Logo
Logo
×

রাজনীতি

পরনির্ভরতা সাফল্যের অন্তরায়

Icon

ফরিদ আহমেদ রবি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১১:৪৩ পিএম

পরনির্ভরতা সাফল্যের অন্তরায়
Swapno


দেশজুড়ে চলছে উপজেলা নির্বাচন।প্রথম ধাপে বন্দর উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় ভাবে নির্বাচন না হলেও বিভিন্ন দলীয় নেতা নেত্রী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নিজনিজ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সাধারণ কর্মী সমর্থকগণ জোরে সোরে প্রচার প্রচারণাও চালিয়ে গেছে।

 

 

প্রচার প্রচারণায় ধারণা করা হয়েছিল প্রতিদ্বন্দিতা সীমাবদ্ধ থাকবে আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ এবং বিএনপির বহিস্কৃত নেতা দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের মধ্যে।

 

 

জাতীয় পার্টির মাকসুদ হোসেনের ব্যাপারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারনা থাকায় অধিকাংশের ধারণা ছিল সে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতেই পারবে না। অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মাকসুদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এখন চলছে কারণ অনুসন্ধান।

 

 

আতাউর রহমান মুকুলের বিষয়ে সবার ধারণা, দল থেকে বহিস্কৃত হওয়া এবং বিএনপির নির্বাচন বর্জন তাকে কর্মীশূন্য করে দেয়,যা বড় একটি কারণ।তাছাড়া দীর্ঘদিন স্হানীয় সাংসদের আশীর্বাদ পুষ্ট মুকুল সে জায়গাটিও হারিয়েছেন। কিন্তু এম এ রশিদ দলীয় কর্মী, নেতৃবৃন্দ এবং মাননীয় সাংসদের সমর্থন পেয়েও কেন বিপুল ভোটে পরাজিত হলেন।

 

 

একজন দক্ষ প্রবীণ নেতার এমন পরিণতি কেন হলো! উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগও ছিল না যার কারণে ভোটারগণ মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে।এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাক (৯মে) বিশ্লেষণ ধর্মী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

 

 

দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে থাকায় পদ প্রত্যাশী অনেক নেতাই তাঁর পক্ষে আন্তরিক ভাবে কাজ করেন নি। কর্মীদের সাথে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেনি। বন্দরের নেতা কর্মীদের উপেক্ষা করে অধিক মাত্রায় পশ্চিম পাড়ের নেতা কর্মীদের গুরুত্ব দেয়া এলাকাবাসী তথা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।

 

 

নিজ এলাকায় অন্যের আধিপত্য মন থেকে মেনে নেয়া খুবই কঠিন।এ সমস্ত কারণে লোক দেখানো কাজ করলেও বন্দরের অধিকাংশ নেতা কর্মী এম এ রশিদের জন্য আন্তরিক ভাবে কাজ করে নি। মাকসুদ হোসেনের কর্মী সমর্থক গণ এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নিয়েছে।

 

 

সেদিক থেকে বলা যায় মাকসুদ হোসেন যথেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে যা দিতে সক্ষম হননি এম এ রশিদের মত প্রবীণ দক্ষ একজন রাজনীতিবিদ।স্হানীয় মহলের ধারণা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস রশিদ সাহেবের জন্য কাল হয়েছে।নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের আস্হা ভাজন হওয়ার কারণে তাঁর আত্নবিশ্বাস ছিল শীর্ষ নেতাদের বদৌলতে এবারও তাঁর জয় সহজ হবে।

 

 

যা ছিল পুরোপুরি ভুল।অন্যবারের তুলনায় এবারের পৃথক বৈশিষ্ট্যের নির্বাচনে এমপি মন্ত্রীদের সীমাবদ্ধতা ছিল। দলীয় ব্যানারে নির্বাচন না হওয়ায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাকসুদ হোসেন। রশিদ সাহেব শীর্ষ নেতাদের আস্হা অর্জনকে যথেষ্ট মনে করে স্হানীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়তো প্রয়োজন মনে করেন নি আর সে কারণেই স্হানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল যার প্রভাব পড়ে নির্বাচনের ফলাফলে।

 

 

উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সাধারণ ভোটারদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার যে সুযোগ তাঁর ছিল তাও তিনি কাজে লাগাতে সক্ষম হননি বলেই মনে হয়।নয়তো হাজার প্রতিকূলতার মধ্যেও জন সমর্থনে তাঁর জয় ছিল অবধারিত।সাধারণ ভোটারদের সাথে সুসম্পর্ক না থাকা, স্হানীয় নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন না করা সর্বোপরি অন্য এলাকার নেতাকর্মীদের আধিপত্যবাদী আচরণ এমন ফলাফলের মূল কারণ বলে বিশ্লেষক মহলের ধারণা।

 

 

দীর্ঘদিন যাবত প্রতিযোগিতা মূলক নির্বাচনের পরিবর্তে অনেকটা একতরফা নির্বাচন হয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দিতামূলক এবং গ্রহন যোগ্য করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ এমন নির্বাচন সংঘটনে সাহায্য করেছে।

 

 

সাধারণ ভোটারদের যেসব প্রার্থী নির্বোধ মনে করে তাদের ভোট নিজেদের পকেটে আছে বলে মনে করেন তাদের জন্য বন্দর উপজেলা নির্বাচন থেকে শিক্ষা গ্রহণ প্রয়োজন বলে সচেতন মহলের ধারণা।

 

 

নানান প্রতিকূলতার কারণে সব সময় ভোটারগণ স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, তবে সুযোগ আসলে তার সদ্ব্যবহার করতে যে পিছপা হবে না, বন্দরের নির্বাচন তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল!  লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা।    এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন