Logo
Logo
×

রাজনীতি

মহানগরে বাড়ল প্রতিযোগিতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

মহানগরে বাড়ল প্রতিযোগিতা

মহানগরে বাড়ল প্রতিযোগিতা

Swapno

আগামী এয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন যতইটাই ঘনিয়ে আসছে ততই মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সময় ততটাই ফুরিয়ে আসছে। এদিকে বিগত আন্দোলন সংগ্রামের দিনে বিএনপির হেভিওয়েট একাধিক নেতাকর্মীরা বিভিন্ন্কাণ্ডে দল থেকে বহিস্কার হলে ও দলের সু সময়ে এবার সকল বিভক্তি ভূলে সেই নেতাকর্মীদের বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে দলে বেড়াচ্ছেন বিএনপির হাইকমান্ড।


যারা বিগত দিনে কেউ কেউ ছিলেন মহানগরের দায়িত্বে আবার কেউ কেউ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ছিলেন। বর্তমানেও মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পালন করার জন্য তাদের নানা শক্তি রয়েছে। যাকে ঘিরে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছে যে কে হবে মহানগর বিএনপির আগামীর কাণ্ডারী। বর্তমানে মহানগর বিএনপির দায়িত্বে থাকা আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে রাপজথে ভূমিকা পালন করলে ও তাদের বিরোধীতা হিসেবে ছিলেন সেই ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ১৫ জন নেতা।


এদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ৩ বছর সময় পাড় করলে ও এখনো নিজেদের কমিটি পূণাঙ্গ করতে পারেনি। তা ছাড়া সংগঠনটিতে রয়েছে বিভক্তি আর বিভক্তি। বর্তমানে মনোনয়ন ইস্যুতে মহানগর বিএনপির দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছেন। সেই বিভক্ত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টিএম কালাম, বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, সদস্য শওকত হাসেম শকুকে বিভিন্ন বিতর্কে দল থেকে বেড় করলে ও তাদের আবার ও বহাল করেছে বিএনপি। যাকে ঘিরে মহানগরীর রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নয়া সমীকরণ। এদিকে বর্তমানে পুরো দমে মাঠে রয়েছেন মুকুল,শকু তা ছাড়া দ্রুতই মাঠে নামছেন এ.টিম. কামাল। এর বাহিরে ও মহানগর বিএনপির হয়ে কাজ করছেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সাবেক সাংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল খন্দকার খোরশেদ। এরা বর্তমানে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।


সূত্র বলছে, গত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর পর থেকেই বিএনপির নানা দলীয় কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তা ছাড়া সে সময় থেকেই কঠোর আন্দোলনের দিকে যায় বিএনপি। এমতা অবস্থায় মহানগর বিএনপির বর্তমান দায়িত্বরতরা মাঠে থাকলে ও মহানগর বিএনপির এই সাবেক নেতারা নানাভাবে বিএনপির হয়ে অন্তরালে আবার কেউ প্রকাশে কাজ করেছেন। এদিকে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে। এদিকে দলের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে বুকে ধারণ করে মহানগর বিএনপির এই সাবেক নেতারা মাসুদুজ্জামানের পক্ষে কাজ লেগে পরেন।


তা ছাড়া মাসুদুজ্জামানের পাশে নেই মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান্ তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি মাসুদুজ্জামানের পক্ষে এখনো আসেনি চূড়ান্ত ঘোষণার অপক্ষোয় রয়েছে। তা ছাড়া মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু নানাভাবে নাটকীয়তা করে সর্বশেষ মাসুদুজ্জামানের সাথে একত্মতা প্রকাশে ব্যাপক সমালোচনা উঠছে মহানগর জুড়ে। এদিকে মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের কমিটিতে বিভিক্ত ও কোন প্রকারের আপডেট না থাকায় নয়া কমিটির দিকে যেতে চাইছে দলীয় হাইকমান্ড। ইতিমধ্যে নির্বাচনের আগে বা পরে যে কোন সময় হতে পারে কমিটি। যেখানে বর্তমানে আলোচনা যারা রয়েছে তারা হলেন।


মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটি.এম কালাম যিনি ১৯৯৬ সালের পরবর্তী আন্দোলনে যখন শামীম ওসমান গডফাদার রূপে আবির্ভূত হলো সেই সময় এই এটি.এম কামাল রাজপথে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। সে সময় তার বিরুদ্ধে ২৪টা মামলা হয়। আমি এরপরও রাস্তায় থাকা। এই এটি.এম কালাম ফের মাঠে নামতে যাচ্ছেন। জানা গেছে, এটি.এম কামালের শহরে ব্যাপক একটি প্রভাব রয়েছে। তা ছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জের মহানগরীতে অনেকটাই পরীক্ষিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।


একই সাথে আলোচনায় রয়েছে, নারায়ণগঞ্জে যুবদলের নেতৃত্বে আসতে মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদ ছেড়ে আসা মনিরুল ইসলাম সজল। যিনি মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর যুবদলের হাল ধরতে মূল দলের এতো বড় পদ থেকেই সরে যাওয়া মনিরুল ইসলাম সজল বর্তমানে মহানগর বিএনপির মূল কমিটিতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু অবস্থায় রয়েছে।


এদিকে নগরীর করোনা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। নাসিক ১২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। যিনি মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য থাকলে ও দলীয় কিছু ব্যক্তিরা গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে এই শওকত হাসেম শকুকে বহিস্কার করলে ও বর্তমানে তিনি প্রত্যাহার হয়ে দলে ফিরে এসছেন। নগরীতে তার ও আলাদা একটি প্রভাব রয়েছে। তা ছাড়া তিনি ও বর্তমানে মহানগর বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করার মতো যোগ্যতায় উঠে এসেছেন। যাকে ঘিরে এই প্রভাবশালী সমাজশালী ব্যক্তিত্ব শওকত হাসেম শকু মহানগর বিএনপির কমিটিতে আলোচনার তালিকায় রয়েছে।


মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলা সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল যিনি বন্দরের একজন ফ্যাক্টর হিসেবে পরিচিত। যার প্রমান তিনি গতকাল সিরাজদৌল্লাহ মাঠের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই প্রমান করে দিয়েছেন। তা ছাড়া তাকেও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করে দলের বাহিরে রাখলে ও বর্তমানে তাকে দলে ফিরিয়ে এনেছেন বিএনপির হাইকমান্ড। বন্দরে এই মুকুলের যে প্রভাব রয়েছে তা বন্দরে অনেকটাই কম নেতাকর্মীদেরই রয়েছে। যাকে ঘিরে আগামী মহানগর বিএনপির কমিটিতে মুকুল আলাদা একটি ফ্যাক্টর।


নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল খন্দকার খোরশেদ। যিনি বিগত ২০২০ সালের করোনায় করোনা যোদ্ধা খ্যাতি পেয়েছিলেন। সে সময় তার র্ককাণ্ডে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন এই খোরশেদ। এদিকে এই খন্দকার পরিবার বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের একটি অন্যতম চাবি-কাঠি বললে ও চলে। এই খোরশেদের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামে একাধিক বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পরেছিলেন।


তা ছাড়া কোন পদে না থেকে ও অন্তরালে তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। তা ছাড়া এবার নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দল প্রাথমিক মনোনীত করেছেন শিল্পপতি মাসুদুজ্জামানকে তিনি বর্তমানে তার পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে বর্তমানে শহরে আলাদা প্রভাব এবং মহানগরে দায়িত্ব বদলের নতুন তালিকায় তিনি ও অন্যরকম।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন