না.গঞ্জ-৪ আসনে কঠিন খেলা
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পাঁচ হেভিওয়েট প্রার্থীকে ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। এই আসনে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসে সেটা বুঝা বড় দায়। কিন্তু জরিপ মোতাবেক উঠে আসছে এই আসনে হারতে পারে বিএনপির জোটের প্রার্থী। তা ছাড়া এখানে ইতিমধ্যে বিএনপির থেকে বঞ্চিত হয়ে হেভিওয়েট ২ প্রার্থী করতে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র যাদের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। যেখানে এই আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তিনি ৪ আসনে ‘ফ্যাক্টর’ বললেই চলে। এই আর তার রয়েছে হাজারো হাজারো সমর্থকসহ ভোটার।
অন্যদিকে মোহাম্মদ শাহ আলম যিনি বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে থাকলে ও ফতুল্লা এলাকায় তার অবস্থান গিয়াস উদ্দিনের পরপরই বলা চলে। ইতিমধ্যে দুইজনই দলের বিরোধীতা করে নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বহিস্কার করেন দল কিন্তু কমাতে পারেনি জনপ্রিয়তা। এর বাহিরে ও এই আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী তিনি বর্তমানে এই আসনে কোন ফ্যাক্টর না হলে ও তার রয়েছে এই আসনে একাধিক আওয়ামী লীগের ভোট।
সর্বশেষ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির আবদুল্লাহ আল-আমিন। তিনি বর্তমানে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন-খেলাফত মজলিসসহ আরো বেশ কয়েকটি দলের সমর্থন পাচ্ছেন যা ভোটের মাঠে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে হতে যাচ্ছে কঠিন খেলা। এই আসন এলাকায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বর্তমানে বিএনপির কিছুটা সমর্থন পেলে ও সবই উপরে উপরে দেখানো বললেই চলে। যাকে ঘিরে তার বিপরীতে যারা রয়েছেন প্রায় সকলেই হেভিওয়েট প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৫ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন শাহআলম (স্বতন্ত্র), মো. ইলিয়াস আহাম্মেদ (খেলাফত মজলিস), মোহাম্মদ আলী (বাংলাদেশ রিপাবলিকেশন পার্টি), সেলিম মাহমুদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), আনোয়ার হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), ইসমাঈল হোসেন কাউছার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল্লাহ আল আমিন (এনসিপি), মনির হোসাইন কাশেমী (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ), মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র) ও সুলায়মান দেওয়ান (বাংলাদেশ জাসদ)।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়। এই যাচাই বাছাইয়ে ভোটের মাঠে যারা রয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই হেভিওয়েট প্রার্থী। বিশেষ করে শাহ আলম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী ভোটের মাঠে অনেক প্রভাবশালী। তারা বিগত সময়ে অনেক প্রভাবশালী নেতাদের সাথে লড়াই করে ভোটের মাঠে বিজয়ী হয়েছেন। এবারও এসকল হেভিওয়েট প্রার্থীরা ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নেমেছেন।
আর এসকল হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিপরীতে লড়াই করা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর লড়াই করাটা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। তার আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরাসহ প্রায় সকলেই নিশ্চিত ছিলেন এই আসনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপির প্রার্থীকেই ধানের শীষের প্রতিক দেয়া হবে।
কিন্তু চূড়ান্ত বাছাই পর্বে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেন জমিয়ত উলামার মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনির হোসাইন কাশেমী। সেই সাথে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনভর নানা জল্পনার পর বিকেলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র। কিন্তু এবার এই আসনে ধানের শীষ না থাকায় সাধারণ ভোটাররা আক্রমনস্ত সকলেই এবার বলছেন দল নয় প্রার্থী ও তাদের যোগ্যতা থেকে ভোট দিবো।
সেই ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চান্সই বেশি বলা চলে। তা ছাড়া ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বেড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কিন্তু সকলের ধারণা মোতাবেক এই আসনে বিএনপির দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস-শাহ আলম ঐক্যেজোট হলে চমক দেখাতে পারে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী।


