নারায়ণগঞ্জ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে কয়েকভাগে বিভক্ত করে রেখে সুবিধা অর্জনকারী বিতর্কিত নেতা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। বিগত দিন থেকেই বিএনপির মূল দলের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর যুবদল-ছাত্রদলের সকল কমিটি নিজের জিম্মিতে রাখতে তৈরি করে নানা লবিং ও গ্রুপিং। কিন্তু এবার তিনি আরেকটু ভিন্ন রূপ নিয়েই মাঠে নেমেছেন।
জানা গেছে, গত মাসেই লন্ডন গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আর সেই সাক্ষাৎ মুহুর্ত্বের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে। নিজেকে তারেক রহমানের ঘনিষ্টজন হিসেবেই জাহির করতে চাচ্ছেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতারা ও তারেক রহমান ও আজাদের এমন মধুর সম্পর্কের ছবি দেখে অনেকটাই নড়ে চড়ে বসেছেন। সেই ফয়দা লুটতে তারেক রহমানের নাম বিক্রি করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ঘিরে নতুন ফাঁদ পাঁতছে আজাদ। গত (৩০ মে) জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে টানা দুই দিন যাবৎ মহানগরীর শহর-বন্দরসহ জেলার আওতাধীন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।
আর বিভিন্ন পোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেই সেই এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে রসালো বক্তব্যে দিয়ে মধু ছড়াচ্ছেন এই নজরুল ইসলাম আজাদ। আর সকল নেতাকর্মীদের বলে যাচ্ছে শুধু মূল দল নয় একটি ওয়ার্ড বা তাও নয় বিএনপি করে এমন যদি একজন আমার কাজ থেকে যে কোন সহযোগীতা চায় আমি তার প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবো। তার এই ভেল্কিবাজিতে ইতিমধ্যেই বহু নেতাকর্মীকে আসক্ত হতে যাচ্ছে, যারা এতো দিনে তার বিরুদ্ধে কথা বরতো তারা এখন আজাদের গুনগান গাওয়া শুরু করেছে।
এমনকি বিগত দিনে তার সেই মধু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু একা খেলে ও এখন আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে সেই মধুর মিষ্টি অনেকটাই ভালো লেগেছে। তা ছাড়া গত (৩১ মে) পদবঞ্চিত জোসেফের আয়োজিত জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বাষির্কীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন নজরুল ইসলাম আজাদ। আজাদের পিছ ধরে গত ৯ মাসের শত্রু জোসেফের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত মহানগর বিএনপির সাখাওয়াত-টিপু।
যা নিয়ে বেশ সমালোচনার ঝড় উঠছে। এমনকি আজাদ জোসেফকে আশ্বাস ও দিয়ে এসেছেন মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে সুপার ফাইভের মধ্যে রাখা হবে। আর পরবর্তীতে মহানগর যুবদলের কমিটিতে রদ-বদল আসলে আগামীর মহানগর যুবদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জোসেফ। মহানগরের পাশাপাশি বর্তমানে আজাদের পাঁতা ফাঁদে পা দিয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু আর সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী বিগত দিন থেকেই আজাদের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহসহ আরেকটি নয়া বলয় তৈরি হয়েছে আজাদের। এদিকে বর্তমানে মহানগর যুবদল ও জেলা যুবদল, জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল, মহানগর ছাত্রদল এই সকল কমিটি আজাদের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে মহানগর বিএনপি ও আজাদমুখী হয়ে গেছেন। অপর দিকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের থেকে শুরু করে জেলা ও মহানগর সকল অঙ্গসংগঠনের কমিটি আবারো বিভিন্ন ইস্যূতে বিলুপ্ত হয়ে নতুন কমিটির অনুমোদন হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তার বলয় দিয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে বানিজ্যে করে সাজানোর মূল পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে মধু ছড়িয়ে যাচ্ছেন এই বিতর্কিত আজাদ।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতে কোন পদ-পদবী না থাকলেও বিগত কয়েক বছর ধরে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন আড়াইহাজারে এক বিতর্কিত নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ। এর আগেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও স্থানীয় পাওনাদারদের হামলার শিকার হন নজরুল ইসলাম আজাদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিএনপির এমন চরম দু:সময়ে রাজনীতির নামে বাণিজ্যের দোকান খুলে বসা আজাদ তখনই পদ দিতে না পারায় পদবঞ্চিতদের হামলার শিকার হন তিনি। কিন্তু পদ-বাণিজ্যের রীতি ইতিমধ্যে ধরে রেখে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
এ দিকে বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় গ্রুপিং লবিং আর টাকা খরচ করে মনোনয়নও হাসিল করে নেন সুচতুর আজাদ। মনোনয়ন পাওয়ার পর পরই হাতিয়ে নেন নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা। তাছাড়া তিনি বিদেশ নেওয়া, সুদের নামে, ব্যবসায় মুনাফা দেওয়া ও পার্টনার করে নেওয়ার নামে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমান অর্থ; যা রীতিমত ফাঁস হয়ে বিভিন্ন সমালোচনা সৃষ্ঠি হয়েছিলো। এদিকে গত আন্দোলন থেকে রাজপথে আছেন এই আজাদ।
এক বার নিস্কিয় আবার সক্রিয় দুইভাবেই রাজনীতি পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু এবার জিয়াউর শাহাদাৎ বার্ষিকীকে ইস্যূ করে হাঁট ঘাট বেঁধে নেমেছে আজাদ। বিভিন্ন জায়গায় মধু ছিটিয়ে বক্তব্যে দিয়ে ভস করছে নেতাকর্মীদের। বর্তমানে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপরে ভর করে সদর-বন্দর নিজ আওতায় ফাইনাল করেছেন। আর টিটু ও রিয়াদকে দিয়ে ফতুল্লায় তৈরি করছে বিএনপির আরেক আজাদ বলয়। সর্বশেষ এই আজাদের কারণে সামনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।


