Logo
Logo
×

রাজনীতি

গিয়াসউদ্দিনে কপাল পুড়বে মান্নান-কাসেমীর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

গিয়াসউদ্দিনে কপাল পুড়বে মান্নান-কাসেমীর

গিয়াসউদ্দিনে কপাল পুড়বে মান্নান-কাসেমীর

Swapno

নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বিশাল জনপ্রিয়তায় কপাল পুড়তে পারে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির খেঁজুর গাছের জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সীমানা অনুযায়ী সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ (সাবেক ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁও আসনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।


আর এতেইে বিপাকে পড়েছেন এই আসন দুটি থেকে দীর্ঘদিন যাবত নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীরা। এরই মধ্যে এই আসন দুটি থেকে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বাইরেও বিএনপির একাধিক নেতা প্রাথী হিসেবে মাঠে আছেন। তাইতো শুরু থেকেই এই নতুন সীমানার বিরোধিতা করে আসছে সোনারাগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। মান্নানের সেই ভয়কেই যেন বাস্তবে রূপ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন বিএনপি সমর্থিত সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ।


তবে গিয়াস শুধু নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকেই নয়, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রার্থী হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও। অর্থাৎ অন্যান্য প্রার্থীরা যখন এইকটি নির্বাচনী এলাকায়ই প্রচারণা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গিয়াস দুটি আসনেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা যায়। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সানারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রতিপক্ষ হিসেবে এখনও মাঠে আছেন বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন।


অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর বিপক্ষে লড়াইয়ে আছেন বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। এছাড়াও এই আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন মোহাম্মদ আলী এবং বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমীটির সদস্য শাহ আলম। কিন্তু বর্তমানে জনপ্রিয় হিসেবে দুটি আসনেই গিয়াসের ব্যাপক চমক থাকবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এদিকে গিয়াসের জনিপ্রয়তায় বর্তমানে তৃনমূলে আলোচনা উঠছে গিয়াসে কপাল পুড়বে মান্নান বা কাসেমীর।


রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের মাঠে গিয়াসউদ্দিন একজন পাকা খেলোয়াড়। নির্বাচন কি করে করতে হয় তৃণমূল পর্যায়ে থেকে তিনি শিখে এসেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত তিনি বিজয়ী হয়ে এসেছেন তাই নির্বাচন কি করে করতে হয় তা গিয়াসউদ্দিনের চেয়ে ভালো আর কেউ জানেন না। গিয়াস উদ্দিনের এই গুণের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে নির্বাচনের মাঠে দেখতে চায়।


দীর্ঘদিন নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা নারায়ণগঞ্জের মানুষ গিয়াসউদ্দিনের মত অভিজ্ঞ আর দক্ষ রাজনীতিবিদকে নির্বাচনে দেখতে মরিয়া হয়ে গেছে। তা ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকালীন নির্বাচন হওয়া বইতে থাকলে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ তার নির্বাচনী এলাকা পুরোটাই ঘুরে সাধারণ জনগণের সাথে দেখা ও তাদের দু:খ কষ্টের কথা ও শুনে এসেছেন এই গিয়াস উদ্দিন। সে সময় যেখানেই যেতেন গিয়াসকে এলাকার সাধারণ মানুষ ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নিতেন। গিয়াস উদ্দিন আসছে শুনলেই লক্ষ লক্ষ মানুষ নেতাকে এক পলক দেখতে বেড়িয়ে আসতেন সড়কে।


এদিকে বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রকাশ্যে তার বিরোধীতা করেছেন। বিভিন্নভাবে তাকে হেয় করতে নানা অপপ্রচার চালিয়েছেন। কিন্তু দিন শেষে তারাই সকলেই ব্যর্থ হয়ে পরেন। পরবর্তীতে পট পরিবর্তনের পর বিগত দিনে সেই ওসমানদের পদ লেহনকারী ব্যক্তিরা বিএনপির ট্যাগ লাগিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছিলেন কিন্তু গিয়াসকে শেষ পর্যন্ত কোনভাবেই দমানো যায়নি।


তা ছাড়া সর্বশেষ ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন গডফাদার শামীম ওসমানের আসন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে শামীম ওসমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন আলহাজ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। আর শামীম ওসমানকে পরাজিত করার খবরটি শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জই নয়, আলোচনার ঝড় তুলেছিল দেশ জুড়ে। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে গিয়াস সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় বেশ একটি শক্তিশালী কর্মী ও সমর্থক বাহিনী তৈরি করতে সমর্থ হন। তাই ফতুল্লায় সেসব সমর্থকদের ভরসায়ই এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে আছেন।


অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকার পরও কাঁচপুর ও জামপুর এলাকায়ও তার বেশ সমর্থক ও কর্মী আছে বলে তার ভক্তদের দাবি। এদিকে গিয়াস উদ্দিন ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম নির্বাচনে থাকলে সেখান থেকে তিনি সরে যাবেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শুধু নির্বাচন করবেন।


যাকে ঘিরে বর্তমানে রেজাউল করিম তার বাতিলকৃত মনোনয়ন বৈধ করতে আপিল করে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হলে দুই আসনেই ভোটের মাঠে খেলা দেখাতে পারেন গিয়াস উদ্দিন যেখানে ঘিরে দুইটি আসনেই বিএনপির অপরিচিত মুখ যে কেউ পড়বে পারে বিপাকে পুড়তে পারে কপাল।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন