সব আসনেই শক্তভাবে লড়েছে জামায়াত
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত চারজন প্রার্থী। একটিতে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির নিকট প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা উঠলে ও এবার তার পুরোই উল্টো পথে গিয়েছে। ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভোটারদের পাত্তা পায়নি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের সাংসদীয় ৫টি আসনে ভোটে মাঠে বিএনপির সঙ্গে কঠিন লড়েছেন জামায়াত। নারায়ণগঞ্জ-১, নারায়ণগঞ্জ-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয় হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের। এদিকে এমন হাড্ডাহাড্ডিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী থেকে ২৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী।
এদিকে ভোটাররা দীর্ঘ দেড় যুগ পর অবাধে তাদের ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন। নারায়ণগঞ্জের সব মানুষের মুখে মুখে ভোট ছাড়া আর কিছুই যেন ছিলো না। তা ছাড়া কোথাও কোথাও সহিংসতারও আশঙ্কা এবার ছিলো না ভোটারদের। তাদের আশা বহু বছর পর এবার নিজেদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্ন্নে প্রয়োগ করা সেই হিসেবেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের আয়োজনে সুষ্ঠ নির্বাচন করতে সক্ষম হয়। তা ছাড়া এবার সুষ্ঠ নির্বাচনে ও ভোট কাস্ট কম থাকায় বহু স্থানে বিএনপির ঘাঁটি থাকা স্বত্ত্বে ও কেন্দ্রে রেজাল্ট ফেইল এসেছে।
তা ছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রথম কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে ছিলেন জামায়াত। কিছুদিন আগে ও যাদের অবস্থান রাজপথে ছিলো তলানিতে এরা নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ খেলা দেখানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নারায়ণগঞ্জ সর্বদা বিএনপি-আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে আখ্যা পেয়ে থাকলে ও এবার থেকে জামায়াতের বিশাল বড় শক্তিশালী ঘাঁটি যে নারায়ণগঞ্জে রয়ে গেছে তা উপস্থাপন হলো।
সূত্র বলছে, দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকারের নির্যাতন নিপীড়নে জিম্মি থেকে ভোটাররা ভোট প্রদান না করতে পারলে ও এবার সুষ্ঠভাবে ভোট প্রদান করছেন। এদিকে গত (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৭ থেকে ভোট প্রয়োগ শুরু হলে প্রথমত ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা কম লক্ষ্য করা গেলে ও বেলা ভাড়ার সাথে সাথে দীর্ঘ বছর আটকে থাকা সকল আবেগ ঢেলে কোন প্রকারের চাপ প্রয়োগ ছাড়াই যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট প্রয়োগ করেছেন ভোটাররা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা কিন্তু জামায়াত প্রার্থীদের কারণে সেই জয় অনেকটাই হার্ড কাঁপানো জয় হয়েছে।
বাকি একটি আসনে জিতেছে জামায়াত ইসলামীর জোটসঙ্গী এনসিপির প্রার্থী। গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টায় পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। ফলাফলা দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দীপু পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস মোল্লা পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৪ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ১০৩ ভোট।
জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৩ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদরের আংশিক) আসনে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ'র মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির আবুল কালাম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল ইসলাম মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। কেউ থেকে কেউ কম ছিলেন না। এদিকে জরিপে উঠে এসেছে জামায়াত এর ১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলন যুক্ত থাকলে নারায়ণগঞ্জে আরো কয়েকটি আসন বিএনপি হারিয়ে জামায়াতে আসতে তেন আশঙ্কা উঠে আসছে।
তা ছাড়া বিএনপিতে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে যে শঙ্কা উঠে আসছিলো তা পুরোই বিফলে গিয়েছে। এবার ভোটাররা বিএনপির দলীয় প্রতীক এবং জামায়াত এর গ্রহণযোগ্যতা দেখেই ভোট দিয়েছেন। এবার জামায়াত-বিএনপির অল্প ব্যবধানের হার-বিজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হলো নির্বাচন।


