Logo
Logo
×

রাজনীতি

বেকায়দায় বিএনপির চার প্রার্থী

Icon

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

বেকায়দায় বিএনপির চার প্রার্থী

বেকায়দায় বিএনপির চার প্রার্থী

Swapno

ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ২৫ দিন। এরই মাঝে বিতর্কিত বহু কর্মকাণ্ডে বিজয়সহ নির্বাচনের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাংসদীয় ৪টি আসনে বিএনপির মনোনীতরা। এক দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্তি অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ হলনামায় তথ্য গোপনের মতো নানা অভিযোগ উঠে আসছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি কানাডায় তার ১৪ কোটি টাকার রাজকীয় বাড়িসহ আরো বহ তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।


যাকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারই প্রতিদ্বন্দ্বি রূপগঞ্জ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়ত নেতা আনোয়ার মোল্লা। একই সাথে নারায়ণগঞ্জে-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ মেসার্স এস অ্যান্ড জে স্টিল নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বেসিক ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওই ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ দাঁড়িয়েছে ১২২ কোটি টাকায়। যা পরিশোধ না করাসহ নানা বিষয়ে ১২২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপীর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বারবারই উঠে আসছে।


এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ ধরনের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য আপিল করেছিলেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী খেজুর গাছের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মনোনীত হওয়ার পূর্বে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের দোসরদের শেল্টারসহ বিএনপির দলীয় পোগ্রামে আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতিষ্ঠিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।


তা ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মে থাকা লোকদের শেল্টারের মাধ্যমে তার সাথে একত্মতা করছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। এমন নানা অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের সাংসদীয় আসনগুলোর এই নেতাকর্মীরা কোনঠাসাসহ বেকায়দায় রয়েছে। তা ছাড়া একইভাবে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীরা ও হয়ে উঠেছে মনোনীতদের দুশ্চিতার কারণ।


সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে পুরনো কৌশল ও নয়া কৌশল দুটোই একত্রিত করে সামনের দিকে এগুচ্ছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের দাবি, দল যদি বহিস্কার করে দেয় এতে কোন কষ্ট নয়। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের চাপ ফেলে দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। যাকে ঘিরে এবার হাঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন সাবেক ৩ সাংসদ সদস্য। যাকে ঘিরে বর্তমানে এদের গ্রীন সিগন্যাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে পরিচিত স্বতন্ত্রের মাঝে কোনঠাসা বিএনপির প্রার্থীরা। তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মূল বাধাই হতে যাচ্ছে হেভিয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অপর দিকে ৩টি আসনেই অজনপ্রিয় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা যাকে ঘিরে চলছে নানা বিতর্কতা।


যাকে ঘিরে কর্মী সমর্থকরা কোন সাইডে থাকবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারছেন না। এদিকে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সাংসদীয় আসনের চারটি নিয়ে চলছে নানা উত্তেজনা। কে হবে সেই আসনগুলোর আগামীর কান্ডারীর তা নিয়ে চলছে আলোচনা। কিন্তু ইতিমধ্যে দেশের বড় দল হিসেবে বিএনপি ধানের শীষের কান্ডারী ও জোটের কান্ডারী সেই চারটি আসনে মনোনীত করলে ও এরা সকলেই বিতর্কে জর্জড়িত যা নিয়ে সেই আসনগুলো ঘিরে চলছে সমালোচনা।  যাকে ঘিরে বেকায়দায় চার মনোনীত প্রার্থী।


এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনয়ন পান এই ভূঁইয়া দিপু পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নিতে জেলা রিটানিং অফিসার বরাবর দালিককৃত হলফনামায় কানাডায় তার বিলাশবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ির তথ্য গোপন রেখেও নির্বাচনে বৈধ তালিকায় এনেছেন তার নাম। ইতিমধ্যে হলফনামায় তথ্য গোপনে দিপু ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা।


এদিকে নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগের মূল অংশে আনোয়ার মোল্লা উল্লেখ করেন, হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ও কানাডায় নিজ নামে ও স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তির তথ্য গোপন করা স্বত্ত্বেও সংসদীয় আসন ২০৪, নারায়ণগঞ্জ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু প্রতিপক্ষ তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আবেদনে যথাযথ যাচাই বাছাই করিতে আইনত বাধ্য। কিন্তু ১নং প্রতিপক্ষ অন্যান্য কাগজপত্রাদি তাৎক্ষনিক উপস্থাপন ও সরবরাহ করিলেও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তা আমলে না নিয়ে বে-আইনী ও অবৈধভাবে ২নং প্রতিপক্ষের মনোনয়নটি বৈধ ঘোষনা করেন।


