Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভাঙার আন্দোলন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ম্যুরাল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম

ভাঙার আন্দোলন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ম্যুরাল
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ জিয়া হলে রাতের আঁধারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য এ.কে এম শামীম ওসমানকে ম্যূরাল ভাঙ্গার নীল নকশাকারি হিসেবে দায়ী করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ম্যুরাল আবারো যথাযথরূপে পূর্ণস্থাপনের জন্য ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলো।

 

যার সময় গতকালই শেষ হয়েছে কিন্তু এখনো রাজপথে জোড়ালো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি বিএনপির নেতাকর্মীদের। তা ছাড়া প্রথমে ম্যুরাল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে গডফাদারসহ নানা আখ্যার মাধ্যমে হুঙ্কার দিয়ে বক্তব্যে দিলেন বিএনপি নেতারা। তার পরপরই নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একে.এম শামীম ওসমান হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, তারা নাকি ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জনগণ ও আমি তাদের আল্টিমেটামের শক্তি দেখতে চাই।

 

তা ছাড়া ও নারায়নগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াৎ হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে নিয়ে নানা মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন তিনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সদর থানা বিএনপির ইফতার পার্টিতে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু পাল্টা বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, আমরা এবং আমি আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় পাই না আর শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন আর আমি কোন গডফাদার কেউ ভয় পাই না। যা নিয়ে ইতিমধ্যে ঈদের পূর্বেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ।

 

অপরদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েই বিএনপির নেতাকর্মীরা ম্যুরালের আন্দোলনে আছেন শুধু প্রকাশ্যে রাজপথে নেই। তা ছাড়া বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি রাজপথে ম্যুরাল দিয়ে কয়েক দফায় জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখলে ও জেলা বিএনপির নিরবতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

 

সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) জিয়ার ভাঙ্গা ম্যুারাল পরিদর্শনে এসে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র জিয়া হলে পবিত্র রমজান মাসে, রাতের আঁধারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মূর‌্যাল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এতে আমরা মর্মাহত, দুঃখিত, ব্যাথিত এবং ক্ষুব্ধ। জিয়াউর রহমানের মূর‌্যাল ভেঙ্গে মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবে না। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে উনিই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সংসদের দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জে গডফাদার সংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রমাণ দিয়েছে যে উনি আসলেই গডফাদার। উনি প্রতিহিংসা পরায়ন, শান্তিপূর্ণ কাজ করতে পছন্দ করেন না। উনি রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জিয়াউর রাহমানের মূর‌্যাল কেটে সন্ত্রাসীর পরিচয় দিয়েছেন। একই সাথে শহর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও শামীম ওসমানকে টার্গেট করেই বক্তব্যে দেন।

 

তার পরদিনই (৫ এপ্রিল) বাদ জুমা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাষাঢ়ায় অবস্থিত জিয়া হলের উপর স্থাপিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভাঙা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেছেন, নিজে অথবা ঠাডা পড়ে জিয়ার ম্যুরাল ভেঙে পড়েছে। জিয়ার ম্যুরাল ভাঙা হবে এটি আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। শহীদ জিয়ার ম্যুরাল ভাঙা নিয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ শামীম ওসমানের নির্দেশেই ম্যুরালটি ভাঙা হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২ তারিখে সভা ডাকা হয়েছে, ৩ তারিখে এটা ভাঙলো। ৪ তারিখে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ৩ তারিখে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভাঙা হলো। এখানে আমাদের প্রবলেম কি। এটা তো প্রশাসনই ভাঙবে, ভাঙতে বাধ্য। ওরা সুকৌশলে এ কাজটি করেছে। কিংবা কাউকে দিয়ে করিয়েছে, কিংবা নিজে নিজে পরেছে কিংবা ঠাডা পরেছে। যদিও ঠাডা পরে নি আমি কনফার্ম। তারা এটাকে নিয়ে ইস্যু করতে চাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের ইতিহাসের বিকৃতি করার চেষ্টা করছে, স্বাধীনতার শক্তির বিপক্ষে থাকছে। এদের জন্য বলবো, আপনারা পারবেন না। এখানে নারায়ণগঞ্জের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি তুলে ধরা হবে। তাদের সবাই আওয়ামী লীগ করতেন না। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও জেলা টাউন হল কমিটির উপদেষ্টা একেএম শামীম ওসমান বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, টাউন হলে জিয়ার ম্যুরাল থাকবে না, এটা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে কেউ যদি ব্যক্তিগত ভাবে কারো বাড়ির ট্যাংকির ওপর জিয়ার ম্যুরাল লাগাতে চান, তবে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।

 

তিনি আরো বলেন, তারা নাকি ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জনগণ ও আমি তাদের আল্টিমেটামের শক্তি দেখতে চাই। সেই অনুযায়ী ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কোন ভুমিকা দেখাতে পারেনি বিএনপি।

 

এদিকে গতকাল রবিবার (৭ এপ্রিল) বাদ আছর শহরের চাষাড়াস্থ ড্রিংক এন্ড ডাইন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সদর থানা বিএনপির ইফতার মাহফিলে শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আমরা এবং আমি আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। আর আমি কোন গডফাদার কেউ ভয় পাই না। শুধু একটি কথাই বলতে চাই এই শহীদ জিয়ার ম্যূরাল ভেঙ্গে ফেলার কারণে ঈদের পরে সর্বোচ্চ আন্দোলন হবে।

 

এদিকে ঈদের বাকি আর মাত্র দুইদিন এর আগেই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। তা ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য রয়েছে বর্তমানে সংযমের মাসের জন্য আমরা নিরব আছি, কিন্তু ঈদের পর শহীদ জিয়ার ম্যূরাল ভাঙ্গার ইস্যু নিয়ে কঠোর আন্দোলন হবে বলে জানা যাচ্ছে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন