আবারও মান্নানের আতঙ্ক হলেন গিয়াসউদ্দিন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আবারও মান্নানের আতঙ্ক হলেন গিয়াসউদ্দিন
নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভোটের মাঠে কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন মান্নানের নিকট এক আতঙ্ক হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটানিং অফিসার যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে মান্নানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও মান্নানের হলফনামায় মনোনয়ন অবৈধ হওয়ায় বেশকয়েকটি উদাহরণ রয়েছে।
যেগুলো নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন শনাক্ত করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। তবে এই আপিলের সঠিক ফলাফলে মনোনয়ন বৈধতা থেকে অবৈধ হিসেবে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এতে করে মান্নান নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিঁটকে পড়তে পারেন।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান তার মনোনয়ন তথ্যে বেশকয়েকটি তথ্য এড়িয়ে হলফনামা পূর্ণ করেছেন এবং বৈধতা পেয়েছে। কিন্তু তার মনোনয়ন অবৈধ হওয়ার মত যথেষ্ট কারণ থাকায় নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন মান্নানের বৈধ মনোনয়নের বিপরীতে আপিল করেছেন। মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হচ্ছে- বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে ফর্ম ২১ এ ভুল এবং মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেছেন এবং বার্ষিক আয় গোপন করেছেন।
তাছাড়া তিনি ০২ (দুই) অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি ৫২,৬৮০/- টাকার অবশিষ্ট ব্যালেন্স প্রকাশ করেছেন কিন্তু প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকায় রক্ষিত অ্যাকাউন্ট নম্বর ২১৬৫১১ ২০০২০৪০ প্রকাশ করেননি। এছাড়াও প্রিমিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আরেকটি অ্যাকাউন্টও প্রকাশ করেছেন। এটা বলাই বাহুল্য যে রিটার্নিং অফিসার যদি তদন্ত করেন তবে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত প্রায় দশটি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাবেন কিন্তু আপত্তি উত্থাপন করা সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসার তদন্ত না করেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধভাবে বিবাদী নং ৪ এর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।
আজহারুল ইসলাম মান্নান ৫ সন্তানের জনক কিন্তু তিনি মনোনয়নপত্রে ০২ (দুই) পুত্রের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ০৩ জন ছেলের নাম গোপন করেছেন। তার ছেলে খায়রুল ইসলাম সজিব এবং সাইদুল ইসলাম শাকিল হলেন মিলিনিয়ার যাদের ঊঞওঘ নম্বর রয়েছে। তার স্ত্রীরও ঊঞওঘ নম্বর রয়েছে এবং তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে আজহারুল ইসলাম মান্নান নির্বাচনে অবৈধ জয়লাভের জন্য কালো টাকা ব্যবহার করবেন। আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আজহারুল ইসলাম মান্নান তার পেশা এবং ব্যবসার বিবরণ গোপন করেছেন।
তিনি ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ফার্ম পরিচালনা করেন যার তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন, তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্রে উক্ত ফার্মের অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেননি। এসকল কারণগুলো উপস্থাপন করে নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। গিয়াসউদ্দিনের আপিলে মনোনয়ন বাতিলের আতঙ্কে রয়েছেন মান্নান। কারণ মনোনয়ন করলেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিঁটকে পড়বেন মান্নান।