ফলে, ন্যয় বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক সংসদীয় আসন ২০৪,নারায়ণগঞ্জ-০১ আসনে ২নং প্রতিপক্ষের গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে ২নং প্রতিপক্ষের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনার আদেশ রদ-রহিত ও বাতিল পুর্বক, তাহা অবৈধ ও বাতিল ঘোষনা হওয়া আবশ্যক। জঊখওঅঘঈঊ ওঘঞঊজওঙজ ওঘঈ. ব্যবসায়ীক সার্টিফিকেট কপি সংযুক্ত। যেহেতু ২নং প্রতিপক্ষের দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব, কানাডায় অবস্থিত সম্পত্তি ও ব্যবসায় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য গোপন করিয়াছেন। ফলে, গণপ্রতিনিধিত্ত্ব আদেশ ১৯৭২(সংশোধিত) এর অনুচ্ছেদ ১৪ এর অনুসরণে ২নং প্রতিপক্ষের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রটি আইনত বাতিলযোগ্য এবং ন্যায়তঃ বাতিল মর্মে ঘোষনা হওয়া আবশ্যক। যেহেতু ২নং প্রতিপক্ষের মনোনয়নটি যথাযথ যাচাই বাছাই হয় নাই।


ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশটি অবৈধ, পক্ষপাত মুলক ও বে-আইনী এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থী হইয়াছে। এমতাবস্থায়, অত্র আপীলকারীর সংযুক্তির কাগজ-পত্রাদি যাচাইয়ান্তে সংসদীয় আসন ২০৪, নারায়ণগঞ্জ আসনে ২নং প্রতিপক্ষ তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রার্থী জনাব মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এর দাখিলকৃত মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা হওয়ার আদেশ রদ-রহিত ও বাতিল পুর্বক ২নং প্রতিপক্ষের প্রার্থিতা অবৈধ ও বাতিল মর্মে ঘোষনা করতঃ আগামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২নং প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার অযোগ্য মর্মে ঘোষনা প্রদান একান্ত আবশ্যক । নিয়ে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তর হইতে মূল নথি তলবাস্তে অত্র আপীলটি নিষ্পত্তি করত সংসদীয় আসন ২০৪, নারায়ণগঞ্জ আসনে ২নং প্রতিপক্ষ তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রার্থী জনাব মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এর


২৯ ডিসেম্বর দাখিলকৃত ও ১নং প্রতিপক্ষের ৪ জানুয়ারী প্রকাশিত ২নং প্রতিপক্ষের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা হওয়ার আদেশ রদ-রহিত ও বাতিল পুর্বক ২নং প্রতিপক্ষের প্রার্থিতা অবৈধ ও বাতিল মর্মে ঘোষনা করত আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২নং প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্ধীতা করার অযোগ্য মর্মে ঘোষনা দিতে সদয় মর্জি হয়। যা নিয়ে রূপগঞ্জ জুড়ে চলছে নানা সমালোচনা।



একই সাথে নারায়ণগঞ্জে-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ মেসার্স এস অ্যান্ড জে স্টিল নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বেসিক ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওই ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ দাঁড়িয়েছে ১২২ কোটি টাকায়। বেসিক ব্যাংক সেই ঋণ আদায়ে মামলা দায়ের করেছে এবং বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ব্যাংক। নির্বাচনে প্রার্থী হবার পর বেসিক ব্যাংকের ঋণের বিষয়টি সামনে এসেছে। আগামী নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে সুরাহা না হলে আজাদের মনোনয়নপত্র শেষ বেলায় নির্বাচন কমিশনের জালে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণের নামে লুটপাটের অন্যতম কারিগর ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমানে পলাতক শেখ আব্দুল হাই ওরফে বাচ্চুর যোগসাজশে এ ঋণ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকের মামলার কাগজপত্র অনুযায়ী,


২০১৩ সালের মার্চে নেয়া এ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি বলে জানা গেছে। ভুয়া দলিল, ভুয়া রেকর্ড, ভুয়া নামজারি এবং সম্পত্তির অতি মূল্যায়নের মতো বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের অল্প সময়ের মধ্যে এ বিপুল অঙ্কের ঋণ নেয়। ঋণের জন্য বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখায় আবেদন করার মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে ব্যাংকের বোর্ড এ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এক বছর মেয়াদি ৪০ কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ দেয়। ঋণ নেয়া মেসার্স এস অ্যান্ড জে স্টিল প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনীত প্রার্থী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঋণ নেয়ার জন্য যে জমি বন্ধক রাখা হয়েছিল, সে জমির প্রকৃত মালিক তিনি নন। ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে মিসেস লতিফা সুলতানাকে জমির মালিক দেখানো হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে তার নামে ভুয়া রেকর্ড তৈরি ও ভুয়া নামজারি করা হয়েছে। অন্য দিকে, জমিটির প্রকৃত মালিক মিসেস সাহানা ইয়াসমিন এ ভুয়া রেকর্ড ও নামজারির বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ‘ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল’, ঢাকা মহানগর আদালতে মামলা করেন (মিস কেস নং-৮৩/২০১৩)।


২০১২ সালের ডিসেম্বরে সাহানা ইয়াসমিন ওই জমিটি মহানগর ভূ-সম্পত্তি জরিপের রেকর্ডভুক্ত করার জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারে রায় পান। কিন্তু হলনামায় এমন নানা তথ্য ভূল রাখলে ও বৈধ মনোনয়ন আজাদের। যা নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।



