# বিরুকে ছুঁড়ে ফেলে বাবুর নিকট বাদল
রাজনীতির স্বার্থের খেলায় কে আপন কে পর সেটা বুঝাই দুস্কর। কেননা রাজনৈতিক খেলায় কে কখন কাকে ল্যাং মেরে হোঁচট খাওয়ান সেটা বুঝাই দায়। যেমন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সোনারগাঁয়ের নেতাদের বিরোধকে টার্গেট করে একজনকে ল্যাং মেরে হোঁচট খাইয়ে আরেকজনের পক্ষ নিয়ে সাফাই গাইছেন। আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ওরফে ভিপি বাদলের এমন কান্ডকে অনেকেই বলছেন এটা রাজনৈতিক ডিগবাজি।
সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে প্রথম বারের মত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল। কমিটিতে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সাথে সখ্যতা দেখা যায় ভিপি বাদলের জেলার একজন অপরিচিত মুখ যাকে ডাক্তার হিসেবে সকলে জানেন এবং চিনেন পাশাপাশি আওয়ামী গননার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও স্বাচিপের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন । এমনকি জেলা আওয়ামীলীগের সকল সভা সমাবেশে ভিপি বাদলের পাশেই দেখা যেত ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরুকে। এভাবেই দীর্ঘদিন তাদের একসাথে জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে ভিপি বাদলের সুপারিশে ২০১৭ সালের দিকে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক হন ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরু। এভাবেই জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে উত্থান ঘটান ড. বিরু। পরবর্তীতে ভিপি বাদলকে নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ তথা সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে প্রভাব খাটানোর মিশরে গেলেও ব্যর্থ হন। তবে পূণরায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ড. বিরুকে আবারও শীর্ষ পদে বসাতে চান। কিন্তু তাদের মধ্যে বিগত সময়ে সখ্যতা থাকলেও সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর বাড়িতে বাবুর পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বিরুর বিরুদ্ধচারণ করে বিরুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাবুর পক্ষ নিতে দেখা যায়।
সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর বাড়িতে বাবুর বাড়িতে গিয়ে ভিপি বাদল বলেন, বাবুর মেয়ে যখন মারা যায় আমিও সেই ড. সাহেবকে কল দিয়েছিলাম তিনি কলটি ধরেননি। মূলত, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর মেয়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রন্ত হয়ে মারা গেলে বাবুল ওমর বাবু ড. বিরুকে দোষারোপ করেন। এমনকি রাজনৈতিক এক সমাবেশে তাকে মারতে যান বাবু। সেই বাবুর অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন বিরু। তাছাড়া সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও সেই বিরোধের জেড়ে ড.বিরু বাবুর পক্ষ না নিয়ে মাহফুজুর রহমান কালামে পক্ষ নেন। যার কারণে ভিপি বাদলও বাবুল ওমর বাবুর বাসায় এসে ড.বিরুর সঙ্গ ত্যাগ করার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে ড. বিরুকে খোচা দিয়ে বলেন, কিছু ব্যাঙ কাউয়াকে চিহ্নিত করতে হবে। আসল আর নকল চিহ্নিত করতে হবে। রাজাকারকে বিতাড়িত করতে হবে। রাজাকারদের উৎখাত করতে চাই। তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। বাবু এই এলাকার রাজনীতির জাতীয় নায়ক। জাতীয় বীর বাবু। বাবু ভাইস চেয়ারম্যান ছিলো। সে অনেক ভোটের নির্বাচন করেছে। আমিও ৬ হাজার ভোটে ফেইল করেছিলাম।
বাবু ধৈর্য ধরবে। অনেকেই অকেবার নির্বাচন করার পর পাস করেছে। অনেক ম্যাকানিজমের কারণে তারা এটা পেরেছে। বাবুর ম্যাকানিজমটা হয়তো গুছিয়ে নিতে পারে নাই বাবুর প্রতি মায়াকান্না দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাবু জীবন দিতে প্রস্তুত। বাবু বক্তব্যের মাধ্যমে তার ভক্তদের শান্তনা দিলে আমি কষ্ট পাবো। বাবুর প্রয়োজন আছে। নির্বাচনে কালাম যেমন পাশ করেছে আমি বলবো বাবুও তার ভক্তদের মাঝে বিজয়ী হয়েছে। বাবুকে হারাতে চাই না। আমি দোয়া চাই বাবুর পক্ষে। ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। মানুষ চিরদিন এক জায়গায় থাকে না। কিছু খলনায়ক আছে। যারা অন্য এলাকা থেকে এসে মাথা ঘামান। এটা বন্ধ করতে হবে। ওরা যেন খলনায়ক হিসেবে কাজ করতে না পেরে।


