বন্দরের নতুন আতঙ্ক বিএনপির হিরণ-লিটন বাহিনী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট:
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৪৭ পিএম
গত ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে ক্ষমতাচুত্য হয়ে পরে আওয়ামী লীগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী পালিয়ে যায়। আবার অনেকে বিএনপির নেতাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে নিজ এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দরে বিগত দিনে যা একগুচ্ছভাবে দখলে রেখেছিলেন সেলিম ওসমান ও তার বাহিনীরা। কিন্তু পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের সাজানো সম্রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেলে সেই সম্রাজ্যে দখলে নেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে বর্তমানে বন্দর উপজেলায় একগুচ্ছ নিয়ন্ত্রণ করছেন বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ ও সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশিদ লিটন বাহিনী। এদের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ বন্দর উপজেলাবাসী থেকে শুরু করে সেখানকার স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ। সভাপতি হিরণ ও লিটনের দখলে বন্দর উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ডিস ব্যবসা, ইন্টারনেট ব্যবসা, ওয়েস্টিজ ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, হাট-ঘাট, বিভিন্ন মালিক সমিতি, ভূমিদূস্যতা, বালু মহল, বিদ্যুৎ চোর সিন্ডিকেট, গ্যাস সিন্ডিকেট, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি, মদনপুর স্ট্যান্ড সবই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের নাম বিক্রি করে উপজেলা জুড়ে তাণ্ডব ছড়াচ্ছে এই হিরণ-লিটন বাহিনী।
তাদের আতঙ্কে ভীত হয়ে পড়েছে বন্দর উপজেলার শিল্প-প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, এক সময়ের ঔষধ কোম্পানীর সেলসম্যান থাকা এই হারুন অর রশিদ লিটন বর্তমানে বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বনে গেছেন। এদিকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর বন্দরে শতাধিক শিল্প কারখানায় চালিয়েছে লুটপাট চাঁদাবাজি। রয়েছে নিজস্ব ও বাহিনী দ্বারা। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্যাতিত হওয়ায় লিটন প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠেছে। হিংস্র রূপ ধারণ করেছে। লিটন সাথে নিয়েছে দলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণকে। বর্তমানে দলীয় পদ-পদবীর দাপটে ঝুট ছিনতাই ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটন নামে দুই নেতার বিরুদ্ধে।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নানা কর্মকান্ডে আতঙ্কিত শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃপক্ষ। এদিকে বর্তমানে বিভিন্ন্ পত্র-পত্রিকায় হিরণ ও লিটনের নাম উঠে আসলে তারা গাঁ ঢাকা দিয়ে তাদের লোক বিএনপি নেতা মোমেন, ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকার, মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন ভূঁইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি শারজাহান ভূঁইয়া। বর্তমানে বন্দর উপজেলা জুড়ে পরিবহন সেক্টর থেকে শুরু করে সবই এদের দখলে। বর্তমানে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা পরেছে। যা নিয়ে তৃণমূলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
সূত্র বলছে, গত ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করলে টানা ১০/১৫ দিন বন্দরে গড়ে ওঠা শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান আগুনে পোড়ানোর হুমকি-ধমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ শতাধিক স্থানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে প্রায় শত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
বিশস্ত সূত্র জানিয়েছে, গত (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কামতাল এলাকায় অবস্থিত এসএইচকে লেভেল ফ্যাক্টরী থেকে জোর পূর্বক ঝুট ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া সেখানকার ইউনাইটেড ফ্যাশন গার্মেন্টস থেকে জুট ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তা ছাড়া মদনপুরে থাকা প্রায় অর্ধশত গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরী বর্তমানে এই মাজহারুল ইসলাম হিরণ ও হারুন অর রশিদ লিটনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তা ছাড়া তাদের সাথে আরো যুক্ত রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের খালাতো ভাই বিএনপি নেতা মোমেন। এদিকে তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কেওঢালা এলাকায় অবস্থিত পারটেক্স বাড মিলের বাউন্ডারি ভেঙ্গে ৩২ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মামলার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা ও তা ছাড়া চালিয়ে যাচ্ছেন দফায় দফায় মামলা-বাণিজ্যে। এই সভাপতি ও সেক্রেটারী যেন তাদের হাতে সোনার হরিণ পেয়েছেন। তা ছাড়া ও আরো বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া গত (৬ আগষ্ট) কুমিল্লার সংসদ সদস্য শামীম আহম্মেদের মালিকাধিন উপজেলা মদনপুর ইউপির কেওঢালা এলাকায় অবস্থিত এসকিউ ক্যাবল তৈরির ফ্যাক্টরীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজারুল ইসলাম হিরণের ছত্রছায়ায় জেলা জাতীয় পার্টির নেতা জাকার মোল্লা ও তার ভাই শাহজাহান মোল্লা সাজা, বিএনপি নেতা মামুন, সহসভাপতি শাহজাহান, গোলাপ, মাহবুবসহ ২০/২৫ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ। এ সময় নগদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন কর্তৃপক্ষ। একই কায়দায় একই এলাকায় অবস্থিত পোলার গ্লোব ফ্যাক্টরী থেকে ২ লাখ টাকা ও বেঙ্গল গেরেট ওয়েল, টাইলসের গোডাউন থেকে ৬৫ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তা ছাড়া চুনা পাথরের ফ্যাক্টরী থেকে ৫ লাখ, আমজাদ ডাক্তারের বাসায় হামলা ও লুটপাট, আক্তার মেম্বারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা চাদা আদায়ের অভিযোগ আছে। একই সাথে ধামগড়ের বাবু মেম্বারের উপরে হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করলে চাঁদা দিতে না চাইলে তার বাসায় হামলা ও তাকে চারটি মামলার আসামী করা হয় বলে জানা গেছে।
তাছাড়া ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও এএসআরএম এর ঠিকাদার শরীফ হোসেনের কাছ থেকে ১০ টাকা হাতিয়ে নেয় হিরণ ও লিটন। ধামগড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার ও শেখ রাসেল ক্রীড়া একাডেমীর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেন এই হিরণ ও লিটন। তা ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ধামগড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বারের কাছ থেকে সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান মাকসুদ ৫ লাখ ও মাজহারুল ইসলাম হিরণ ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এভাবে বন্দর উপজেলা জুড়ে বাণিজ্যে চালিয়ে যাচ্ছে হিরণ ও লিটনসহ বিএনপি নেতা মোমেন, ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকার, মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন ভূঁইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজাহান ভূঁইয়া এরা একত্রিতভাবে পুরো বন্দর উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিকে সকলের মুখে মুখে চাঁদাবাজ রাজনৈতিক দল হিসেবে বন্দর উপজেলায় আখ্যা দিচ্ছে।
টানা ২ মাস লুটপাট শেষে এখন এই হিরণ ও লিটন উদ্যোগ নিয়েছেন মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের হুঙ্কার দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করছেন। যা নিয়ে বন্দর উপজেলা জুড়ে হাস্যরস্য চলছে। এদিকে এই বিক্ষোভ মিছিল করার পূর্বে নেতাকর্মীদের সাথে গতকাল মতবিনিময় সভার ডাক দেয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটন। কিন্তু ২টি ইউনিয়নের লোক ছাড়া আর কাউকে পায়নি তারা।
এ বিষয়ে জানতে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণের মুঠোফানে একাধিকবার কল করলে ও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটন যুগের চিন্তাকে বলেন, সব মিথ্যা আমরা কোথাও যাইনি। কেউ আমাদের হেয় করতে আপনাদের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।


