নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে একের পর এক সমীকরণ। যা নিয়ে নেতাকর্মীরা ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে পরছেন। তা ছাড়া বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। যার কারণে দফায় দফায় অবমূল্যায়িত হচ্ছে গিয়াস বলয়ের নেতাকর্মীরা।
বিগত দিনে জেলা বিএনপির সকল আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল পোগ্রাম নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রিক বা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বেশি ভাগ হতে দেখা গেলে ও বর্তমানে সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের অবর্তমানে না:গঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতি রূপগঞ্জ ও ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। এদিকে জেলা বিএনপির বর্তমান দায়িত্ব রয়েছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর আন্ডারে। সেই অনুযায়ী তিনি জেলা বিএনপিকে শো-অফ সংগঠন তৈরি করতে গিয়ে কোনঠাসার দিকে ফেলছেন।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা বিএনপির ব্যানারে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার সভাপতিত্ব করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। আর এই পোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের বাহিরে রূপগঞ্জ কাঞ্চণ পেরিয়ে ৩০০ ফিট জিন্দা পার্কে। যা নিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তা ছাড়া এই পোগ্রামে যারা দিপু ভূঁইয়া ও গোলাম ফারুক খোকন বলয়ের তাদেরকেই দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো। এর বাহিরে আর আড়াইহাজার, সোনারগাঁসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনেরসহ সভাপতি গিয়াসের বলয়ের পছন্দের বহু নেতাকর্মীকে এই দোয়ার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া হয়নি যা নিয়ে তৃণমূলে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
সূত্র বলছে, গত ২০২২ সালের (১৫ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্যসচিবসহ কমিটিতে ছিলেন ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, শহিদুল ইসলাম টিটু, খন্দকার মাশুকুল ইসলাম রাজিব, লুৎফর রহমান খোকা, মোশারফ হোসেন ও জুয়েল আহমেদ।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের (১৭ জুন) জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনকে সভাপতি ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু নানা গাফলতিতে ১১ মাসে ও হয়নি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যাকে ঘিরে বর্তমানে দুই নেতায় চলছে জেলা বিএনপির রাজনীতি। এ দিকে সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন কারাগারে থাকায় সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন ও তার নেতা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু নিজেদের মনগড়াভাবে সংগঠন পরিচালনা করছেন।
এ দিকে জেলা বিএনপির এই আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত জেলা বিএনপির জেলা ভিত্তিক পোগ্রাম রূপগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রিক হয়নি। কিন্তু এবার গিয়াসের অবর্তমানে তারে নাড়ে অবস্থায় চলছে জেলা বিএনপির রাজনীতি। গত ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে শহর ছেড়ে ঢাকাস্থ ৩০০ ফিট এলাকার জিন্দা পার্কে জেলা বিএনপির ব্যানারে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আর এই পোগ্রামের সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। তিনি কিভাবে জেলা বিএনপিকে রূপগঞ্জ নিয়ে এসে ফেললেন সেটাই বলছে নেতাকর্মীরা। সকলেই তাদের এই নিতি দেখে হতভাগ বিসম্মিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী নিয়ে এতো দিন জেলা বিএনপির কাউর কোন মাথা ব্যাথা দেখা যায়নি। কিন্তু গত ২৯ মে বিকালে হঠাৎ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোকন ভাই কল করে বলে। জেলা বিএনপির ব্যানারে আগামী কাল পোগ্রাম আছে ৩০০ ফিটের জিন্দা পার্কে।
পরবর্তীতে আমি তাকে বললাম ভাই সব সময় তো শহরে প্রোগ্রাম হয়। এবার এতো দূরে তখন তিনি আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে বলেন, তুমি না আসলে নাই, অনুষ্ঠান এই জিন্দা পার্কেই হবে। আমার ও এলাকায় নানা পোগ্রাম ছিলো কিছু করার নেই সব ছেড়ে জেলা বিএনপির পোগ্রামে অংশগ্রহণ করলাম। যাকে ঘিরে আমার বহু নেতাকর্মীদের দুস্থদের মাঝে বিলানো সেই রান্না করা খাবার নষ্ট হয়েছে। আমি না আসতে পারায় অনেকে এখন আমার কল ধরে না। দলের এই দূ:সময়ে ও তো নেতাকর্মীদের সাথে এই দ্বিমুখী আচরণ ভড্ড কষ্ট লাগে। তিনি আরো বলেন, গিয়াস সাহেব থাকলে কখনো জেলা বিএনপির পোগ্রাম ওই অদূরে দিতো না। কিন্তু দিপু ও খোকন জেলা বিএনপিকে রূপগঞ্জ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে পরিণত করতে চায়। এন. হুসেইন রনী /জেসি


