Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিরোধিতা ঠেকাতেই নির্বাচন স্থগিত!

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০৬:১১ পিএম

বিরোধিতা ঠেকাতেই নির্বাচন স্থগিত!
Swapno


# নিজাম-সাজনু প্রার্থী হলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

সারাদেশে উপেজলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী লীগের লোক লড়াই করেছে। তবে উপজেলা নির্বাচনে এমপিদের প্রভাব বিস্তারের জন্য বারণ করা হলেও তা কেউ মানেন নাই। দলীয় হাই কমান্ডের নিষেধাজ্ঞার পরেও এমপিরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করা জন্য প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের এমপির এই দিক দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেও ব্যার্থ হন। বিশেষ জেলার বন্দর এবং সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় এমপিরা প্রভাব বিস্তার করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে না পেরে নিজেরা বেইজ্জতি হয়েছেন। সেই সাথে দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এমপিদের অনুসারীদের মাঝে বিভক্ত তৈরী হচ্ছে। সেই সাথে বিতর গত ভাবে কোন্দল বারছে। প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা পরবর্তিতে স্থগিত করা হয়। আর এনিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে বলাবলি হচ্ছে সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারীদের মাঝে কোন্দল বাড়তে পারে বলে এখানে নির্বাচন হোক তা চান না। কেননা সদর উপজেলা নির্বাচনে যারা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে  জানান দিয়েছে তারা প্রত্যেকেই এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন করেছে। বিশেষ করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন স্থানীয় এমপি কায়সার হাসনাতের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন বাবুল ওমর বাবু। তিনি নির্বাচন মাহফুজুর রহমান কালামের সাথে লড়াই করে পরাজীত হয়েছে। এমপির সমর্থনের বিপক্ষে গিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান হয়েছেন মাহফুজুর রহমান কালাম। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। এই উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন দ্বি খন্ডিত হয়ে রয়েছে। আর এতে করে বিতরগত ভাবে দলের মাঝে কোন্দল বাড়তে যাচ্ছে। তা যেন কোন সময় প্রকাশ হতে পারে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান নির্বাচনী এলাকা নিয়ে সদর উপজেলা গঠিত। তাই এই উপজেলায় যারা চেয়ারম্যান হতে চান তারা প্রত্যেকেই শামীম ওসমানের আশীর্বাদ নেন আগে। সদর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এইজনপ্রতিনিধিকে যেন ব্রিবত করা হয় তার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সোনারগাঁয়ের মতও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে কোন্দল তৈরী হয়ে এক উত্তেজনা পরিবেশ হতে পারে। আর এজন্য স্থানীয় এমপি চান না সেই উত্তেজনা তৈরী হোক। তাই সচেতন মহল মনে করছেন এজন্য তার ইশারায় এখানকার নির্বাচন আটকে আছে। তাছাড়া তিনিও চান না তার অনুগত নেতাকর্মীদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরী হোক। এমনকি দলের মাঝে কোন্দল হোক।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম। তার সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠে রয়েছেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু। তারা দুজনেই এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুগত কর্মী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন। তারা দুজনেই সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে দলের মাঝে বিশৃঙ্খলা তৈরী হতে পারে বলে মনে স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। আর সাংসদ শামীম ওসমান চান না এখানে বিশৃঙ্খলা তৈরী হোক।  

এছাড়া দেখা গেছে সারা বাংলাদেশে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ছিল এবং এ সমস্ত নির্বাচন গুলোর আগে এবং পরে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জ তার বড় উদাহরণ। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর প্রার্থী। এখানেই ঘটনার শেষ হতে পারতো, কিন্তু তা হয়নি। নির্বাচনের পর লিকুর পক্ষের লোকজন শেখ সেলিমের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং সেখানে একজন মারাও যান। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানা যায় এবং এই ক্ষোভের কারণে শেষ পর্যন্ত গাজী হাফিজুর রহমান লিকু সহকারী একান্ত সচিবের পদ হারিয়েছেন বলে কেউ কেউ মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জে সদর উপজেলা নির্বাচন কোন ধরনের কোন্দল, কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরী হোক সাংসদ শামীম ওসমান তা চান না। আর এজন্য তিনি নিজেকে নিরাপদে রাখার জন্য এখানকার নির্বাচন তফসিল ঘোষনা হওয়ার পরে তা আপিল ডিবিশনে শুনানি রেখে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্থগিত রেখেছে। নির্বাচন না হওয়ার পিছনে তার কলকাঠি রয়েছে তা বুঝতে কারো বাকি নেই। তার পরেও স্থানীয়রা চান সদর উপজেলা নির্বাচন যেন হয়। অন্তত এখানকার নির্বাচনের মাধ্যমে হলেও যেন ফতুল্লা মানুষ পানিবন্দি থেকে মুক্ত হন। তাই সদর উপজেলা নির্বাচনের জন্য এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় মানুষ জন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন