Logo
Logo
×

রাজনীতি

সন্ত্রাসী শাহ নিজাম ছিল লাগামছাড়া

Icon

আরিফ হোসেন

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৪, ১২:২২ এএম

সন্ত্রাসী শাহ নিজাম ছিল লাগামছাড়া
Swapno

 

 

# শামীম ওসমানের সকল সন্ত্রাসীদের শাহ নিজামকে প্রতি মাসেই দিতে হতো মোটা অঙ্কের টাকা

 

নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের অত্যান্ত আস্থাভাজন ও তার সকল অপকর্মের হাতিয়ার ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পদ সন্ত্রাসী শাহ নিজাম। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক যার রাজনৈতিক কতৃত্ব থাকার কথা থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন ফতুল্লাতেই সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ফতুল্লা ও কুতুবপুর ইউনিয়নেই তার সবচেয়ে বেশি দখলদারি, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদকব্যবসা সহ নানান অপকর্ম সংগঠিত হতো এই শাহ নিজামের সন্ত্রাসী বাহীনির দ্বারা।

 

আর এই সন্ত্রাসী বাহীনির মাধ্যমে প্রতি মাসেই শাহ নিজাম একটি মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা ভোগ করতেন। এমনকি শাহ নিজাম নিজেই অনেক ভূমিদস্যুতা সরাসরি তিনি নিজে থেকে করাতেন। বিশেষ করে এ সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার জন্য তাদের এক একটা এরিয়া ভাগ করে দিয়েছেন এই  সন্ত্রাসী শাহ নিজাম।


এমপি শামীম ওসমান ও শাহ নিজামের নাম ভাঙ্গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভূইগর সাইনবোর্ড এলাকায় দাবড়ে বেড়াচ্ছিল। আর এই সকল সন্ত্রাসীদের মধ্যে সাইনবোর্ড, ভূইগড়, মাহমুদপুর, রঘুনাথপুর  এলাকার মধ্যে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদকব্যবসাসহ সকল  কার্যক্রম চালিয়ে যেত। বিশেষ করে এ সকল এলাকাতে সাইনবোর্ড শান্তিধারা ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজ্জাক ব্যপারী, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ বেপারী , আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন, আওয়ামী নেতা রুহুল আমিন,

 

মাখন চন্দ্র সরকার, কুতুবপুরের প্যানেল চেয়ারম্যান আল মামুন মিন্টু ভূইয়া, শাহ আলম, ছোবাহান  সহ আরও বেশ কয়েকজন পাতি নেতা সহ বেশ কয়েকজন এই সকল এলাকাতে সর্বক্ষনিক অপকর্মে জড়িত থেকে সাধারন মানুষের ওপর অত্যাচার করে যেতো এমনকি সাইনবোর্ড ভূইগড় এলাকায় কোন ধরনের জমি অথবা বাড়ি করতে গেলে তাাদেরকে চাঁদা না দিলে সেখানে বাড়িঘর তো দুরের কথা একটা ইটও লাগাতে পারতো না। সাইনবোর্ড এলাকায় সকল অপকর্মের নেতৃত্বের প্রধান ছিলেন রাজ্জাক বেপারী আর তার নেতৃত্বেই সাইনবোর্ড এলাকায় জায়গা দখল, সাধারন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা, মাদকব্যবসাসহ নানান অপরাধ সংগঠিত হলো। এমনকি প্রতিবছর গরুর হাট থেকে কোটি কোটি টাকা ইনকামের পারসেন্টেস পেতেন সন্ত্রাসী শাহ নিজাম।


অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন ভূইগর ,মাহমুদপুর এলাকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো তার নিয়ন্ত্রনে জমি দখল, মাদক ব্যবসা ,চাঁদাবাজি সহ সকল কিচুই তারই নিয়ন্ত্রনে ছিলো। তিনি এলাকায় শাহ নিজামের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিতেন শাহ নিজাম। তবে তাদের সকলকে ছাড়িয়ে ভূইগর এলাকায় সবচেয়ে বেশি দখলবাজ হিসেবে পরিচিতি ছিলো কুতুবপুরের প্যানেল চেয়াম্যান আল মামুন মিন্টু ভূইয়া।

 

তার বাড়িকে কিছুদিন পরই দাওয়াত দিতেন নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও শাহ নিজামকে । মিন্টু ভূইয়া এলাকায় অনেকে অসহায় মানুষের জমি দখল করে তাদেরকে রাস্তায় বসিয়েছে। শুধু তাই নয় তার এই সকল অপকর্মের সহয়োগীতা করতেন শাহ নিজাম। আর এই সকল কিচুর বাগবাটোয়ারা করা হতো নম পার্কে।


শাহ নিজামের আবেক সন্ত্রাসী কুতুবপুরের ইউনিয়ন সেচ্ছসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মীর হোসেন মীরু যিনি কুতুবপুরের মাদকের সম্রাট হিসেবেই পরিচিত ছিলো। সাবেক এমপি শামীম ওসমান তার এই মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকবার হুঁশিয়ারি করলেও তার কথাও শোনেননি তার এই মাদকের টাকার বড় একটি অংশের ভাগ পেতেন শাহ নিজাম।

 

তবে বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনে ১ দফা দাবিব তোপের মুখে পড়ে গত ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রাস্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া পরপরই নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান ও শাহ নিজাম সহ অন্যান্য নেতারা পালিয়ে গেলে তারাও এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই শাহ নিজামের অন্যতম অপকর্মকারী সন্ত্রাসীরা গা ডাকা দিয়েছে। তবে এ সকল সন্ত্রাসীরা আবারো এলাকায় ডোকার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন