তারাবো পৌরসভা তাসিক পিন্টু বাহিনীর দখলে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট :
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২৬ পিএম
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে ক্ষমতাচুত্য হয়ে পরে আওয়ামী লীগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই পালিয়ে যায়। এরমধ্যে আবার অনেকে বিএনপির নেতাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে নিজ এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জ উপজেলা। এই উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ড বিগত দিনে ছিলো সন্ত্রাসী, ভূমি খেকো সাবেক এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর দখলে। যা পরিচালনা করতেন তারাবো পৌর সাবেক মেয়র হাসিনা গাজী, তার ছেলে পাপ্পা গাজী, তারাবো পৌরসভা আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়ার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বালু হাবিব, তারাবো পৌর যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার এদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ হতো এই পৌরসভার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ডিস ব্যবসা, ইন্টারনেট ব্যবসা, ওয়েস্টিজ ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, হাট-ঘাট, বিভিন্ন মালিক সমিতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভূমিদূস্যতা, বালু মহল, বিদ্যুৎ চোর সিন্ডিকেট, গ্যাস সিন্ডিকেট, তেলের পাপ্প, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি, পরিবহন সেক্টর কিন্তু গত ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর পালিয়ে যায় গাজীসহ তাদের এই সন্ত্রাসীরা।
সব উল্টে আওয়ামী লীগের হাতে থাকা সকল সিন্ডিকেট এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বর্তমানে তারাবো পৌরসভা জুড়ে অপকর্মের ছুরি ঘুরাচ্ছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের শেল্টারে এই পৌর এলাকার সবই দখলে নিয়েছেন তারাবো পৌরসভা বিএনপির সভাপতি তাসিক ওসমান, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন আরব, সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক মোল্লা, বিএনপি নেতা মফিজ, তারাবো পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক আফজাল কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী বাবুল, তারাবো পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান মীর, তারাবো পৌরসভা জাসাসের সভাপতি রনি মিয়া, পৌরসভা শ্রমিক দলের ফজলুল হক প্রধান এদের দখলে বর্তমানে পুরো তারাবো পৌরসভা এলাকা।
এলাকায় নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরে আগুন ও মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এ ছাড়া সেই পৌরসভার বিভিন্ন গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরীর ঝুট, ওয়েস্টিজ মালামাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শুধু একটাই কথা বলে থাকেন ‘খোকন ভাই কল দিছে কথা বলেন ’ এদিকে গত রবিবার তারবো এলাকায় তাসিক ওসমান, আরিফ হোসেন আরব, আফজাল, আলতাফ, রনির নেতৃত্বে ৫০/৬০ টি হুন্ডা বাহিনী রূপচাঁদা ওয়েল মিল কারখানা দখলে নিতে সেখানে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয় সেখানকার শ্রমিকরা। পরবর্তীতে তারা সেখানকার তেলের ঘাট তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পায়তারা করেন। এর আগে তারাবো পৌর এলাকায় অবস্থিত মালা ক্যামিকেল ফ্যাক্টরী, যাত্রামুড়ার নাশা ফ্যাক্টরী, এর আগে ও গত (১৫ অক্টোবর) তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রকল্পে চাঁদা দাবীর অভিযোগে তারাবো পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান পিন্টুকে আটক করেছিলেন যৌথবাহিনী। কিন্তু এতে ও কোনভাবে দাবানো যায়নি পিন্টু ও তার সহযোগীদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারাবো পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এই কথিত নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বর্তমানে এলাকায় আবারো আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এদিকে গাজী টায়ার কারখানায় আগুন দিয়ে লুটপাট চালানোর অভিযোগ ছিলো এদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বর্তমানে সেই গাজীর সন্ত্রাসী গ্রুপের মতোই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন এই বাহিনীরা।
সূত্র বলছে, বিএনপির দূসময়ে কোন প্রকারের আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ ছাড়াই বিদেশ থেকে এসেই ২০২৩ সালের (২ এপ্রিল) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সভাপতির দায়িত্ব পান তাসিক ওসমান। এর আগে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সাথে সুসম্পর্ক এই তাসিক ওসমানের সেই সুবাদে নিয়ন্ত্রণে বিদেশি টাকা দিয়ে রূপগঞ্জে বিএনপির বিভিন্ন পোগ্রাম হতো। এ ছাড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়ার একজন নির্ভরযোগ্য ভোনার হিসেবে পরিচিত ছিলো এই তাসিক ওসমান। বিভিন্নভাবে টাকা জোরে অঙ্গসংগঠনের কোন পদে না থেকেই মূল দলে চলে যান এই তাসিক ওসমান। এ ছাড়া হাফিজুর রহমান পিন্টু ছিলো না কোন আন্দোলন সংগ্রামে যেখানেই ঝামালে সেখানে এই পিন্টুকে খুঁজে পায়নি কেউ কিন্তু তিনি এখন বড় নেতা। দলীয় সকল আন্দোলন সংগ্রামে এই পৌর এলাকার সব থেকে বেশি চোখে পরতো যুবদলের আহ্বায়ক আফজাল কবীরকে।
এর বাহিরে কাউকেই দেখা যেত না দলীয় কঠোর আন্দোলন সংগ্রামে কিন্তু সুসময়ে বর্তমানে তারাবো এলাকার হর্তা কর্তা এরাই। এদিকে গত ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করলে টানা ১০/১৫ দিন বন্দরে গড়ে ওঠা শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান আগুনে পোড়ানোর হুমকি ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই পৌর এলাকার পদপদবি নেতাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও আওয়ামীলীগের এমপি, সমর্থিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য সহ শতাধিক স্থানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে প্রায় শত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এছাড়া রূপসী এলাকায় গাজীর বাড়ি ভাঙচুর লুটপাট, বালু হাবিবের বাড়ি-অফিস ভাঙচুর লুটপাট, গাজী টায়ার কারখানায় আগুন ও লুটপাটের ঘটনায় এই বাহিনীর নাম প্রকাশ্যে উঠে আসছে। এ ছাড়া বর্তমানে এই পৌর এলাকার সবই যেন এদের দখলে এর বাহিরে যেগুলো হাতের নাগালে নেই সেগুলো নিয়ে সংঘর্ষসহ নানাভাবে নিজেদের জিম্মিতে আনতে মরিহা হয়ে উঠেছে এই কথিত বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী স্থানীয় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর।


