নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের কমিটির নামে এক প্রকার সংগঠনের দোকানদারীতে ব্যস্ত শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক। কেননা জেলা শ্রমিকলীগের দায়িত্বে থেকেও শ্রমিকদের অধিকার আদায় এবং শ্রমজীবিদের নিয়ে তাদের কোন চিন্তাধারাই লক্ষ্য করা যায় না। সম্প্রতিকালে সর্বদাই ছিলেন তারা জেলা শ্রমিকলীগের শীর্ষ পদ আঁকড়ে দরে রাখার মিশনে।
তবে শেষতক তাদের মন ভাসনা শেষতক পূর্ণও হয়। কেননা তারাই হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের পূর্ণাঙ্গ ৩৭সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বভার নিয়েও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় সহিংসতায় পার্টি অফিস ভাঙচুর বঙ্গবন্ধুর ম্যুড়াল ভাঙ্গা হলেও তাদের টনক নড়েনি। অথচ, নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য বিভিন্ন সময় সভা করে নানা রকম মন্তব্য করে গলা ফাঁটাতেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক।
আওয়ামীলীগের প্রতিকূল মহুর্ত্বে জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদিরকে রাজপথে দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক কালের সভা সমাবেশে প্রতিনিয়ত দেখা মিলছে জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদিরের। সূত্র বলছে, জেলা শ্রমিকলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের গ্যাপ থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের নেতৃত্বে আসার ফাঁদ পাতেন ব্যাংক কাদির। সেই আলোকে জেলা শ্রমিকলীগের নেতৃত্বে আসতে শ্রমিকলীগের সম্মেলন প্রস্তত কমিটির আহ্বায়ক হয়ে যান। পরবর্তীতে আহ্বায়ক হয়েই শ্রম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতাদের কাছে নিজেকে জেলা শ্রমিকলীগের শীর্ষ নেতা দাবি করতে থাকেন আব্দুল কাদির।
এমনকি বিভিন্ন সময়ে নামে মাত্র সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার নীল নকশা এঁকেছিলেন জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক। যার কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাশ সমাবেশ বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষতক জেলা শ্রমিকলীগের কমিটির নামে এক প্রকার সংগঠনকে দোকানদারীতে পরিণত করা নেতারাই নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের ৩৭সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হয়ে নেতৃত্বে আসেন।
তবে তাদের নেতৃত্বে আসার কিছুদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ব্যাপক তাণ্ডব চললেও শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করলেও বিশাল কর্মী বাহিনী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও তাদের সেই প্রতিকূল মুহুর্ত্বে রাজপথে খুঁজে পাওয়াই ছিল দুস্কর। এছাড়া আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিকলীগ হলেও মূল দলের সহায়ক হিসেবে কোন প্রকার ভূমিকাই রাখতে পারেনি জেলা শ্রমিকলীগ।
এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় সহিংসতায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পার্টি অফিস ভাঙচুর বঙ্গবন্ধুর ম্যুড়াল ভাঙ্গা হলেও সেসময় জেলা শ্রমিকলীগ নেতাদের কোন প্রকার প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। অথচ এই প্রতিকূল মুহুর্ত্ব অতিক্রম হওয়ার পর অত্যান্ত সক্রিয়তার সাথে দলীয় বিভিন্ন প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে এবং আগষ্ট মাসের শোক র্যালীতে গুটি কয়েক নেতাদের দিয়ে শোডাউন করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও শ্রমজীবিদের নিয়ে সংগঠন করলেও কোটা আন্দোলনের সময় কর্মহীন হয়ে পড়ায় শ্রমজীবিদের পাশে দাড়ানোর দলীয় নির্দেশনা থাকলেও শ্রমজীবিদের পাশে সহায়াতা নিয়ে দাঁড়াননি কাদির-সিরাজ। কিন্তু শ্রমিকলীগের কমিটির দোকানদারী বাঁচাতে ঢিলেঢালা দলীয় সভা সমাবেশে গুটি কয়েক নেতাকর্মী নিয়ে ঠিক অংশগ্রহণ করছেন।


