয়েছে এটি। টাউন হল যখন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছে। সেখানে আমাদের কি প্রবলেম হবে।’

 

শামীম ওসমান বলেন, যদি কেউ ইতিহাস নিয়ে অপব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে আমরা অবশ্যই তাকে প্রতিরোধ করবো। নারায়ণগঞ্জবাসী তাকে প্রতিরোধ করবে। কিছুদিন আগে এক্সট্রিম লেফ্ট, যারা তাদের সন্তানদের নিয়ে রাজনীতি করে। তারাও কিন্তু একইভাবে চেষ্টা করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেছিলাম প্রমাণ করার জন্য। তারা কিন্তু আর কথা বলেনি।

 

তিনি বলেন, আমি জাতীয় সংসদে বলেছিলাম এখানে ছয় দফার একটা মঞ্চ করা হোক। এখানে নাটক, গান বাজনা, সংস্কৃতির চর্চা হবে। এর বাউন্ডারিতে ‘৪৮ সাল থেকে নিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইতিহাস তুলে ধরা হবে। ওই জায়গায় একটা মিউজিয়ামও করা হবে। আমার সাবজেক্ট হলো- স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু ও নারায়ণগঞ্জ। এই তিন বিষয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হবে। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে ইতিহাস জানতে পারে সে লক্ষে এমন চিন্তা।

 

সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আরও বিস্তারিত বলেন, যখন এরা আমার বিরুদ্ধে কিছু বলে তখন আমি খুশি হই। কারণ আমি বুঝতে পারি যে আমি সঠিক পথে আছি। কিন্তু যদি তারা আমার পক্ষে বলা শুরু করতো তাহলে আমি বুঝতাম যে আমি ভুল পথে আছি। আমি অনুরোধ করবে নারায়ণগঞ্জকে শান্ত থাকতে দেন। নারায়ণগঞ্জবাসীদের থেকে দোয়া চাই যে আমরা যেভাবে চাচ্ছি সেই ভাবেই করতে। যদি এই ৬ দফা মঞ্চ হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জে খুব সুন্দর একটি খোলামেলা জায়গা হবে।

 

আমাদের বাচ্চাগুলো শহীদ মিনারের চিপায় গিয়ে বসে থাকে, তারা অবসর সময় বসার জায়গা পাবে। মিউজিয়ামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংস্কৃতিক চর্চা এবং ঈদের নামাজ হবে। আমরা সকলের কাছে দোয়া চাই যেন এই কাজটা সুন্দরভাবে করতে পারি। জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, অতি সত্বর জন্য কাজটা সমাধান করা হয়।

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও আমাদের ওবায়দুল মুক্তাদির সাহেব আমাকে ভীষণ উৎসাহিত করেছেন যখন এই কাজের কথা তারা শুনেছেন। তারা আমাকে বলেছে যে যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটা করো, এটা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করা দরকার আমাদের সহযোগিতা করবেন। আগামী ১৫ই আগস্ট এই মঞ্চটা কে আমরা উদ্বোধন করবো। তখন আশা করি ওবায়দুল কাদের সাহেব এবং ওবায়দুল মুক্তাদির সাহেবকে সাথে নিয়ে আমরা এই মঞ্চকে ওপেন করতে পারবো।

 

শামীম ওসমানের সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, কার্যকরী সদস্য সালাম খোকনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন