বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় বা তার পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টি জনপ্রতিনিধিদের কোন রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। অথচ, জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের থেকে জাতীয় পার্টি নেতাদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা যায়।
এমনকি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর ভর করেই জাতীয় পার্টির নেতারা তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার করেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রতিকূল মুহুর্ত্বে জাতীয় পার্টিকে ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে কখনই দেখা যায় না। যার কারণে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় বা তার পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা ‘সাইলেন্ট মোডে’ রয়েছেন। সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ জুড়ে জাতীয় পার্টির ছিল অবাধ নিয়ন্ত্রণ।
কেননা নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুইটি আসনেই ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে জোটগত কারণে মুঠো বন্ধি করেন জাতীয় পার্টি। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটগত হিসেব নিকেশ না থাকায় দুটি আসনের মধ্যে একটি আসন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি হাতছানি হয়ে যায়। তবে এ যাবৎকালে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে জাতীয় পার্টির প্রভাব বিস্তার ছিল আওয়ামীলীগের কাঁদে চড়েই।
কারণ নারায়ণগঞ্জের প্রচীনতম বলয় উত্তর বলয়ের নেতৃত্বদানকারী ওসমান পরিবারের দুজনই জাতীয় পার্টির টিকিটে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছেন। কিন্তু এরমধ্যে একজন আওয়ামীলীগের টিকিটে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন। যার কারণে নারায়ণগঞ্জে কেবল ওসমান পার্টি ওসমান লীগ বলেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসাইন মো. এরশাদ।
যার কারণে সম্প্রতিকালে ওসমান পরিবারের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে মাথা তুলে দাড়াতে সুযোগ করে দিতেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যেটা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়ই দেখা গিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের সময় আসলেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানকে আওয়ামীলীগের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ও সে সংগঠনের নেতাদের নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করেন।
তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিকূল মুহুর্ত্বে থাকেন সাইলেন্ট মোডে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা সাংসদ থাকাবস্থায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিবাদে আওয়ামীলীগ শান্তি মিছিলের কর্মসূচি দিলে তিনি পালন করতেন। এমনকি একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটগত কারণে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার করেছিলেন।
অথচ, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় নারায়ণগঞ্জজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা তাণ্ডবে আওয়ামীলীগ অফিস ভাঙচুর বঙ্গবন্ধুর ম্যুড়াল ভাঙা ও সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা হলে এসকল কান্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ দুই নেতা কোন প্রকার মন্তব্যই করছে না। কিন্তু তাদের প্রয়োজনে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ দলগুলোর বিভিন্ন কান্ড নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে সম্প্রতিকালের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একপ্রকার ‘সাইলেন্ট মোডে’ রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির নেতারা। এছাড়া জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো: আফজাল হোসেনকে রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডেই লক্ষ্য করা যায় না।


