না.গঞ্জ-৪ আসনে ‘স্বতন্ত্রভীতি’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি নারায়ণগঞ্জ-৪। কারণ ভৌগোলিক গুরুত্ব, রাজনৈতিক উত্তাপ এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের এই আসন সব মিলিয়ে প্রতিটি দলেরই বিশেষ নজর এখানেই। বিএনপি ইতোমধ্যে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে এখনো ৬৩টি আসন শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-০৪।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। বিএনপির নিজের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও আছেন তালিকায়। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এনসিপি ইতোমধ্যে এই আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করায় তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সূত্র বলছে, এ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দিক, কিংবা জোটের,উভয় পরিস্থিতিতেই শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে বিএনপি যদি আসনটি শরিক দলের জন্য ছেড়ে দেয়, তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএনপি নেতা বলেন, “যদি জোটকে আসনটা ছাড়তে হয়, তাহলে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীই করবে বাজিমাত। কারণ মাঠের তৃণমূল মনির কাসেমীকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে নেয়নি। নেতৃত্বের চাপে তাঁকে সমর্থন দিলেও অনেক ভোটার ঝুঁকবে স্বতন্ত্রের দিকে। তখন আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকও জামায়াতকে না দিয়ে স্বতন্ত্রকেই প্রাধান্য দিতে পারে।” এক যুবদল নেতা বলেন, “আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করলেও আমার কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকেই বেশি আকৃষ্ট হবে।
এতে আসনটি বিএনপি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।” অর্থাৎ স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে,নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, এনসিপি সব দলের মধ্যেই সবচেয়ে বড় শংকার নাম স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জানা গেছে, এ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নামতে পারেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহআলম ও নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে ‘কিং মেকার’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলী। এ দু’জনের যেকোনো একজন প্রার্থী হলে ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শেষ পর্যন্ত বিএনপি কি নিজস্ব প্রার্থী দেবে? নাকি জোটের কাছে ছাড়বে আসনটি? এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কি স্বতন্ত্র প্রার্থী করবেন বাজিমাত? এই প্রশ্নগুলোই এখন নারায়ণগঞ্জ-০৪ এর রাজনীতিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।


