পাঁচটি আসনেই তাক লাগানো ফলাফল ছিল জামায়াত জোটের
ইফতি মাহমুদ
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
পাঁচটি আসনেই তাক লাগানো ফলাফল ছিল জামায়াত জোটের
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই জামায়াত ইসলামসহ ১১দলীয় জোটের সমন্বয়ে প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে পাঁচটি আসনের মধ্যে একটি আসনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী জয়ী হলেও বাকি চারটি আসনে পরাজিত হলেও ভোটের ফলাফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীতার এক প্রকার ভোটযুদ্ধ করে সামান্য ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেছেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের প্রথম দিকে জামায়াত ইসলামসহ ১১দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোটের ফলাফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের ধারণা বাহিরে গিয়ে ভোটের ফলাফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের শঙ্কায় ফেলে দেন। কারণ পাঁচটি আসনেই ১১দলীয় জোটের প্রার্থীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিভেচনা করেনি বিএনপির প্রার্থীরা। যেটার প্রতিফলন দেখেছেন ভোটের ফলাফল প্রকাশের প্রায় শেষ সময় পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীদের ভোটের ফলাফলের সাথে ১১দলীয় জোটের প্রার্থীদের ফলাফলের ব্যাপক প্রতিযোগীতা।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) রূপগঞ্জ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (দিপু) ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা বেশ দুর্বল নিলেও তিনি প্রায় লক্ষাধিক ভোটের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। যার কারণে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া জয় নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী থাকলেও ফলাফল প্রকাশের পর থেকে শঙ্কায় পড়ে যান। এছাড়াও বেশকয়েকটি কেন্দ্রে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়াকে পরাস্থ করে জয় ছিনিয়ে নেন জামায়াতে ইসলামির আনোয়ার হোসেন মোল্লা। এদিকে আনোয়ার হোসেন মোল্লা প্রায় লক্ষাধিক ভোটের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পরাজিত হন যেটা বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদেরও ধারণা ছিল না। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আড়াইহাজার আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াস মোল্লা পেয়েছেন ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদের চরম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠেছিলেন তার পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা। কিন্তু ভোটের ফলাফলে ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়ে আজাদের কাছে পরাজয় বরণ করেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) এই আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম (মান্নান) ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট।
এখানে ভোটের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। উক্ত আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী ১১দলীয় জোটের প্রার্থী জটিলতার গ্যাড়াকলে পড়ে প্রচারণার প্রায় ৭দিন প্রচারণার সময় পান। যেখানে অধিকাংশ প্রার্থীরা প্রায় ১০দিন প্রচারণা করে ফেলেছেন। কিন্তু ৭দিন প্রচারণায় থেকেই ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট অর্জন করে পুরো সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জের ভোটারসহ অন্যান্য প্রার্থীদের চমক দেখিয়ে দেন। কিন্তু বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সাথে প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পরাজয় বরণ করেন জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। নারায়ণগঞ্জ-৪ (নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ) এ আসনে ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরিক দলের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। এদিকে আল আমিন ১১দলীয় জোটের থেকে এনসিপির প্রার্থী হয়েও বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীসহ হেভীওয়েট তিনজন প্রার্থী শাহ আলম,মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,মোহাম্মদ আলীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেন আল আমিন। কারণ আল আমিনকে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীসহ হেভীওয়েট তিনজন প্রার্থী শাহ আলম,মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,মোহাম্মদ আলী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবেই বিভেচনা করেনি। কিন্তু ভোটের ফলাফলে উক্ত আসনে এমপি থাকা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,মোহাম্মদ আলীর মত প্রার্থীদের পিছনে ফেলে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) এ আসনে বিএনপির আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ১৯৬ ভোট। ভোটের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে আবুল কালাম তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য থাকলেও ভোটের ফলাফলে এ বি এম সিরাজুল মামুন তাঁক লাগিয়ে দেন। কেননা এবিএম সিরাজুল ইসলাম মামুনের ভোটের ফলাফল প্রায় জয়ে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাড় করাচ্ছিলেন তাকে কিন্তু ভোটের ফলাফলের শেষ লড়াইয়ে এসে পরাজিত হন।


