নির্বাচনে কঠোর বিএনপি
নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকে ঘিরে কঠোর পথে যাচ্ছে বিএনপি। ইতিমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরূপ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই বহিস্কার হন সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলাম। তা ছাড়া ও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই গত ১৯ ও ২০ জানুয়ারী থেকেই পরতে যাচ্ছে বহিস্কারের হিড়িক। তা ছাড়া আরো বাকি স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কেন্দ্রীয়ভাবে তলব আসতে পারে বলে গুঞ্জন উঠছে।
এদিকে আগামী (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি মনোনীতদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীতে অস্বস্তিতে রয়েছে হাইকমান্ড। ইতিমধ্যে (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পরদিন ৩০ ডিসেম্বর দুইজন হেভিওয়েট নেতাকে বহিস্কার করে দল।
যার ফলে নতুন মেরুকরণে সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিসাব নিকাশ নিয়ে। আগামী (২০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় কোন্দল ও মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতাবিষয়ক জটিলতা কাটাতে ব্যস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ২ হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিস্কার হলে ও এখনো নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে দুলাল প্রধান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আতাউর রহমান আঙ্গুর,
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের রেজাউল করিম এরা বর্তমানে রেড লাইনে রয়েছেন। একই সাথে এদের সঙ্গি বিএনপির পদধারী বা সাধারণ সদস্য পথের নেতারাও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে কঠোর অবস্থায় থাকা বিএনপি।
দলের হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনে দল ও মিত্রদের দেয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীতে অস্বস্তিতে রয়েছে। এসব প্রার্থী একদিকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন, অন্যদিকে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে দলের নেতা-কর্মীরা। যদিও তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয় রয়েছে। স্বতন্ত্র হিসেবে দলের যেসব নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, শিগগিরই তাদের কেন্দ্রে ডাকা সম্ভাবনা রয়েছে।
দল ক্ষমতায় গেলে বিভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেবেন। এতেও কাজ না হলে কঠোর হবে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিবে তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। দলের বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের দুইজন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সহ ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবু অনমনীয় বিদ্রোহীরা মাঠ ছাড়ছেন না।
এর মধ্যে মিত্র দলের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতায় বেকায়দায় পড়েছেন দল ও জোটের নেতারা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করার দায়িত্ব পেয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের। প্রয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও তাদের সঙ্গে বসবেন। এ ক্ষেত্রে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত দেখবে বিএনপি। এর পর থেকেই কঠোর পথে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড।


