বিএনপি নেতাদের দুর্গে এনসিপির থাবা
যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিএনপি নেতাদের দুর্গে এনসিপির থাবা
ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বা চায়ের আড্ডায় এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। বিগত দিনে বিএনপি যতবার এই আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ততবারই বিপুল ভোটে বিজয়ী লাভ করেছেন। যাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্য দলগুলো ফতুল্লায় দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। ফতুল্লার অলিগলিতে বিএনপির প্রভাবশালী প্রভাবশালী নেতারা রয়েছে যারা নানাভাবে জনগণের কাছে অনেকটাই পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান এই আসনকে জিম্মি করে রাখলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচারমুক্ত হলে পালিয়ে যায় ওসমানরা তখনই এই ফতুল্লা দখলে নেয় বিএনপি।
দখলেই নিয়েই সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবা
সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ ফতুল্লা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী (খেজুর গাছ), রিপাবলিকাল পার্টির মোহাম্মদ আলী (হাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মুহাম্মদ শাহ-আলম (হরিণ) এই সকল প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন প্রার্থীরা। কিন্তু শেষ পর্যায়ে হেভিওয়েটদের রেসারেসিতে এনসিপির বিপুল ভোটে বিজয় ঘটে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ১৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ফতুল্লা ইউনিয়নের ৪৫টি কেন্দ্র, এনায়েতনগর ইউনিয়নে ২৪টি কেন্দ্র, বক্তাবলী ১১ টি কেন্দ্র, কাশীপুর ইউনিয়নে ২৭টি কেন্দ্র, কুত্পুুরে ৫৫ টি কেন্দ্র, গোগনগরে ৭টি কেন্দ্র, আলীরটেকে ৬টি কেন্দ্র। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭৭ কেন্দ্রে বিএনপির জোট প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ৮০ হাজার ৬ শত ১৯ ভোট। একই সাথে এসনিপির আব্দুল্লাহ আল-আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। যেখানে প্রায় ১৩ হাজারের মতো ভোটের ব্যবধানে শাপলা কলি ফতুল্লায় বিএনপিকে টক্কর দিয়েছেন। যাকে ঘিরে গত ৫ আগষ্টের পরবর্তী নানা বিতর্কিত ঘটনায় ধানের শীষের পাশে ছিলো না সাধারণ জনগণ।
এদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল বারী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ বিএনপির বড় বড় হেভিওয়েট বহু নেতাকর্মী ফতুল্লায় থাকলে বিএনপির ভোট ব্যাংকের এমন করুণ দশায় সংকটে যাচ্ছে বিএনপি। যাকে ঘিরে বুঝতে বাকি নেই যে বর্তমানে ফতুল্লাবাসী নির্যাতন নিপীড়নে গত ১৭ বছর আস্থা রাখা বিএনপির উপর থেকে হাত গুছিয়ে নিয়েছেন। যার প্রভাব ফতুল্লায় আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড় ধাক্কা আনতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। নানা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ফতুল্লায় এবার চাঁদাবাজ,সন্ত্রাস,মাদক সেক্টর বন্ধ করতে মাঠে নামতে পারে এনসিপি-জামায়াত এর বড় একটি অংশ। যাকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত এর সংঘর্ষের আশঙ্কা পাওয়া যাচ্ছে ফতুল্লায়।


