অল্পে বাঁচলেন মান্নান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জামায়াতে ইসলামীর ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়ার লড়াই ছিলো হাড্ডাহাড্ডি। ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া ভোটের মাঠে সপ্তাখানেক আগে নেমেও ভোটের হিসেবে তিনি অনেক এগিয়ে ছিলেন। ভোটের হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এগিয়ে গেলেও সোনারগাঁয়ে তিনি আর পারেননি। ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া সিদ্ধিরগঞ্জের ৬৭ টি কেন্দ্রে ৫১ হাজার ৪৪৫ ভোট। তার বিপরীতে আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৮৪৫ ভোট। ৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে সিদ্ধিরগঞ্জে ইকবালের কাছে পরাজয় হয়েছিলেন মান্নান। কিন্তু সোনারগাঁয়ের ১৪৩ টি কেন্দ্রে ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৮ ভোট এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৫৮ ভোট। যাকে ঘিরে সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জে মিলিয়ে ২১০টি কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থীর থেকে বিএনপির প্রার্থী ২২ হাজার ৮০ ভোটে বিজয়ী হন। যা অনেকটাই কম বললেই চলে। যাকে ঘিরে আলোচনা উঠছে অল্পের জন্য বাঁচলেন মান্নান। এ দিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বহু আলোচিত সমালোতি কর্মকান্ডের কর্ণধার আজহারুল ইসলাম মান্নান নির্বাচনে ভরাডুবির শঙ্কা অনেকটাই উঠে আসলে ও কোন রকম বেঁচে গিয়েছিলেন মান্নান।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এদিকে সাধারণ ভোটাররা যে সকল নেতাকর্মীসহ ভোটাররা মান্নানের পক্ষে ধানের শীষের ভোট প্রার্থনা করতে মাঠে যাদের দেখছেন তারা সার্বক্ষণিক বিগত সময়ে তাদের দেখেছেন অন্যান্য নেতাদের পক্ষে কাজ করতে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে। এছাড়াও মান্নান আওয়ামীলীগের পতনের পর খোদ নিজেকেই সোনারগাঁয়ের অঘোষিত এমপি ঘোষণা করে সোনারগাঁ জুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি,লুটপাট,মামলা বাণিজ্য, ভূমিদস্যুতা,নৌ পথে চাঁদাবাজিসহ ৫ই আগষ্টে বহু অপকর্মের শেল্টারদাতা হয়ে সোনারগাঁ এলাকায় ভোটারদের কাছে আতঙ্ক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছেন।
এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন লাভের পরও প্রথমেই বিএনপির সব লোক চাঁদাবাজি করে এবং ঢাকায় মির্জা আব্বাসের লোক চাঁদাবাজি করে এমন মন্তব্য,মেয়ের জামাতার মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি,দেশের সকল অধ্যাপকদের শয়তান বলে তার পুত্র সজীবের শ্লোগান,তার শেল্টারে তার সমর্থক শাহাদাতের জাহাজ কেঁটে বিক্রিসহ তাদের শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে তার সমর্থকদের অনেকে হকারদের তুলে নিয়ে মারধর এবং মান্নানের সমর্থক ধর্ষণের বিচার করে টাকার বিনিময়ে ধর্ষক বাঁচিয়ে দেয়া এসকল বির্তকিত ইতিহাসের প্রবর্তক হয়ে উঠেন মান্নান। এসকল কারণে ভোটের মাঠে মান্নানকে নিয়ে চরম ভাবে ভোটারদের তিক্ততা এবং অস্বস্তি দেখা দিয়েছে ভোটের মাঠে। তা ছাড়া দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মান্নানের প্রতিদ্বন্দ্বি থাকলে ও মান্নান ধরাশয়ী হয় জামায়াত প্রার্থীর থেকেই। কোন রকম সোনারগাঁওয়ের কিছূ নিরবিছিন্ন এলাকার ভোটেই মান্নানের জয়। কিন্তু তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত প্রার্থী ড.ইকবাল ভূঁইয়া নির্বাচনী মাঠে মান্নানের চোখে দেখিয়েছিলেন শর্ষেফুল।


