গত ১৫ জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংসতা রূপ নিয়ে তা যেন এখনো অব্দি পর্যন্ত কোন ভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তবে জেলা পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও ঢাকাতে তা নেই। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র কের নারায়ণগঞ্জে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছ্ েযেন কোন ভাবে পুরনীয় নয়। আওয়ামী লীগের দাবী বিএনপি জামাতের তান্ডবকারীরা এই জালাও পোড়াও, হামলা, তান্ডব চালিয়েছে।
আওয়ামী লীগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রংপুরের এক সভাপি গিয়ে বলেছেন বিএনপির তান্ডবের সময় আওয়ামী লীগের নেতারা কোথায় ছিলেন। ঠিক তার একই প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জের বেলাও চলে। কেননা এখানে যখন দুই দিন হামলা, তান্ডব, এমনকি জেলা মহাগর আওয়ামী লীগের কাযালয় পুড়িয়ে ফেলা হলো তখন স্থানীয় নেতাকর্মীরা কোথায় ছিলেন। তারা নিজেদর অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঠেকাতে ব্যার্থ হয়েছেন। তাছাড়া জেলার থানা, মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের কোন নেতাকর্মীকে মাঠে থাকতে দেখা যায় নাই।
এদিকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগে পদদারী নেতারা বলেন, বিএনপির যে কোন তান্ডব ঠেকাতে তারা সর্বদা মাঠে প্রস্তুত রয়েছেন। অথচ কাজের বেলা শুন্য। সম্প্রতি বৈষম বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে একাধিক মতবিনিময় সভা করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। তবে ভাববার বিষয় হলো ১৯ জুলাই যখন বিএনপির তান্ডব ঠেকাতে সাংসদ শামীম ওসমান মাঠে নেমেছেন তখন তার যারা সৈন্যবাহিনী কিংবা মুল হাতিয়ার হিসেবে যার্ াভুমিকা রাখবেন বলে কথা দিয়েছে তাদেরই দেখা যায় নাই।
তাদের অনেকের কর্মকান্ডে দলের দুঃসময়ে ফাকিবাজি ফুটে উঠেছে। আর ফাকিবাজিই করবে না কেন। অনেকেই বিভিন্ন সাইড থেকে অর্থ কামিয়ে বিত্তশালি হয়ে নিজেকে বুঝাতে চান তাদের কিছু নেই। সাধারনত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইয়াছিন মিতালী মার্কেটের ৮৬ কোটি টাকা আত্মসাত করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই নেতা এমপি শামীম ওসমানের সৈনিক হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। এছাড়া সিদ্বিরগঞ্জের যুবলীগ নেতা নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউরে রহমান মতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় চার্জশীট রয়েছে।
অপরদিকে সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ৩০ জুলাই শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কয়েকটা দিন কেউ ফাকিবাজি করবেন না। যদি ফাকিবাজি করেন তাহলে নিজেরাই বাচঁবেন না। আমি সমাবেশ করার কথা জানালে নেত্রী তা না করে প্রত্যেককে পাড়া মহল্লা ওলিগলিতে পাহাড়া দিতে বলেছেন। অনেক হাইব্রীড ঘরে বসে আছে। মনোযোগ দিয়ে শুনেন আজকের রাত স্বাভাবিক রাত না।
সাইনবোর্ড,চিটাগাংরোড এলাকা যারা থাকেন তারা প্রস্তুত থাকবেন। তার দুই দিন আগে সাংসদ শামীম ওসমান আরেক সভায় বলেছেন আগামী ১ মাসের মাঝে আবারও ঝরের গতিতে হামলা আসবে। আর এজন্য আমাদেরকে এখন থেকে মাঠে পাহারা থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীর বক্তব্য নিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জে চিরচেনরুপে বিশ্লেষন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছে তার বক্তব্য প্রমান করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ফাকিবাজি করেছেন। কিন্তু অর্থ কামানোর বেলায় কেউ ফাকিঝুকি করেন নাই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে নেতাকর্মীরা প্রত্যেকেই যেভাবে সুযোগ পাইছে সেদিক দিয়ে টাকা কামিয়েছেন।
তাই ক্ষমতাসীন দলের তৃনমূল কিংবা যারা এই ১৬ বছর যাবত নিগৃহীত,অবহেলিত ছিলেন তারাই বা এখন কেন দলের প্রয়োজেন এসে রাস্তায় দাড়াবেন। আর যারা চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী, ভুমিদস্যু কর্মকান্ড চালিয়ে অর্থবিত্তের মালিক হয়ে আঙুল ফুলে কালগাছ হয়ে গেছে তারাই বা এখন কেন মাঠে নামেন নাই। উল্টো ফাকি দিয়ে নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত রয়েছেন।
জানাযায়, সাংসদ শামীম ওসমানের বক্তব্য কালে আওয়ামী লীগের অর্থবিত্তশালী বনে যাওয়া অনেক নেতাকর্মীই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন সকলেই নিরব ছিলেন। আবার সেখান থেকে এসে এখন বলছেন বিএনপি জামাত আবার হামলা চালাতে আসলে তারা শক্ত হাতে তা প্রতিরোধ করবে। এছাড়া ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী এই সভায় উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ হয়েছে। এই নেতা বিএনপির আমলে মাত্র ৮ শত্ংাশ জায়গার মালিক থেকে এখন প্রায় দেরশ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বনেগেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য রয়েছে। এছাড়া ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরীফুল হক, লিটন আহমেদ, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মান্নান এখন অর্থ বিত্তের মালিক বনেগেছেন। দলের দুঃসমেয় তাদের ফাঁকিবাজি ফুটে উঠেছে। তাদের মত আর অনেক নেতাকর্মী ফাকি দিয়েছেন। তাদের মত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন কয়েকটা দিন ফাঁকিবাজি কইরেন। আর নয় বাচবেন না। নেতাকর্মীরা তার কথা কতুটুক মনে রেখে মাঠে থাকবে তা এখন দেখার বিষয়।