তা ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ ধরনের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য আপিল করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন।  গত শুক্রবার ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে এই আপিল করেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল আবেদনে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা দাখিল করেন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার হলফনামার তথ্য যাচাই করে দেখে সিদ্ধান্ত নেননি।


সঠিকভাবে যাচাই না করেই মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই করলে তাঁর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং বাতিল বলে বিবেচিত হবে। আপিল আবেদন আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে ফর্ম ২১-এ ভুল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। বার্ষিক আয় গোপন করেছেন। হলফনামা থেকে জানা যায়, আজহারুল ইসলাম মান্নান তাঁর ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ১১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ২০১৮ সালের চেয়ে আয়ের পাশাপাশি বেড়েছে জমির পরিমাণও। গত সাত বছরে তিনি ৯৫৬ শতাংশ জমি কিনেছেন। বর্তমানে তাঁর এক হাজার ২৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে।


গিয়াস উদ্দিন অভিযোগে তুলে ধরেন, মান্নান হলফনামায় দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেছেন। যেখানে তিনি ৫২ হাজার ৬৮০ টাকার অবশিষ্ট ব্যালেন্স প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকায় রক্ষিত অ্যাকাউন্ট নম্বর ২১৬৫১১২০০২০৪০ প্রকাশ করেননি। এ ছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আরেকটি অ্যাকাউন্টও প্রকাশ করেননি। রিটার্নিং অফিসার তদন্ত করলে বিভিন্ন ব্যাংকে মান্নানের অন্তত ১০টি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাবেন। কিন্তু আপত্তি উত্থাপন করা সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসার তদন্ত না করেই মান্নানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ সন্তানের জনক। মনোনয়নপত্রে ছেলে সাইদুল ইসলাম ও মেয়ে মালিহা ইসলাম মাইশার নাম উল্লেখ করলেও বাকি তিনজনের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর বড় ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীব এবং সাইদুল ইসলাম শাকিল কোটিপতি। তাদের ই-টিন নম্বর রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদেরও সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা। কিন্তু সেটি দেওয়া হয়নি। তাঁর স্ত্রীরও ই-টিন নম্বর রয়েছে এবং তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে।


সেসব সম্পত্তির হিসাবও হলফনামায় দেওয়া হয়নি। আপিল আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আজহারুল ইসলাম মান্নান তাঁর পেশা এবং ব্যবসার বিবরণ গোপন করেছেন। তিনি ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ফার্ম পরিচালনা করেন, যার তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন। অসৎ উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্রে ওই ফার্মের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেননি। কিন্তু যা নিয়ে বেকাদায় মান্নান আপিল শুনানী করা হবে আগামী (১৯ জানুয়ারী)। নানা কর্মকাণ্ডেসহ হলফনামায় এই তিন প্রার্থী তথ্য গোপন করেও বেকাদায় রয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত এদের মনে নানা ভয় বিরাজমান থাকবে বলে ও শোনা যাচ্ছে।



নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের মনোনীত প্রার্থী খেজুর গাছের মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি বর্তমানে নানাভাবে নানা বিতর্কে বেকায়দায় পরতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মনির হোসাইন কাসেমীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিষ্ঠিত করার অভিযোগ বারবারই উঠে আসছে। তা ছাড়া বিভিন্ন উঠান বৈঠক-আলোচনায় সভায় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের চিহ্নিতদের লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা ছাড়া শামীম ওসমানের একজন ছোট ভাই বর্তমানে তার অনেকটাই ঘনিষ্ঠ হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে বাদ-বিচার ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের আয়োজিত পোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে।


তাদের প্রতিষ্ঠ করার অভিযোগের আঙ্গুর কাসেমীর দিকে। তা ছাড়াও ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচার প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে। সেই বিবেচনায় ২১ জানুয়ারির পূর্বে প্রচার প্রচারণা করার সুযোগ নেই কোন প্রার্থীর। এর আগে প্রতীক প্রদর্শন করে বা গণসংযোগ করে ভোট চাইলে তা হবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা আচরণবিধি ভঙ্গ না করলেও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী আচরণবিধি ভাঙ্গার মহোৎসব শুরু করেছেন। নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনের কোথাও বিএনপির কোন প্রার্থী ভোট চেয়ে মিছিল, গণসংযোগ কিংবা ব্যানার ফেস্টুন সাটাননি।


কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী তার খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে একাধিক স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করেছেন। সেই সাথে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট চেয়ে মিছিল করতেও দেখা গেছে তার অনুসারীদের। যা নিয়ে সমালোচনা তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ধর্মীয় নেতা হয়েও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রথম সারিতে উঠে এসেছে তার কর্মকান্ড। অথচ তারাই নানান সময়ে ধর্মীয় বয়ানে উপদেশ দেন দেশের আইন শৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে। ইতিমধ্যে নানা বিষয় তুলে ধরে বেকদায় রয়েছে বিএনপির ধানের শীষ ও জোটের মনোনীত চার প্রার্থী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন