Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুটি আসনেই গিয়াসউদ্দিন ‘ফ্যাক্টর’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

দুটি আসনেই গিয়াসউদ্দিন ‘ফ্যাক্টর’

দুটি আসনেই গিয়াসউদ্দিন ‘ফ্যাক্টর’

Swapno

চড়াই উৎরাই বহিস্কার হওয়ার মধ্য দিয়েও নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়ে শেষ পর্যন্ত যাচাই-বাছাই বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের এই দুইটি আসনেই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে গিয়াস উদ্দিন। বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে পরে নির্বাচন করতে এসে বহিস্কার হওয়া এই এক গিয়াসেই কাপঁছে দুইটি আসনেই বিএনপি ও জোটের মনোনীত প্রার্থীরা।


যার কারণ হিসেবে গিয়াসের ভোট ব্যাংক এবং তার উপচে পড়া জনপ্রিয়তার কাছে দুটি আসনের বিএনপি মনোনীত হোক বা স্বতন্ত্র সকলেই ধরাশয়ী বললেই চলে। এদিকে কর্মী-সমর্থকদের ভালোবসায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি সরূপ মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাতেই বহিস্কার হন গিয়াস উদ্দিন। এতে কোন ক্ষতি হয়নি গিয়াস উদ্দিনের, কমেনি কর্মী সমর্থক বা ভোটার সংখ্যা এখনো নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এই গিয়াস উদ্দিনের রয়েছে শক্তিশালী আর্বিভাব।


তা ছাড়া গিয়াস উদ্দিন ভোটের মাঠে পাকা খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যায়িত থাকায় গিয়াস ভোটের মাঠে আরেক আতঙ্ক। এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল পরীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন দুটি আসনেই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া গিয়াসের পক্ষে বর্তমানে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বিএনপির হাজারো নেতৃবৃন্দ রয়েছে একই সাথে অঙ্গসংগঠনেরসহ বহু নেতাকর্মী বর্তমানে গিয়াসের পাশে রয়েছে।


বর্তমানে গিয়াসের পাশে বিগত দিনের রাজপথে থেকে আন্দোলন করা হাজারো হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী রয়েছে তারা ও বহিস্কারকে ভয় পাচ্ছে না, সকলেই এবার নতুন স্লোগান দিচ্ছেন দল নয় প্রার্থী দেখে ভোট দিন।


রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের মাঠে গিয়াসউদ্দিন একজন পাকা খেলোয়াড়। নির্বাচন কি করে করতে হয় তৃণমূল পর্যায়ে থেকে তিনি শিখে এসেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত তিনি বিজয়ী হয়ে এসেছেন তাই নির্বাচন কি করে করতে হয় তা গিয়াসউদ্দিনের চেয়ে ভালো আর কেউ জানেন না। গিয়াস উদ্দিনের এই গুণের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে নির্বাচনের মাঠে দেখতে চায়।


দীর্ঘদিন নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা নারায়ণগঞ্জের মানুষ গিয়াসউদ্দিনের মত অভিজ্ঞ আর দক্ষ রাজনীতিবিদকে নির্বাচনে দেখতে মরিয়া হয়ে গেছে। তা ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকালীন নির্বাচন হওয়া বইতে থাকলে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ তার নির্বাচনী এলাকা পুরোটাই ঘুরে সাধারণ জনগণের সাথে দেখা ও তাদের দু:খ কষ্টের কথা ও শুনে এসেছেন এই গিয়াস উদ্দিন। সে সময় যেখানেই যেতেন গিয়াসকে এলাকার সাধারণ মানুষ ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নিতেন। গিয়াস উদ্দিন আসছে শুনলেই লক্ষ লক্ষ মানুষ নেতাকে এক পলক দেখতে বেড়িয়ে আসতেন সড়কে।


এদিকে বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রকাশ্যে তার বিরোধীতা করেছেন। বিভিন্নভাবে তাকে হেয় করতে নানা অপপ্রচার চালিয়েছেন। কিন্তু দিন শেষে তারাই সকলেই ব্যর্থ হয়ে পরেন। পরবর্তীতে পট পরিবর্তনের পর বিগত দিনে সেই ওসমানদের পদ লেহনকারী ব্যক্তিরা বিএনপির ট্যাগ লাগিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।


এদিকে চাঁদাবাজ, লুটপাটকারী, দখলবাজ, ব্যবসায়ী সংগঠনে ওসমান দালালরা বহাল এবং ওসমানদের দোসরদের বিপক্ষে বিগত দিনে যেমন শক্ত অবস্থানে ছিলেন তিনি বর্তমানে ও সেই অবস্থানেই রয়েছেন। যাকে ঘিরে বর্তমানে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন।  এদিকে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব¡ গ্রহণের পর বিএনপির জেলা সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব জনসমর্থন অর্জন করেছে। বিশেষ করে ফতুল্লা এলাকার ৫টি ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করার যে দাবি তিনি তুলেছেন সেটি বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।


এছাড়া ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় যে দুর্ভোগ জনসাধারণকে দিচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণের উদ্যোগও তিনি সর্বপ্রথম নিয়েছিলেন। জনগণের দুর্ভোগ সংশ্লিষ্ট এই দুটি সমস্যা সমাধানে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন, এছাড়া জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়ে ছিলেন সই কার্যক্রম এখনো অব্যহত রেখেছে গিয়াস উদ্দিন যাকে ঘিরে তিনি বিগত দিন থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। যার বিরুদ্ধে অপকর্মের শেষ নেই।


এই আসনে বিএনপি ভূল সিদ্ধান্তে মনোনয়ন দেওয়ায় এই আসনে ধানের শীষের পরাজয় হবে বলে জরিপে করে জানা যাচ্ছে। তা ছাড়া এই আসনে ইতিমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়াস উদ্দিন ছাড়া ও সোনারগাঁওয়ের অধিকাংশ ওয়ার্ড-ইউনিয়নে গিয়াস সমর্থকদের রয়েছে হাজারো হাজারো যাকে ঘিরে এই আসনেই গিয়াস উদ্দিন শক্তিশালী বলে ধারনা করা যাচ্ছে।


অন্যদিকে ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হওয়া আসন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে গিয়াস উদ্দিনের। তা ছাড়া এ আসনে বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী না দিয়ে জোটের প্রার্থী খেঁজুর গাছ দেওয়ায় এই আসনেও গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র থাকায় তার চান্স রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে দুটি আসনেই শক্তিশালী গিয়াস। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও আসনে মান্নান ও ফতুল্লা আসনে কাসেমী দুইজনের থেকে ও জনপ্রিয়তায় শীর্ষে গিয়াস উদ্দিন। যাক ঘিরে এবার দুইটি আসনেই নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন