প্রথম নির্বাচনেই এনসিপির আলআমিনের বাজিমাত
রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রথম নির্বাচনেই এনসিপির আলআমিনের বাজিমাত
# সন্ত্রাস-চাদাঁবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবো : এমপি আল আমিন
# নীরবে বিপ্লব ঘটান এনসিপির শাপলাকলি
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি জোট এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মাঝে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের প্রার্থী মাঝে তুমুল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকতার্র তথ্যমতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে বিএনপি ৪টি আসনে বিজয়ী হয়েছেবিএনপির প্রার্থী। আর একটিতে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির একজন বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলী জোটের এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে এড. আব্দুল্লাহ আল আমিন শাপলা কলি মার্কা নিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বিএনপির সাবেক দুই এমপি সহ চার হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজীত করেন।
পরাজীত প্রার্থীদের মাঝে বিএনপি জোট থেকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মনির হোসেন কাসেমী ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেন, বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়া নেতা শিল্পপতি শাহ আলম ৩৯ হাজার ৩৮৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী হাতী মার্কায় ১১ হাজার ২৬৩ ভোট পেয়ে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ফুটবর মার্কা ৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়ে ৫ম স্থান করেন। তিনি ২০০১ সনে আওয়ামী লীগের গডফাদার খ্যাত সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে পরাজীত করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। কিন্তু এবারের আলোচিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটের চার জনকে পরাজীত করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছে এনসিপির জুলাই যোদ্ধা নতুনএড. আব্দুল্লাহ আল আমিন। যাকে নিয়ে এই আসনটিতে কোন অভিযোগ নেই। নিরবে ভোটের মাঠে বিপ্লব ঘটিয়ে ফতুল্লা এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক,চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হুঙ্কার দিয়েছেন। অথচ নির্বাচনের মাঠে অন্য প্রার্থীরা তাকে তেমন ভাবে শক্তিশালী প্রার্থী মনে করেন নাই। কিন্তু সব কিছুর আলোচনার বাইরে থেকে চমক দেখিয়েছে শাপলা কলির প্রার্থী। সচেতন মহলে আলোচনা হচ্ছে এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আল আমিন বিএনপি সংশ্লিষ্ট অন্য পরাজীত প্রার্থীদের ছেলে বয়সী হবেন। অনেকের ছেলে সন্তানের ছোট হবেন তিনি।
এদিকে এবারের নির্বাচন কঠিন হবে আগেই বলে ছিলেন সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত হয়। কিন্তু সেই আসনটি বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির কাসেমী উদ্ধার করতে নেমে নিজেদের জোট দলের নেতাদের কাড়াকাড়িতে পরাজীত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। কেননা এখানে বিএনপির সাবেক দুই এমপি প্রার্থী না হলে কিংবা ২০০৮ সনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে প্রয়াত কবরীর নিটক পরাজীত শিল্পপতি শাহ আলম এখানে প্রার্থী না হলে বিএনপি জোটের পরাজীত প্রার্থী মনির কাসেমী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কেননা তারা নির্বাচনের মাঠে থেকে ধানের শীষের ভোট নিয়ে কাড়াকাড়ি করায় ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আল আমিনের জয় পেতে সহজ হয়। যা নিয়ে বিএনপির নেতারা সমালোচনা করছে। আবার কেউ কেউ বলছে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় জোটের প্রার্থী দেয়ায় বিএনপি এই আসনটি হারিয়েছে। তবে সব শেষে এখানে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য আল আমিন চমক দেখিয়ে তরুনদের আইডল হিসেবে আলোচনা রয়েছেন। যাকে ক্লিন ইমেঝের ব্যক্তি হিসেবে চিনেন ফতুল্লা তরুন প্রজন্ম। কেননা তিনি জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যারা এমপি প্রার্থী হয়ে পরাজীত হয়েছেন তাদেরকে ব্যক্তি হিসেবে চিনলেও কারো মার্কা চিনতেন না ভোটাররা। কিন্তু শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন তারা। বিশেষ করে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর হাতী মার্কা , মনির হোসাইন কাসেমী (বিএনপি জোট/জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী খেজুর গাছ মার্কা , শিল্পপতি শাহ আলমের হরিণ মার্কা ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত ছিল না। তাদের পরজায়ের পিছনে এটি একটি অন্যতম কারন হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লার প্রার্থী জামায়াতের ভোট ব্যাংকের সাথে তরুণ প্রজন্ম নারীদের ভোটে নিরবে বিপ্লব ঘটিয়ে এমপি হয়েছেন আল আমিন।
সদ্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আল আমিন ফলাফল পেয়ে তিনি জানান, আমি মা বোনদের ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ফতুল্লায় কোন সন্ত্রাস,চাদাঁবাজির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। এমনকি কিশোরগ্যাং আমরা প্রতিরোধ করবো। আমি সবাইকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ নির্বাচনি এলাকাকে সুন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। একই সাথে সকলের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাবো।


